ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ অাপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:২৪

প্রিন্ট

দুদককে দেয়া চিঠি সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে: হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে তদন্ত ‘আটকাতে’ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আপিল বিভাগ প্রশাসনের চিঠি  সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। ওই চিঠি কোনোভাবেই সুপ্রিম কোর্টের মতামত নয় বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন।

এসকে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকার সময় এই চিঠিটি দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে পদত্যাগী বিচারপতি সিনহা এই চিঠি নিয়েও সমালোচনায় পড়েছিলেন। 

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বন্ধ করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দেয়া চিঠির বৈধতা বিষয়ে ৭টি পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করেছেন হাইকোর্ট। পর্যবেক্ষণে তারা বলেন, ওই চিঠি সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা  ক্ষুণ্ন করেছে।

তবে সাত বছরেও দুদকের ওই অনুসন্ধান শেষ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে রায়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে, যাতে তাদের মর্যাদাহানী না হয় বা অকারণ হয়রানির শিকার হতে না হয়।

গত মার্চে দুদকে সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনোরকম ব্যবস্থা গ্রহণ ‘সমীচীন হবে না’।

বিষয়টি নজরে আনা হলে অক্টোবরে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দেওয়া ওই চিঠি কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছিল রুলে।  এ বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার সাতটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে রুল নিষ্পত্তি করে দিয়েছে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ছাড়া আর কেউ দায়মুক্তি পেতে পারেন না। সুপ্রিম কোর্টের ওই চিঠি সাধারন জনগণের মধ্যে বার্তা দিয়েছে যে, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তার কর্মকাণ্ড থেকে দায়মুক্তি পাবেন।  

উল্লেখ্য, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই সম্পদের হিসাব চেয়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে নোটিশ দেয় দুদক।  ওই নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে তিনি ওই বছরের ২৫ জুলাই হাইকোর্টে রিট আবেদন করলেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়ে যায়। পরে ওই বছরের ২৫ অক্টোবর দুদক আবার সম্পদের হিসাব দাখিল করতে নোটিশ দিলেও বিষয়টি থেমে ছিল।
 
গত জানুয়ারিতে আবার তাকে নোটিশ দিয়ে আগের সম্পদের হিসাব স্পষ্ট করতে দুদকে হাজির হতে বলা হয়। পাশাপাশি তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে ২ মার্চ সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি দেয়। এ নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। গত ১০ জুলাই হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন অবসরপ্রাপ্ত ওই বিচারপতি।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত