ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ অাপডেট : ২০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:৫০

প্রিন্ট

জরুরি অবস্থায় টাকা আদায়: আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ

জরুরি অবস্থায় টাকা আদায়: আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে মঈন ইউ-ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে টাকা আদায় করেছিল তা ফেরত দিতে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে এ স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। যা পুনর্বিবেচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

প্রায় আড়াই বছর আগে ১১টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ৬১৫ কোটি ফেরত দিতে নির্দেশনা দিয়েছিল হাইকোর্ট।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন সাত বিচারকের আপিল বিভাগ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে এই আদেশ দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে এদিন আদালতে ছিলেন ব্যারিস্টার এম. আমিরুল ইসলাম। আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ।

ব্যবসায়ীদের পক্ষের অন্যতম আইনজীবী খায়রুল আলম চৌধুরী পরে সাংবাদিকদের বলেন,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জরুরি অবস্থার সময় আদায় করা ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংক হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ আপিল বিভাগ তা খারিজ করে রায় দেয়।

কিন্তু দীর্ঘদিনেও ওই টাকা ফেরত না দেয়ায় সংশ্লিষ্ট ১১টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে

আপিল বিভাগ আজ রিভিউ আবেদনটি শুনানির জন্য নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত টাকা দেয়ার আদেশ স্থগিত করেছে।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা নেয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার।

জরুরি অবস্থা জারি করে দুর্নীতি দমন অভিযানের কথা বলে গ্রেপ্তার করা হয় দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের। ওই সময়ই ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়।

২০১০ সালে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, তত্ত্বাবধায়ক আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ২৩২ কোটি টাকা, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা রয়েছে।

এরপর বিভিন্ন সময়ে ১১টি প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালতের রায় তাদের পক্ষে যায়। পরে আপিল বিভাগও হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে সায় দেয়।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জরুরি অবস্থার সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিল এবং তখন তা দেখেও নীরব ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের অনেকেই জরুরি অবস্থার সময়ে ওই অর্থ আদায়ের সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়টি গতি পায়নি।

যে যা ফেরত পাবে:

# ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড- ১৮৯ কোটি টাকা

# বসুন্ধরা পেপার মিল লিমিটেড- ১৫ কোটি টাকা

# মেঘনা সিমেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রিজ- ৫২ কোটি টাকা

# এস আলম স্টিল লিমিটেড- ৬০ কোটি টাকা

# ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড- ৩৫ কোটি টাকা

# ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড- ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা

# বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড-৭ কোটি ১০ লাখ টাকা

# ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড- ৯০ লাখ টাকা

# ইউনিক সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড- ৭০ লাখ টাকা

# ইউনিক গ্রুপের মালিক নূর আলী- ৬৫ লাখ টাকা

# দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড ও বারাউরা টি কোম্পানি লিমিটেড- ২৩৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত