ঢাকা, শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫ অাপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৩৬

প্রিন্ট

উচ্চ আদালতে যাচ্ছে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক

শেষ পর্যন্ত যদি সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন মুক্তিযোদ্ধারা। এ বিষয়ে রিট আবেদনের জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সাথে পৃথকভাবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীও রিট আবেদন করবে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির মহাসচিব আনোয়ার হোসেন পাহাড়ি গণমাধ্যমকে জানান, এক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সব কোটা প্রথা বাতিল করেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো আপত্তি নেই। শেষ পর্যন্ত এটা বাতিল করা হলে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

এদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একেবারে কোটা পদ্ধতি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত সংবিধানে বিদ্যমান প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। 

সংবিধানের ১৯-এর (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। 

একইভাবে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা অংশের ২৯-এর (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিককে সমান সুযোগ দিতে হবে। 

অনুচ্ছেদ (২)-এ বলা হয়েছে, কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।

এ ব্যাপারে ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানে সব নাগরিকের সমতা নিশ্চিতের জন্য বলা হয়েছে। তবে কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত সংবিধানে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। 

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীরা। এর প্রেক্ষিতে গত বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সারাদেশে ছাত্ররা যেহেতু আর কোটা ব্যবস্থা চায় না সেহেতু এখন থেকে বাংলাদেশে আর কোটা ব্যবস্থা থাকবে না। মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হবে।

জেডএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত