ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫ অাপডেট : ৫ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮, ১৮:৩৩

প্রিন্ট

ডেসটিনি কেন বিলুপ্ত হবে না: হাইকোর্ট

ডেসটিনি কেন বিলুপ্ত হবে না: হাইকোর্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রাহকদের প্রতারিত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের মুখে থাকা ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড অবলুপ্ত বা অবসায়ন করতে নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস অ্যান্ড ফার্মস এবং ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানে বিলম্ব মার্জনা ও বার্ষিক সাধারণ সভা করার অনুমতি চেয়ে ডেসটিনির করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম আর হাসান নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একক বেঞ্চ মঙ্গলবার রুল দেয়।

আদালতে ডেসটিনির পক্ষে শুনানি করেন এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান খান। রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস অ্যান্ড ফার্মসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম বদরুদ্দোজা।

বদরুদ্দোজা বলেন, ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর রেজিস্টার্ড হওয়া ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের গত ছয় বছর ধরে (২০১২ থেকে ২০১৭) বার্ষিক সাধারণ সভা হয় না।

কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর ৮১(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি এক বছর বার্ষিক সাধারণ সভা করতে না পারলে আদালতে বিলম্ব মার্জনার আবেদন করে পরবর্তী বার্ষিক সাধারণ সভা করার অনুমতি নিতে হয়। সে অনুযায়ী বিলম্ব মার্জনা চেয়ে ওই কোম্পানির পরিচালক, সাবেক সেনা প্রধান হারুন-অর-রশীদ ও কোম্পানির পাঁচ অংশীদার হাই কোর্টে আবেদন করেন। সে আবেদনের শুনানি নিয়েই আদালত কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছে বলে জানান বদরুদ্দোজা।

বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে বিলম্ব মার্জনা চেয়ে করা আবেদনটি কেন অবলুপ্ত বা অবসায়নের আবেদন হিসেবে বিবেচনা করা হবে না এবং ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডকে অবলুপ্ত বা অবসায়ন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

হারুন-অর-রশীদের সঙ্গে আবেদনকারী অন্য পাঁচজন হলেন কাজী মোহাম্মদ আশরাফুল হক, মো. সাইফুল আলম রতন, সিরাজুম মুনীর, মো. জাকির হোসেন ও বিপ্লব বিকাশ শীল।

বদরুদ্দোজা বলেন, 'কিন্তু যে ছয়জন আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে ডেসটিনি গ্রুপের পরিচালক ও সাবেক সেনা প্রধান হারুন-অর-রশীদ শর্ত সাপেক্ষে জামিনপ্রাপ্ত। জামিনের শর্ত ছিল মামলার তদন্ত পর্যন্ত তিনি এ কোম্পানির কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখবেন না। আবেদনে তদন্ত শেষ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলা নাই। ফলে তিনি আদৌ আবেদন করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।'

এই আইনজীবী বলেন, এছাড়া তাদের এজিএমের আবেদনেই উল্লেখ আছে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছয় বছর ধরে কোম্পানির হিসাব নিরীক্ষা (অডিট) হয় না। এই প্রতিবেদন না থাকলে বার্ষিক সাধারণ সভা কীভাবে হবে? আবেদনেই তারা উল্লেখ করেছে দুদকের মামলায় কোম্পানির সমস্ত সম্পদ জব্দকৃত। এমনকি কোম্পানির ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জব্দকৃত সে সম্পদ তত্ত্বাবধানে সরকার তত্ত্বাবধায়কও নিয়োগ করেছে। মূলত কোম্পানি হিসেবে এর কোনো কর্মকাণ্ড নেই।

বদরুদ্দোজা বলেন, সাত পরিচালকের মধ্যে ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে কোম্পানির পরিচালক রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন কারাগারে আছেন। চারজন পলাতক। আর একজন তো শর্তসাপেক্ষে জামিনে। সব মিলিয়ে দুদকের মামলায় ছয় বছর ধরে কোম্পানিটির সমস্ত কার্যক্রমই প্রায় বন্ধ। এখন পরিচালক ছাড়া এজিএম কীভাবে হবে?

আগামী ৪ জুলাই আদালতে পুনরায় মামলাটি উঠবে বলে জানান তিনি।

জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত