ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪ অাপডেট : ১২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:৩৩

প্রিন্ট

সিনেমা হল ভেঙ্গে গড়ে উঠছে শপিং মল

দিনাজপুর প্রতিনিধি

এক সময় দিনাজপুরের সিনেমা হলগুলোর টিকিট কাউন্টারগুলোতে দর্শনার্থীদের ছিল উপচে পড়া ভীড়। কে আগে টিকিট সংগ্রহ করে ভেতরে প্রবেশ করবে ছিল তার প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা নিয়ে কখনো বা ঘটেছে সংঘর্ষ। আর বিশেষ ছুটির দিনগুলো যেমন ঈদ, পূজাসহ সকল সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সিনেমা হলগুলোর টিকিট চলে যেত কালোবাজারিদের হাতে। এসব কথা এখন গল্প হয়ে আছে দিনাজপুরের সিনেমা হলগুলোতে। 

প্রতিনিয়তই লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে একের পর এক বন্ধ হয়ে গেছে সিনেমা হল। এতে করে বেকার হয়ে গেছে এ বিভাগের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক-কর্মচারীরা। সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার পর অনেক কর্মচারী-শ্রমিকদের রিকশা-ভ্যান চালাতে দেখা যাচ্ছে। সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে মার্কেট, শপিং মল ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের গোডাউন।

দিনাজপুর সদর উপজেলাসহ জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ১৯টি সিনেমা হলের মধ্যে তিনটি খোলা রয়েছে। আর বাকি ১৬টি হল লোকসানে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ থাকা ১৬টির মধ্যে অধিকাংশই সদর উপজেলা শহরের।

দিনাজপুর সদরের বস্তান সিনেমা হল ভেঙে গড়ে উঠেছে চাল বাজার, লিলি সিনেমা হল ভেঙে গড়ে উঠেছে বাটা বাজার মার্কেট, ফকিরপাড়া জুয়েল সিনেমা হলের স্থলে আবাসিক বাড়ি, বিডিআর সিনেমা হলে ভেঙে গড়ে উঠেছে বিজিবি অডিটোরিয়াম কমিউনিটি সেন্টার, সদ্য বন্ধ হয়ে গেছে চৌরঙ্গী সিনেমা হল, একমাত্র চালু রয়েছে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মডার্ন সিনেমা হল। এই সিনেমা হলের অবস্থাও ভাল না। যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই হলটি।  

বীরগঞ্জ উপজেলায় দুটি সিনেমা হলের মধ্যে একটি বন্ধ ও উল্লাস নামে একটি চালু রয়েছে। কাহারোল উপজেলার একটি মাত্র সিনেমা হল উষা, তাও এখন বন্ধ রয়েছে। বোচাগঞ্জ উপজেলায় একমাত্র হল আশা বন্ধ রয়েছে। খানসামা উপজেলায় চামেলি নামে হলটি বন্ধ রয়েছে। বিরামপুরেও একটি সিনেমা হল রয়েছে যা বন্ধ। ফুলবাড়ি উপজেলার তিনটির মধ্যে শুধুমাত্র উর্বশী খোলা রয়েছে। হাকিমপুর উপজেলায় একমাত্র সিনেমা হল হিরামতি এখন ব্যবসায়ীদের গোডাউন ঘর ও পার্বতীপুর উপজেলায় আশা টকিজ ও মধুমতি সিনেমা হল রয়েছে বন্ধ। 

দিনাজপুর চৌরঙ্গী সিনেমা হলের মালিক শাহনেওয়াজ রাজু বলেন, এখন আর সিনেমা হলের ব্যবসা নেই। দর্শক আর আগের মত সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে আসে না। ফলে আমরা আমাদের কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিতে পারি না। আমাদের চৌরঙ্গী সিনেমা হলটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। 

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, ৮০ দশক থেকে ৯০ দশক পর্যন্ত সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা ছিল এক উৎসবের মত। প্রতিটি সিনেমা হলের শোতে দেখা যেত দর্শকে পরিপূর্ণ। কিন্তু এখন আর আগের মত সিনেমা হলের ব্যবসা নেই। সরকারকে আমরা বিষয়টি অবগত করেছি। আমাদের দেশের দর্শকদের বিনোদনের জন্য সিনেমা হলগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।  

এসএম/জেডএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত