ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ১৪:৪৭

প্রিন্ট

কূটনৈতিক মেনুতে সিঙ্গাপুরে কি খেলেন ট্রাম্প-কিম?

কূটনৈতিক মেনুতে সিঙ্গাপুরে কি খেলেন ট্রাম্প-কিম?
অনলাইন ডেস্ক

সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকের পর ট্রাম্প-কিমের দুপুরের খাবারের মেনু ছিল যথেষ্টই জটিল। মধু আর লেবুর রস দিয়ে কাঁচা আমের 'কেরাবু' আর অক্টোপাস, শসার ভেতর পুর দেয়া কোরীয় খাবার 'ওইসেয়ন', এশীয় সবজি দিয়ে কড মাছের পদ 'দেয়গু জরিম'।

এমন বহু শব্দের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনদিন পরিচয় হয়নি, ফলে স্বাভাবিকভাবেই টুইটারে তার অনুসারীদের অবস্থা হচ্ছিল মূহুর্মূহু আক্কেলগুড়ুম হবার মত। তবে, বিশ্লেষকেরা বলছেন, মেনু জুড়ে বিস্ময়ের সঙ্গে সঙ্গে কূটনীতিটাও ছিল।

খাবার নিয়ে অনেক কোরীয় জনগণও প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ মেন্যুতে এমন অনেক কিছুই দেখা গেছে, যা কোরীয়ানদের রোজকার খাদ্যতালিকায় থাকে না।

যেমন, শসার মধ্যে গরুর মাংস, ডিম আর গাজর ভরে দিয়ে বানানো খাবার 'ওইসেয়ন'। এটি ছিল কোরিয়ায় ত্রয়োদশ থেকে প্রায় উনিশ শতকের আগ পর্যন্ত শাসন করা জোসেয়ন সাম্রাজ্যের সময়কার প্রচলিত খাবার। এই খাবারটি সাধারণত কোরিয় রাজপরিবারের মেনুতে থাকে। ফলে খাবারটি অত প্রচলিত নয় এখন। কেউ কেউ বলছেন, কোরিয়ায় জনপ্রিয় খাবার 'ওইসোবাগি'র সঙ্গে হয়তো নাম বিভ্রাটের কারণে এমনটি ঘটেছে।

তবে, সিদ্ধ মাংস, মাছ আর সবজি দিয়ে বানানো মেনুর অন্য আইটেম 'দেয়গু জরিম' কোরিয়াতে বেশ প্রচলিত খাবার। কিন্তু যখন দেখা গেল যে পিয়ংইয়ং ঠাণ্ডা নুডলস মেনুতে নেই, তখন বোঝা যায় যে সিঙ্গাপুর কিম জং উনকে স্বস্তি দিতে চেষ্টার কমতি রাখেনি।

আর জ্ঞানী ও সতর্ক কূটনীতিকের মতো আয়োজকেরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও বঞ্চিত করেনি। এমনভাবে মেন্যু ঠিক করা হয়েছিল যে, খেতে খেতে যে কেউ চাইলেই ভাবতে পারে, আশির দশকের নিউ ইয়র্কের কোন রেস্তরাঁয় বসে খাচ্ছেন।

স্টার্টার হিসেবে খাবারের শুরুতেই পরিবেশন করা হয়, অ্যাভোকাডো সালাদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী চিংড়ি ককটেইল। এরপর মেইন কোর্সে ছিল সেদ্ধ আলু আর ব্রকলি দিয়ে বিফ শর্ট রিব কনফিট। আর ডেজার্ট বা মিষ্টান্ন হিসেবে ছিল 'হাগেন-দাস'।

যারা ভাবছেন, বিফ শর্ট রিব ট্রাম্পের জন্য বানানো হয়েছে কিনা, তারা ভুল ভাবছেন, কারণ এটা পরিবেশন করা হয়েছে রেড ওয়াইন সস সহযোগে। আর ট্রাম্প তো কোন ধরনেরই মদ্যপান করেন না।

তবে, মেনুতে থাকা ইয়াংঝৌ ফ্রায়েড রাইস হয়ত নিঃশব্দে চীনকে ধন্যবাদ জানানোর একটি চেষ্টা। এ ধরনের ফ্রায়েড রাইস মার্কিন মুলুকের চীনা রেস্তরাঁতে পরিবেশন হয়ে থাকে। এটি দিয়ে হয়ত বোঝানো হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এক ধরণের সমঝোতায় পৌঁছাতে হয়েছে।

মেনুর অন্য পদ কাঁচা আমের 'কেরাবু' মূলত মালয় খাবার। সিঙ্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী চীনা, ভারতীয় আর মালয় ধরণের খাবারের সংমিশ্রণ ছিল মেনুতে। বিশেষত দেশটির চীনা খাবারের বৈশিষ্ট্যমত টক মিষ্টির ব্যবহার ছিল কয়েকটি পদে।

এই খাবারের মেনুগুলোর মূল বার্তাটি ছিল হয়তো এই বৈঠকের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকেই স্মরণ করা। তাই যুক্তরাষ্ট্র আর পশ্চিমা দেশগুলোর খাবারের পাশপাশি কোরিয়া, চীন আর সিঙ্গাপুরের নিজস্ব স্বাদের খাবারও ছিল।

এখানে জাপান আর রাশিয়া কিছুটা পেছনে পড়ে রইল। কিন্তু কে না জানে, কূটনীতির মূল ব্যপারটাই তো যারা মূল খেলোয়াড় তাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত