ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫ অাপডেট : ৪৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:০৯

প্রিন্ট

রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থায় ঢুকছে ট্যাক্সিক্যাবও

রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থায় ঢুকছে ট্যাক্সিক্যাবও
জার্নাল ডেস্ক

শুল্ক সুবিধায় গাড়ি আমদানি আর ‘মনমতো’ ভাড়া নির্ধারণ। তারপরও রাজধানীতে চালু রাখা যাচ্ছে না ট্যাক্সিক্যাব সেবা। এসব ক্যাব এখন ইন্টারনেটভিত্তিক রাইড শেয়ারিং অ্যাপসের মাধ্যমে চলবে। তমা ট্যাক্সিক্যাব কোম্পানি ২২ ফেব্রুয়ারি থেকেই নিজস্ব অ্যাপস চালু করতে যাচ্ছে। এর ফলে গতানুগতিক ট্যাক্সিক্যাব সেবা প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে। ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকায় উবার, পাঠাও, মুভ, স্যামসহ নানা নামে মোটরসাইকেল ও গাড়ি রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। যে কেউ চাইলেই তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি যেকোনো সময়ের জন্য ভাড়ায় চালাতে পারেন।

২০১৪ সালে ঢাকায় ৫০০ ট্যাক্সিক্যাব নামানোর জন্য তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে দায়িত্ব দেয় সরকার। তমা ২৫০টি ট্যাক্সিক্যাব নামায়। কিন্তু আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ১৫০টি গাড়ি নামাতে পারে। সব মিলিয়ে রাজধানীতে মাত্র ৪০০ ট্যাক্সিক্যাব চলাচল করছে। সংখ্যায় কম হওয়ায় রাস্তায় ট্যাক্সিক্যাবের দেখাই পাওয়া যায় না। শুরু থেকেই বেশি ভাড়া নির্ধারণের অভিযোগ যাত্রীদের। এরপরও পরিচালনাকারী দুই কোম্পানির দাবি, তাদের লোকসান হচ্ছে। 

ট্যাক্সিক্যাবে প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ৮৫ টাকা। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ৩৪ টাকা। প্রতি দুই মিনিট ওয়েটিংয়ের জন্য সাড়ে ৮ টাকা দিতে হয়। বিপরীতে উবারের কয়েক ধরনের সেবা আছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ভাড়ার হার হচ্ছে প্রতি কিলোমিটারে ২১ টাকা। ন্যূনতম ভাড়া ৫০ টাকা। গাড়িতে থাকা অবস্থায় প্রতি মিনিটের চার্জ তিন টাকা। মাঝে মাঝে ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়।

তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে ঢাকায় উবার যে হারে ভাড়া নিচ্ছে, তমাও একই ভাড়া নেবে। এখন কেউ চাইলে ফোন করে ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারবেন, আবার অ্যাপের মাধ্যমেও ভাড়া করা যাবে। অর্থাৎ ট্যাক্সিক্যাব বন্ধ হচ্ছে না।

বেশি ভাড়া নির্ধারণ করা সত্ত্বেও লোকসান হলে উবারের মতো কম ভাড়ায় কীভাবে পোষাবে, এমন প্রশ্ন করা হলে আতাউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রাইড শেয়ারিং সুবিধা গ্রহণ করে ব্যক্তিমালিকের কাছ থেকেও গাড়ি নিয়ে তাঁরা হাজারখানেক গাড়ির একটা পুল তৈরি করবেন। তখন লাভ না হলেও অন্তত লোকসান গুনতে হবে না।

বিআরটিএর সূত্র জানায়, তমা কোম্পানি গত বছরের জুলাই মাসে তাদের কোম্পানির ট্যাক্সিক্যাবগুলো অ্যাপসের মাধ্যমে ভাড়ায় চালানোর অনুমতি চেয়ে বিআরটিএতে আবেদন করে। উবারসহ অন্য আরও কোম্পানি এমন আবেদন করেছে। কিন্তু এখনো কাউকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ট্যাক্সিক্যাব হিসেবে নিবন্ধন নেওয়া গাড়ি আমদানিতে ৮২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ছাড় পেয়েছে। বাড়তি ভাড়ার কারণে শুল্ক সুবিধা দিয়েও এই সেবা চালু রাখা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা, ২০১৭–এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই নীতিমালা অনুসারে, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন মোটরসাইকেল, মোটরকার ও মাইক্রোবাস অ্যাপসের মাধ্যমে ভাড়ায় চালানো যাবে বিআরটিএ থেকে সনদ নিয়ে। কিন্তু এখনো এই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন হয়নি।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় চলাচল করা ব্যক্তিগত গাড়ির ভাড়া ঠিক করবে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। তবে তা ‘ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস গাইডলাইন, ২০১০’–এ নির্ধারিত ভাড়ার বেশি হতে পারবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মাহবুব ই রব্বানী বলেন, তমা কোম্পানির তো এমনিতেই ভাড়ায় ট্যাক্সি চালানোর অনুমোদন আছে। নতুন করে আর অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। আগে ফোনে ট্যাক্সি ভাড়া করা যেত, এখন অ্যাপসেও ভাড়া করা যাবে।

/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত