ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪ অাপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:০৭

প্রিন্ট

এখন আর চোখে মেলে না ধানের গোলা

কাঞ্চন কুমার, কুষ্টিয়া

প্রবাদ রয়েছে ‘গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ’। গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ এখনো থাকলেও নেই গোলা ভরা ধান। কুষ্টিয়ার প্রায় প্রতিটি কৃষক পরিবারে রয়েছে নূণ্যতম একটি, দুইটি করে গরু। তবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ধানের গোলা। 

বাড়িতে বাঁশ দিয়ে প্রথমে গোল আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বর্গ বা আয়তক্ষেত্র আকারে গোলা তৈরি করা হতো। এঁটেল মাটির কাদা তৈরি করে ভিতরে ও বাইরে আস্তরণ লাগিয়ে দিত। উপরে টিন বা খড়ের চালা দিয়ে তৈরি করা হতো গোলা। গোলায় প্রবেশপথ রাখা হতো বেশ ওপরে, যেন চোর/ডাকাত চুরি করতে না পারে। সেই সঙ্গে ইঁদুরও ধানের গোলায় ঢুকে ক্ষয়ক্ষতি করতে পারতো না। ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে। গোলার মাথায় থাকত বাঁশ ও খড়ের তৈরি বা টিনের তৈরি ছাউনি। গোলায় শুকানো ভেজা ধানের চাল হতো শক্ত। কৃষকের ধান রাখার জন্য এটিই ছিলো আদর্শ পন্থা। 

গ্রাম বাংলার সেই ধানের গোলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ক্রমেই অপরিচিত হয়ে উঠছে। বর্তমানে চোখে মেলা দায় এই গোলার।  তারপরেও কেউ কেউ পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য বাড়ির উঠানে রেখে দিয়েছে এই গোলা। 

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের ঝুঁটিয়াডাঙ্গা এলাকার কৃষক মারুফ হোসেন। কৃষক পরিবারে তার জন্ম। তার বাড়িতে এখনো রয়েছে ৫টি বড় বড় ধানের গোলা। 

কৃষক মারুফ হোসেন জানান, এই গোলাগুলো আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য বহন করে। আমার দাদার আমল থেকে দেখে এসেছি গোলাগুলো। মূলত ধান রাখা আর ঐতিহ্য রক্ষার জন্যই গোলাগুলো এখনো রেখে দিয়েছি। 

তিনি জানান, এক একটি গোলা তৈরি করতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ কয়ে থাকে। আর এক একটি ধানের গোলায় ৪০-৪৫ মন করে ধান রাখা যায়। ধানের পাশাপাশি ভুট্টা ও দানা জাতীয় ফসল রাখা যায়। এতে ফসল রাখা অনেকটাই নিরাপদ। এছাড়া গোলার নিচে যে ফাকা স্থান থাকে সেখানে মাচা করে ছাগল, হাস, মুরগি রাখা যায়। 

বৃদ্ধ কৃষক আবুল হোসেন জানান, আগেকার সময় আমরা মূলত গোলাতেই ধান রাখতাম। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গোলা থাকতো। তবে এখন আর দেখা যায় না। নাতিদের কাছে বললে তারা বিশ্বাসও করতে চাই না। 

আরেকজন কৃষক এলাহী মণ্ডল জানান, এখন আর গোলার কদর নেই। ড্রাম, বস্তায় রাখি ধান। যে ধান পায় তা তো বিক্রি করে আর খেতেই ফুরিয়ে যায়। গোলায় রাখবো কি? আর মূল কথা হলো এখন গোলার প্রচলন নেই। তাই অযত্ন আর অবহেলায় বাড়িতে রেখে দিয়েছি। একদিন এভাবেই শেষ হয়ে যাবে। 

শুধু কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় নয়। জেলাব্যাপী যেখানে গোলার রাজত্ব ছিলো। গোলার উপরে ধান রাখা নির্ভর ছিলো। সেটা আর খুঁজে যাওয়া যায় না। ডিজিটাল হচ্ছে সব কিছুই এর মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে গোলার মতো ঐতিহ্য। 

জেডএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত