ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ অাপডেট : ৩১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:২১

প্রিন্ট

তামীম চৌধুরীর চারটি কবিতা

তামীম চৌধুরীর চারটি কবিতা
তামীম চৌধুরী

কন্যা

আমার মুখের সব দাঁত খুলে

মালার মতো গেঁথে আপনার খোঁপা সাজাবেন

তবু অনুগ্রহ করে ফুল ছিঁড়বেন না, আমার কষ্ট হয়

একদিন সে বলেছিলো

(সে মানে অরু) অরু বলেছিলো,

পৃথিবীর সমস্ত ফুল আমাদের কন্যা

পৃথিবীর সমস্ত ফুলবতী গাছগুলো আমি

আমার আঙুলের সব নখ খুলে

(যেহেতু এই নখগুলো খুব শাদা)

আপনার প্রিয়কে উপহার দিন

তবু আমার শুভ্র গোলাপ-মেয়েটি

বাতাসের ঝাপটায় নড়ে নড়ে হাসুক

... বৃক্ষ-বধূর সন্তান তার বুকে থাকুক, থাকতে দিন​

নিরঙ্কুশ

মানুষের পা কেবল অগ্নিগিরির দিকে যায়

দূরে গেলে আরো বেশি নিকটে আসে তারা।

দেখেছি আমি, দেখেছি

মানুষের ভেতর এক অন্তর্গত প্রেম থাকে

গাছগুলো মরে গেলে পথিক বুকে নিয়ে বাঁচে

ছায়ার স্মৃতি

হারালে ফুরালে মানুষেরা বোঝে উড়াল-অক্ষম পাখিরা আকাশ দেখে কাঁদে

পাখি

আমার ম্লান মুখ দীর্ঘজীবী হলেও

ফুলের মুখ যেন মলিন না হয়।

জীবনের মাকড়শা এখানে

হাসির জাল বুনে বুনে ক্লান্ত হোক।

তোমার তুষার চাপাপড়া বসন্ত

উদ্ধার করতে গিয়ে যদি আমার

সমূহ বসন্তটি হারিয়ে যায়, যাক!

স্বর্গে পল্লব-আচ্ছাদিত

গাছ হয়ে জন্ম নিতে পারবো

এ রকম খানিক নিশ্চয়তা পেলে

আমি অনায়াসে ছেড়ে দেবো মানবজন্ম।

জোড়া হয়ে এসে

তুমি বসবে শাখা-প্রশাখায়

আর তোমার পায়ের আঘাতে

মহানন্দে দুলে ওঠবে

আমার সব পত্রপুষ্প

কারো পায়ের স্পর্শেও কারো জীবন সার্থক হয়

...করুণ গাছটিতে তোমার দয়ার্দ্র পা দুটি রেখো!

নিজেকে উপদেশ

আমি ঘুরেফিরে বারংবার নিজেকে বলেছি

মৌন বৃক্ষের মতো ধৈর্য ধরো, পশ্চিমে ডুবে

যাওয়া সূর্য ফের পুবের আকাশে ফিরে আসে

সব পাতা ঝরে গেছে, যাক, পুষ্পহীন হাড়ের

মতো ডালপালা নিয়ে দুঃখ করো না, বসন্তের

প্রত্যাবর্তন আছে, আবারো তুমি সজ্জিত হবে

ফুল ও পাতায়, আমি ঘুরেফিরে নিজেকে বলেছি

সমুদ্রের গর্জন শোনার আগে একবার নদীতে সাঁতার দাও

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত