ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ২ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:৪৭

প্রিন্ট

‘তারেককে ফেরাতে কষ্ট হবে না’

‘তারেককে ফেরাতে কষ্ট হবে না’
জার্নাল ডেস্ক

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কষ্ট হবে না বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

বহুল আলোচিত এই মামলায় রায়ের পরদিন বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেলের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইন কর্মকর্তা।

২০০৪ সালে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া ১৯ জনকে যাবজ্জীবন ও বাকি ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এই রায়ে খুশি হলেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি আওয়ামী লীগ। কারণ, তারা তারেক রহমানের ফাঁসির আদেশ প্রত্যাশা করছিল।

অ্যাটর্নি জেনারেলও মনে করেন এই মামলায় তারেক রহমানের ফাঁসির আদেশ হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো নিজে খুন করেননি, কিন্তু খুন করিয়েছেন বলে তাকেও মৃত্যুদণ্ড পেতে হয়েছে। তাই আমারও মনে হয়, তারেকের অন্যান্যদের মতো ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। আজ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসেছে, রাষ্ট্রীয় সমর্থন, প্ররোচনা ও অর্থায়নে এই হামলা হয়েছে।’

‘এ মামলায় তারেক রহমানকে যদি নাটের গুরু বলা হয়ে থাকে, তবে সেটা রায় পর্যালোচনা করে দেখব। রায় পড়ে যদি দেখি তারও মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল, তবে তার দণ্ড বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিল করব। এর সবটাই নির্ভর করবে রায়টি পড়ার পর।’

তারেক রহমান ১০ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এর আগেও দুর্নীতির দুই মামলায় তার মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তারেককে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড হলে বিদেশে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) দেওয়া হয়। তবে তারেক রহমানের তো যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া সমর্থন করে না। তাই তাকে ফিরিয়ে আনতে কষ্ট হবে না।’

মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এলে দ্রুত শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে তাদের আদালত থেকে বিনা খরচে রায়ের কপি দেওয়া হয়। আর তারা যদি আপিল ফাইল করে, তবে সেটাও ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসবে।’

‘সেক্ষেত্রে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব শুনানির জন্য পদক্ষেপ নেব। তবে এটাতে পেপারবুক তৈরি করার বিষয় রয়েছে, সেগুলো আদালতের বিষয়। মামলার আপিল শুনানিতে আমাদের পদক্ষেপগুলো আমরা নেব।’

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ে একজন পাকিস্তানিও সাজা পেয়েছেন জানিয়ে মাহবুবে আলম বলেন, ‘এখানে আমরা অনুমান করছি, বাংলাদেশের ক্ষতি করার জন্য, বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য পাকিস্তান এখনও নিবৃত্ত হয়নি।’

‘দেশটি এরই মধ্যে সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়েছে। আমরা সেক্ষেত্রে জেএমবিসহ জঙ্গিদের দমন করতে সফল হয়েছি। সাজাপ্রাপ্ত ওই পাকিস্তানি নাগরিককে নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত