ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:০৪

প্রিন্ট

‘মেয়েকে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করেছি, কিছুই করার ছিল না’

‘মেয়েকে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করেছি, কিছুই করার ছিল না’
ফাইল ছবি
জার্নাল ডেস্ক

সহপাঠীদের সাথে খেলার আর হোমওয়ার্কের পরিবর্তে কম্বোডিয়ার বড় অংকের কিশোরীই যাচ্ছেন নাইটক্লাব এবং কারাওকে বারগুলিতে কাজ করতে, যা মূলত পতিতাবৃত্তি। অনেকেই তাদের নিজের পরিবারের চাপেই যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।

দারিদ্রের কষাঘাতে পীড়িত কিছু পরিবার এমনও আছেন, যেখানে মা তার মেয়ে সন্তানের কুমারীত্বকে শেষ অবলম্বন হিসাবে বিক্রি করেছেন।

তেমনই একজন মা সালিম টেপ। জীবিকার তাগিদে নিজের ১৫ বছর মেয়েকে মাত্র ৫০০ ডলারে বিক্রি করে দিয়েছিলেন এই কম্বোডিয়ান নারী। আর যিনি মেয়েটিকে কিনেছিলেন তিনি ৩০ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী।

সালিম টেপ বলেন, নিজের মেয়েকে আমি বিক্রি করেছি। তাকে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করিয়েছি। আমার আর কিছুই করার ছিল না।

রাশিয়া টুডে’র (আরটি) একটি তথ্যচিত্রে প্রকাশিত এমনই কিছু গল্পের একটি চরিত্র এই কিশোরী। তবে মায়ের এ সিদ্ধান্তের কারণে অপরিমেয় কষ্ট পেলেও কখনও অবাধ্যতা করেননি তিনি। তিনি বুঝতে পেরেছেন কোন অবস্থানে গিয়ে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তার জন্মদাত্রী।

নিজের মুখে এই কিশোরী বললেন, আমার মা-ই আমাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। আমি এখানে আসতে চাইনি। এমন জীবন আমি কল্পনাও করিনি। তবে আমি আমার মাকে এতো কিছুর পরেও ভালোবাসি। সত্যি বলতে তাকে আমি ঘৃণাও করি আবার একইসঙ্গে ভালোবাসি।

এই কিশোরীর উপার্জনেই চলে তার সংসার। তাই চাইলেও মা আর পরিবারের দিকে তাকিয়ে এই পেশা থেকে ফিরতে পারেন না তিনি। আর বৃদ্ধ বাবা থাকেন তাদের থেকে দূরে, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে।

এ পেশায় থাকা অন্য কিশোরীদের মতো তিনিও সন্ধ্যা হলে সেজে গুজে নির্দিষ্ট নাইটক্লাব আর কারাওকে গুলোয় যান। সেখানে আসা অতিথিদের কাছে গিয়ে প্রথমে চা/পানীয় পানের কথা জিজ্ঞাসা করেন। তা পরিবেশনের পর তারা সরাসরি জানতে চান, অতিথিদের কেউ অন্তরঙ্গ হতে চান কিনা। যারা এই প্রস্তাবে রাজী থাকেন, তাদের উপরে রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এই যৌনকর্মীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে, তাদের পারিশ্রমিক দিয়ে বিদায় নেন। আর যারা প্রস্তাবে রাজী নন, তারাও ১০ থেকে ২০ ডলার ‘টিপস’ হিসেবে দেন এই কিশোরীদের।

এই কিশোরী দিনে ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তির সঙ্গে মিলিত হোন। তিনি জানান, এটা ছাড়া তার কোনও পথ খোলা নেই, কেননা বিভিন্ন মানুষের কাছে তাদের বাড়িভাড়া, খাবার, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বাবদ অনেক ঋণ হয়েছে। তাদেরকে সময়মত পরিশোধ না করতে পারলে পাওনাদারেরা বাড়ি এসে অপমান করে যায়। তাদেরকে মানুষ মনে করে না তারা। তাই কষ্ট হলেও বাধ্য হয়ে এমনটা করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তার মায়ের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে নিজের অতীতেরও সংশ্রব আছে বলেও জানান তিনি। একটা সময় তার মাকেও টাকার জন্য অন্যের বিছানায় যেতে হয়েছে। তবে চাইলেও মেয়ের ভাগ্যকে নিজের থেকে আলাদা করতে পারেননি সালিম টেপ।

ঘটনার শিকার হওয়া এই কিশোরীও চান একটি স্বাভাবিক জীবন। তবে তা পাবার সম্ভবনা কতটুকু, নিজেও জানেন না তিনি।

প্রসঙ্গত, কুমারীত্বের মূল্য কম্বোডিয়ায় অনেক উঁচু। কেননা এখানে কুসংষ্কার প্রচলিত আছে যে কুমারী মেয়েদের সঙ্গে মিলিত হলে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু লাভ করা যায়। আর একারণেই মানুষ অনেক চড়া মূল্যেও এটি পেতে প্রস্তুত থাকেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত