ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ অাপডেট : ৪৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪৪

প্রিন্ট

৯/১১ যেভাবে বদলে দিয়েছে বিশ্বকে

৯/১১ যেভাবে বদলে দিয়েছে বিশ্বকে
অনলাইন ডেস্ক

সারা বিশ্বকে বদলে দেয়ার নাম ৯/১১ । এই ঐতিহাসিক হামলার পর ১৭ বছর কেটে গেছে। এ দিনে ছিনতাই করা বিমান নিয়ে আমেরিকার বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র টুইন টাওয়ারে হামলা চালানো হয়। হামলায় মাটির সঙ্গে মিশে যায় স্থাপনা দুটি। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা স্থাপনা পেন্টাগনের ওপর হামলা করে আরেকটি ছিনতাই হওয়া যাত্রীবাহী বিমান। হোয়াইট হাউসের দিকে উড়ে যাওয়া আরেকটি বিমান মাঝ আকাশে ভূপাতিত হয় যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে। বিশ্বের ইতিহাসে এমন সমন্বিত আর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা এর আগে আর কখনো দেখা যায়নি।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া এই সন্ত্রাসী হামলা বদলে দেয় যুক্তরাষ্ট্রকে। এর জের ধরে বদলে গেছে বিশ্ব আর বৈশ্বিক রাজনীতি। এ ঘটনার পর নতুন বিভাজন শুরু হয়েছে বিশ্ব রাজনীতিতে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ বলেছিলেন, ‘হয় তুমি আমার সঙ্গে, নয় তুমি আমার বিপক্ষে। মাঝামাঝি কিছু হতে পারে না।’

১. আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি চলছে

৯/১১ হামলার সবচেয়ে বড় ঘটনা হচ্ছে সন্ত্রাস বিরোধী লড়াইয়ের নামে মার্কিন বাহিনীর আফগানিস্তানে হামলা। দেশটির তালেবান সরকার সন্দেহভাজন হামলাকারী ওসামা বিন লাদেনকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে অস্বীকার করায় ওই বছরের অক্টোবর থেকে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরো বেশ কিছু দেশ এবং তারা রাজধানী কাবুল দখল করে নেয়। এরপর দুই দশক কেটে গেছে। এখনও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াই শেষ হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের। তাই আফগানিস্তান ছেড়ে আসেনি মার্কিন সেনারাও। দেশটির সরকারকে সহায়তা ও পুনর্গঠনের নাম করে সেখানে বহাল তবিয়তে অবস্থান করছে মার্কিন সেনারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর আফগানিস্তানে তাদের সেনা সংখ্যা আরো বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

২. যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম বিদ্বেষ বেড়েছে

পেও রিসার্চ রিপোর্টে দেখা যায়, ৯/১১ হামলার ১৫ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম বিরোধী বিদ্বেষ ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। অন্য এক জরিপ বলছে, দেশটিতে বসবাসকারী ৭৫ ভাগ মুসলিম ধর্মাবলম্বী মনে করেন, তারা উল্লেখযোগ্য বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। জরিপে অংশ নেয়া ৫০ শতাংশ মনে করছেন, গত ১০ বছর ধরে দেশটিতে মুসলিমদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে গেছে।

৩. বেড়েছে নির্বাসন

৯/১১ হামলার পর বুশ প্রশাসন নির্বাসন এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। এবিসি নিউজের মতে, গত ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধীদের নির্বাসনের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। বেড়েছে অপরাধীদের বিতাড়িত করার সংখ্যাও।

৪. হোমল্যান্ডে সিক্যুরিটি ডিপার্টমেন্টের প্রতিষ্ঠা

৯/১১ হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশির কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি ২০০১ সালের নভেম্বরের আগে দেশটিতে ছিলো না ‘ট্রান্সপোর্টেশন সিক্যুরিটি এডমিনিস্ট্রেশন’(টিএসএ) নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব। ওই হামলার পরই নিরাপত্তার জন্য গঠন করা হয় এটিএসএ এবং প্রায় ১৭ বছর ধরে এটি কাজ করে যাচ্ছে।

বিমানের পাইলটদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অনেক জোরদার করা হয়েছে। ফলে বিমানযাত্রা এখন আগের চেয়ে অনেক নিরাপদ। তবে এই নিরাপত্তার জোরদারের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বর্ণবাদী ঘটনাও বেড়েছে।

৫. নতুন শব্দ যুক্ত

ওই হামলার পর ইংরেজি অভিধানে অনেক নতুন শব্দ যুক্ত হয়েছে। যেমন ওয়্যার অব টেরর, দ্যা এক্সিস অব ইভেল, হোমল্যান্ড সিক্যুরিটি, টেরর এলার্ট নেভার ফরগেট ইত্যাদি।

৬. বেড়েছে নজরদারি

৯/১১ হামলার মাত্র ৪৫ দিন পরেই মার্কিন সরকার প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট (দেশপ্রেম আইন) আইনের সীমানা প্রসারিত করে। এর আওতায় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের ফোন ও ইমেইলে আড়ি পাততে শুরু করে। জাতীয় নিরাপত্তার নামে আমেরিকানদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করে সরকার। যদিও এদের মধ্যে খুব কমই সন্ত্রাসবাদী তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এক জরিপে দেখা গেছে, যাদের ওপর নজদারি করা হয়েছিল তাদের মধ্যে মাত্র ১ ভাগই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

সূত্র: দ্য ইনসাইডার

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত