ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫ অাপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ১১:০৩

প্রিন্ট

জামিন পেলেও এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা

জামিন পেলেও এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা
ছবি: বিবিসি বাংলা
জার্নাল ডেস্ক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছে আদালত। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বুধবার সকালে এই আদেশ দিয়েছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার কারণে তিনি কারাগারে আটক আছেন।

এর আগে সকালে আদেশ দেয়ার সময় নির্ধারিত থাকলেও, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল আরও শুনানি করতে চেয়ে আবেদন করেন। পরে সেই শুনানির জন্য মঙ্গলবার দুপুর ১২টা সময় নির্ধারণ করা হয়।

মঙ্গলবার শুনানি শেষ হলে বুধবার সকালে আদালত এই আদেশ দিলেন।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখা হলেও এখনই কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না। কারণ তাকে কুমিল্লার নাশকতার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এর আগে ৮ই ও ৯ই মে দুর্নীতি দমন কমিশন, রাষ্ট্রপক্ষ ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। ৯ই মে আপিল বিভাগ আদেশের জন্য মঙ্গলবার তারিখ নির্ধারণ করেন।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা এই মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। গত ৮ই ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়ার সাজার রায় হয়। এরপর থেকেই তিনি ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

ওই রায়ের পর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া,। সেই আবেদনের শুনানি করে গত ১২ই মার্চ হাইকোর্ট তাকে চারমাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

কিন্তু ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন। আবেদনের শুনানির পর ১৪ই মার্চ আপিল বিভাগ জামিন স্থগিত করেন। পাশাপাশি দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেন।

সেই সঙ্গে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

খালেদা জিয়া ছাড়াও এই মামলায় তার ছেলে এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ অন্য ৫ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে নিম্ন আদালত। তাদেরকে ২ কোটিরও বেশি অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।

প্রায় ১০ বছর আগে, ২০০৮ সালের জুলাই মাসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্বে থাকার সময় এই মামলাটি করেছিল বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন।

খালেদা জিয়াসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই ঢাকার রমনা থানায় মামলাটি করেছিলো দুর্নীতি দমন কমিশন।

সেখানে অভিযোগ করা হয়, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে পাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দেয়া হলেও, তা এতিম বা ট্রাস্টের কাজে ব্যয় করা হয়নি। বরং সেই টাকা নিজেদের হিসাবে জমা রাখার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তদন্ত শেষে ২০০৯ সালে অভিযোগ পত্র দেয়া হলেও ২০১৪ সালের মার্চে মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়।

এই মামলায় অপর আসামীরা হলেন, তার ছেলে তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে এবং সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান পলাতক রয়েছেন। মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ রয়েছেন কারাগারে।

প্রায় ১০ বছর ধরে ঢাকার বকশি বাজারের বিশেষ জজ আদালতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম চলেছে। এরমধ্যে ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, এবং ১৬ দিন ধরে যুক্তিতর্ক চলেছে। আদালতে হাজির না হওয়ায় কয়েকবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, এই ঘটনায় খালেদা জিয়া জড়িত নন, এবং সেই টাকাও আত্মসাৎ করা হয়নি, কারণ এসব টাকা এখনো ব্যাংকের হিসাবেই জমা রয়েছে।

আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে করা সবগুলো মামলাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা, যার কোনোটির আইনি ভিত্তি নেই। এই মামলাটিও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনটিকে বানোয়াট বলেও তিনি বর্ণনা করেন।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আদালতে তারা অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত