ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:২২

প্রিন্ট

গুমের অভিযোগে ১৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক

গুমের অভিযোগে যশোর কোতয়ালি থানার সাত কর্মকর্তাসহ ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক নারী। মঙ্গলবার শহরতলীর শঙকরপুরের তহিদুল ইসলামের স্ত্রী হিরা খাতুন মামলাটি করেন। যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমানের আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন দিতে আদেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন, যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের এসআই এইচএম শহিদুল ইসলাম, এসআই হাসানুর রহমান, এসআই আমির হোসেন, এএসআই রাজন গাজী, এএসআই সেলিম মুন্সি, এএসআই সেলিম আহম্মেদ, এএসআই বিপ্লব হোসেন, কনস্টেবল আরিফুজ্জামান, কনস্টেবল মো: রমজান, কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান, কনস্টেবল আবু বক্কার, কনস্টেবল মাহমুদুর রহমান, কনস্টেবল রাজিবুল ইসলাম, কনস্টেবল মিজান শেখ ও কনস্টেবল টোকন হোসেন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত ৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তার একমাত্র ছেলে সাইদ ও তার বন্ধু শাওন যশোর শহরের পৌর পার্কে বেড়াতে যায়। দুপুরে এক যুবক তাকে মোবাইল করে জানায়- সাইদ ও শাওনকে পৌর পার্ক থেকে আটক করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে তিনি পৌর পার্কে যান। সেখানে তিনি দেখেন পুলিশ সাইদ ও শাওনকে ধরে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি দৌড়ে  গিয়ে পুলিশের কাছে তার ছেলেকে আটকের কারণ জানতে চান। কিন্তু পুলিশ জবাব না দিয়ে থানায় যোগাযোগ করতে বলে। পরে থানায় গেলেও তাকে সেখানে ঢুকতে দেয়া হয়নি। 

সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই পুলিশ সদস্য তাকে ডেকে ছেলেকে ছাড়ানোর জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় পুলিশ তার ছেলেকে ছাড়েনি। পরে সাক্ষীরা বাদীকে বোঝায় টাকা দেয়ার দরকার নেই। আদালতে চালান দিলে সেখান থেকে জামিন নেয়া যাবে। কিন্তু ৭ এপ্রিল পত্রিকার খবরে তিনি জানতে পারেন সাঈদ ও শাওন পালিয়েছে।  এ খবর পেয়ে তিনি থানায় যান। তবে পুলিশ তাকে কোনো সহায়তা করেনি। এরপর তিনি ছেলের সন্ধানে অনেকবার পুলিশের কাছে গেছেন। বারবার পুলিশ তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। পরে আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে পুলিশ এ ঘটনায় কোর্টে একটা মামলা করেছে। ওই মামলায় তার ছেলে ও শাওন পালিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এরপর বাদী আসামিদের কাছে গিয়ে ছেলের সন্ধান চাইলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। পরে কোন উপায় না পেয়ে ৩০ মে সংবাদ সম্মেলন করেন বাদী। তাতেও সন্ধান মেলেনি।  

বাদীর ধারণা ঘুষের দুই লাখ টাকা না দেয়ায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছেলে ও ছেলের বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও তাদের লাশ গুম করে ফেলতে পারে। এজন্য ন্যায় বিচারের আশায় আদালতে মামলা করেছেন বাদী। আদালত পিটিশনটি গ্রহণ করে এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

কোতয়ালি থানার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, সাঈদ ও শাওনের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য মিথ্যা মামলা করেছে।

জেডএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত