ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫ অাপডেট : ৫ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০১ মে ২০১৮, ২১:৫৮

প্রিন্ট

মেট্রোরেলে আলিঙ্গন করায় প্রেমিক-যুগলকে গণধোলাই!

মেট্রোরেলে আলিঙ্গন করায় প্রেমিক-যুগলকে গণধোলাই!
জার্নাল ডেস্ক

কলকাতার মেট্রোরেলে এক তরুণ প্রেমিক-যুগলকে আলিঙ্গন করার জন্য বেধড়ক পিটিয়েছেন তাদেরই কজন সহযাত্রী। যাদের অধিকাংশই মাঝবয়সী অথবা প্রৌঢ়।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, কলকাতার মত কসমোপলিটান একটি শহরে আলিঙ্গনের জন্য প্রেমিক প্রেমিকাকে গণধোলাই দেওয়া হতে পারে -এ দৃশ্য তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তবে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই সময়ের সিসিটিভির ফুটেজে কোথাও বা মারধরের ছবি ধরা পড়েনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সোমবার রাতের দিকে একটি ট্রেনে কিছু প্রবীণ যাত্রী ওই প্রেমিক যুগলের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ধরে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন।

প্রথম দিকে ওই তরুণ ঠাণ্ডা গলাতেই কথা বলছিলেন, প্রবীণ সহযাত্রীদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। কিছুটা হাল্কা রসিকতাও করেন তিনি। একসময় মেট্রোরেলটি দমদম স্টেশনে থামলে, তাদের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারধর শুরু হয়। ছেলেটিকে বাঁচানোর জন্য ওই তরুণী তাকে আড়াল করে দাঁড়ায়, কিন্তু মার খায় ওই মেয়েটিও।

ওই ট্রেনেই অফিস থেকে ফিরছিলেন আনন্দবাজার পত্রিকার ডিজিটাল বিভাগের সাংবাদিক উজ্জ্বল চক্রবর্তী। তিনি বিবিসিকে বলেন, স্টেশনে ট্রেনটা থামতেই যেখানে যাত্রীদের বসার জায়গাগুলো আছে, সেখানে ঠেসে ধরে ছেলেটিকে পেটানো শুরু হয়।

মেয়েটি তার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, যাতে মারগুলো তার গায়েই পড়ে। কিন্তু ফাঁকফোকর দিয়ে মারা হতে থাকে, মেয়েটিও মার খায়। পরে অন্য কামরা থেকে আসা কিছু নারী-পুরুষ ওই যুগলকে আড়াল করে সিঁড়ির দিকে নিয়ে যান।

বিষয়টি মঙ্গলবার সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পরে সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে
টুইট করেছেন তসলিমা নাসরিন থেকে শুরু করে অনেক সাধারণ নারী পুরুষ।

তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, এক তরুণ প্রেমিক যুগলকে আলিঙ্গন করতে দেখে কিছু হতাশ, বয়স্ক হেরে যাওয়া ব্যক্তি রেগে গিয়ে তাদের পিটিয়েছেন। ঘৃণার দৃশ্য ছাড় পেতে পারে, কিন্তু প্রেমের দৃশ্যকে অশ্লীল বলা হচ্ছে।

ফিনিক্স অফ ভিয়েনা নামে আরেক টুইট-ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, এরপরে কোনও বাঙালী যদি সহনশীলতা নিয়ে লেকচার দিতে আসে, তখন এই প্রতিবেদনটি তাকে দেখাব।

সামাজিক মাধ্যমে যেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে ঘটনাটি নিয়ে, তেমনই নিয়মিত মেট্রোর যাত্রীরাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন।

মেট্রোয় চেপে নিয়মিত অফিস যান দেবযানী মুখার্জী। তিনি বলেন, অনেক কম বয়সীকেই দেখি বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তা কখনই দৃষ্টিকটু লাগেনি বা অস্বাভাবিক বলে মনে হয়নি। এটাই তো বয়সের ধর্ম। প্রেম বা ভালোবাসা তো সব যুগেই হয়ে এসেছে, নানা ধরণে। এটা অস্বাভাবিক কেন লাগবে। আর এর জন্য কাউকে মারধর করা হতে পারে, এটা ভাবাই যাচ্ছে না।

সুমন সেন নামের আরেকজন টুইটারে বলছেন: ধিক্কার তোমায় কলকাতা.. ধিক কলকাতা মেট্রো। কিছু অশিক্ষিত মানুষই কী এখন ঠিক করে দেবে যে কীভাবে মেট্রো রেলে বসতে বা দাঁড়াতে হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত