ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ অাপডেট : ৪৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১১:০৮

প্রিন্ট

এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র গৃহীত

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (ফাইল ছবি)
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জানান, ‘পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। আজই (সোমবার) সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে পড়েন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এরপর দীর্ঘ ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বিদেশে যান বিচারপতি সিনহা। সেই ছুটি শেষে গত শনিবার বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি শপথ নেন এস কে সিনহা। বিধি মোতাবেক ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পদত্যাগ করার ফলে মেয়াদকালের ৮১ দিন আগেই তার কার্যকাল শেষ হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সুরেন্দ্র কুমার সিনহাই প্রথম প্রধান বিচারপতি, যিনি পদত্যাগ করলেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে আর কোনো প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে প্রকাশ্যে এত আলোচনা-সমালোচনাও হয়নি।

বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর পরই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগের কথা জানানো হয় সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে।

সর্বোচ্চ আদালত জানায়, ওই সব অভিযোগের ‘গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা’ না দিতে পারায় সহকর্মীরা বিচারপতি সিনহার সঙ্গে এজলাসে বসতে নারাজ।

গত অক্টোবরে বিচারপতি সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বভার দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

আর বিচারপতি সিনহা পদত্যাগ করায় রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে প্রধান বিচারপতি তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে ক্ষেত্রমত অন্য কোনো ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করিবেন।’

সে হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতের কর্তৃত্ব আবদুল ওয়াহহাব মিঞার হাতেই থাকছে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/এসএস/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত