ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১১:০০

প্রিন্ট

দায় স্বীকারে প্রস্তুত সৌদি

জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারা যান খাশোগি

জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারা যান খাশোগি
অনলাইন ডেস্ক

প্রখ্যাত সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। সেই স্বীকারোক্তিতে সৌদি সরকার বলবে, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারা যান ওই সাংবাদিক। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে মার্কিন রাজনৈতিক পত্রিকা ‘দ্য হিল।’

তবে খাশোগি হত্যার কথা স্বীকার করলেও তারা এ ঘটনার কতটা দায় নেবে তা স্পষ্ট নয়।

এমন এক সময়ে এই কথা জানা গেল যখন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদি বাদশাহর কোনো সম্পর্ক নেই বলে বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একটি সূত্র বলছে, এ সংক্রান্ত সৌদি প্রতিবেদনটি এভাবে শেষ করা হতে পারে যাতে সৌদি সরকারের ওপর কোনো দায় না পরে। পুরো দায় আনা হবে হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির ওপর।

অন্য একটি সূত্র বলছে, স্বীকারোক্তিমূলক ওই প্রতিবেদনটি এখনও প্রস্তুতাধীন রয়েছে। এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বণ করা হচ্ছে কারণ অনেক কিছুই পরিবর্তন হতে পারে।

সোমবার দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যস সিএনএন জানায়, খাশোগির মৃত্যুকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলবে, সৌদি সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নন, এমন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারা গেছেন ওই সাংবাদিক। একই কথা বলছে, নিউ ইয়র্ক টাইমসও।

অন্য দিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ এই কথা স্বীকার করবেন যে, তাদের এক আনাড়ি কর্মকর্তার ভুলে মারা গেছেন খাশোগি।

এদিকে সোমবার গভীর রাতে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে যৌথ অভিযান চালায় তুর্কি ও সৌদি পুলিশ। গত ২ অক্টোবর এই সৌদি কনস্যুলেট থেকেই জামাল খাশোগি নিখোঁজ হন।

খাশোগিকে সৌদি কনস্যুলেটের অভ্যন্তরে রিয়াদের নির্দেশেই খুন করা হয়েছে বলে প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল তুরস্ক। নিজেদের দাবির স্বপক্ষে একাধিক প্রমাণ থাকারও কথাও জানায় তারা। তবে তুরস্কের এই দাবি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছিল সৌদি।

আঙ্কারা বলেছে, খাশোগি কনস্যুলেটে যাবার দু ঘণ্টা পরেই সেখান থেকে একটি কালো ভ্যান বেরিয়ে যায়। তুর্কি কর্মকর্তাদের দাবি, ওই ভ্যনে করেই সরানো হয়েছিল খাশোগির মরদেহ।

আঙ্কারা আরো দাবি করেছিল, খাশোগিকে হত্যার জন্য ওই একই দিনে ১৫ সৌদি নাগরিক তুরস্কে সফরে আসেন এবং ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে যান। পরদিনই অর্থাৎ ৩ অক্টোবর তারা তুরস্ক ত্যাগ করেন।

এদিকে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার পেছনে ‘খুনি দুর্বৃত্তদের’ (রাফ কিলার) হাত রয়েছে। এ সময় তিনি সৌদি বাদশাহর সাফাই গেয়ে আরো বলেন, খাশোগির সঙ্গে কি হয়েছে সে বিষয়ে কিছুই জানেন না সৌদি নেতারা। বাদশাহ সালমানের সঙ্গে ফোনালাপের পর এ কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের ভার্জিনিয়া প্রতিনিধি খাশোগি প্রায়ই সৌদি বাদশাহর সমালোচনা করতেন।

সূত্র: দ্য হিল

এমএ/সূত্র:

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত