ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ২০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৫৪

প্রিন্ট

২১ আগস্ট মামলার রায় নিয়ে যা বললেন বিএনপির আইনজীবীরা

রায় নিয়ে যা বললেন বিএনপির আইনজীবীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় করা হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেয়া হয়েছে। জীবিত ৪৯ আসামির বাকিরা বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন।

রায়ের পর আজ বুধবার দেশের বেশকিছু জায়গায় বোমাহামলাসহ ভাঙচুরের খবরও পাওয়া গেছে। এদিকে এ রায়ের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, এ মামলায় ১৯জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আমি পূর্বেই বলেছি, এ মামলায় বিএনপি নেতা তারেক রহমান, আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হারিস চৌধুরীসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এক মাত্র মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তি ব্যতীত অন্যকোনো সাক্ষী নেই। যার ওপর নির্ভর করে এসব বিএনপি নেতাকর্মীদের সাজা দেয়া যায়।

‘তিনি এখনো বিশ্বাস করেন দেশের প্রচলিত আইনে এই মামলায় বিএনপি নেতাদের যে দণ্ড দেয়া হয়েছে তা আইনের পরিপন্থি। আগামী দিনে ইতিহাস একদিন বলবে, এই সাজা আইনের পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফলপ্রসুত।’

বক্তব্যে বিএনপিপন্থী আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আশাপ্রকাশ করেন,‘গ্রেনেড হামলার ঘটনার মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাইকোর্টে খালাস পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘বিচারিক আদালতের দেয়া আজকের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানসহ সব আসামিকে হাইকোর্টে আপিলের মাধ্যমে খালাস করানো হবে।’

এ মামলায় তারেক রহমানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) মুফতি হান্নান ও তারেক রহমানের নাম প্রাথমিকভাবে (সাক্ষ্যে) বলেননি। ৪১০ দিন তাকে (মুফতি হান্নান) রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের আইনে আছে একটি মামলায় ১৫ দিনের বেশি কাউকে রিমান্ডে নেওয়া যাবে না। কিন্তু মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে রেখে অমানসিক নির্যাতন করে তারেক রহমানের নাম বলানো হয়েছে। যদিও তারেক রহমানের কোনো সম্পৃক্ততা এখানে ছিল না।’

আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, এই মামলায় সাক্ষী ছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা)। মুফতি হান্নান ও প্রধানমন্ত্রী সাক্ষীতে তারেকের নাম বললে বুঝতাম তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিন্তু একদিকে তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) তারেক রহমানের নাম বলেননি (সাক্ষ্যে) অন্যদিকে তিনি সাক্ষ্য দিতে আদালতেও যাননি। তাই এই মামলায় তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়ার কিছু নেই। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, মুফতি হান্নানের ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে বিএনপির অনেককে সাজা দেওয়া হয়েছে।’

‘লুৎফুজ্জামান বাবর, পিন্টুকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সেই ১৬৪ ধারার জবানবন্দি আদালতে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সাজা হতে পারে না। তাই এই সাজা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।’

আসামিপক্ষের অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘মুফতি হান্নান রিমান্ডে যে জবানবন্দি দিয়েছেন সে জবানবন্দি তিনি প্রত্যাহার করে বলেছেন, তারেক রহমান বা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার কোনদিন দেখাই হয়নি। অথচ আজকে অন্যায়ভাবে, বেআইনিভাবে তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির যেসব নেতাদের আসামি করা হয়েছে তারা কেউ এ হামলায় জড়িত নয়। আবদুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে কোনও সাক্ষী এসে এ মামলার সাক্ষ্য দেয় নাই। তারা সেখানে বসে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করেছে, তার কোনো সাক্ষী নাই। এ মামলায় আমরা ন্যায় বিচার পাইনি।’

‘তারেক রহমান যখন বাংলাদেশে ফিরে আসবেন তখন আমরা অবশ্যই এ মামলায় আপিল করব’ বলেও জানান তিনি।

পালাতক আসামি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফ-উল- আলম বলেন, ‘আমার ধারণা এই আসামিকে সাজা দেয়ার মতো কিছু ছিল না। রায় না দেখে মন্তব্য করা যাবে না যে তাকে কি কারণে জড়ানো হয়েছে।’

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত