ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৩৯

প্রিন্ট

মেলায় নতুন বই এসেছে ৩৯০টি

মেলায় নতুন বই এসেছে ৩৯০টি
ঢাবি প্রতিনিধি

আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২১তম দিনে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা থেকে নতুন বই এসেছে ৩৯০টি। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ এসেছে ৭৪টি, উপন্যাস ৩৬টি, প্রবন্ধ ২৩টি, কবিতা ১১৫টি, গবেষণা ১৪টি, ছড়ার বই ৯টি, শিশুসাহিত্য ২টি, জীবনী ১৫টি, রচনাবলি ২টি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই ৫টি, নাটক ২টি, বিজ্ঞান বিষয়ক বই ৭টি, ভ্রমণকাহিণী ১১টি, ইতিহাস ১৪টি, রাজনীতির বই ২টি, চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য ২টি, রম্য বা ধাঁধার বই ৬টি, ধর্মীয় ৫টি, অনুবাদ ৩টি এবং অন্যান্য গ্রন্থ এসেছে ৪৩টি।

বাংলা একাডেমির কর্মসূচি ও মূলমঞ্চের অনুষ্ঠান

আজ বুধবার অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে মেলা চলে সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। রাত সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলনের অমর শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। এতে শতাধিক নবীন-প্রবীণ কবি কবিতা-আবৃত্তি করেন। সভাপতিত্ব করেন কবি কামাল চৌধুরী।

বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়- অমর একুশে বক্তৃতা। একুশে ফেব্রুয়ারির লক্ষ্য কী, অর্জনের পথ কোন দিকে শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, একুশে শহিদের শোককে বাঙালি শক্তিতে পরিণত করেছে। ভাষা আন্দোলনের অমর চেতনার পথ ধরে আমরা এগিয়েছি স্বাধীনতার দিকে।

অমর একুশে বক্তৃতায় ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে প্রত্যাখান করে বাংলাদেশের বাঙালি ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করেছে। এর ফলেই সর্বাত্মক ভাষাসংগ্রাম এবং পরিণতিতে বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। কিন্তু একুশের পথ বেয়ে একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রকাশ করলেও বাংলাকে আমরা জীবনের সর্বক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। তাই উচ্চআদালতে রায় প্রদানের ক্ষেত্রে এখনও বাংলাকে প্রধান মাধ্যম ভাবা হয় না, তিন ধারার শিক্ষাব্যাবস্থায় একটি শ্রেণির কাছে ভাষা হিসেবে বাংলা থাকে উপেক্ষিত।

তিনি বলেন, এই অবস্থার মূলে রয়েছে আমাদের রাজনৈতিক সংকট। শ্রেণিবৈষম্যের অবসান না ঘটায় সমাজে দারিদ্র্য, শোষণ ও নির্যাতন ঔপনিবেশিক সময়ের মতোই ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থার নিরসনকল্পে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির যে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন ছিল তার অনপুস্থিতি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাম্যবাদী সংকল্পের বাস্তবায়নকে সুদূরপরাহত করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত পথপরিক্রমায় আমাদের রাজনীতি বিভাজিত ছিল নানা ধারা-উপধারায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সেটি আরও স্পষ্ট হয়। অবশ্য মুক্তিযুদ্ধকালে বামপন্থীদের একটি অংশ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। একুশ থেকে একাত্তর- এই উত্তাল কালপর্বে বিভাজনের উর্ধ্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতাই প্রধান সত্য হয়ে দেখা দিয়েছে।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ফকির সিরাজের পরিচালনায় ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফকির আলমগীর, কল্যাণী ঘোষ, ফিরোজ আহমেদ, আবদুল হালিম খান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ পাল (তবলা), বিলাস চন্দ্র বণিক (প্যাড), সুমন রেজা খান (কী-বোর্ড) এবং শাহরাজ চৌধুরী।

এস/এ/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত