ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ৫ ভাদ্র ১৪২৫ অাপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৮, ০৮:৫৭

প্রিন্ট

নিবন্ধিত শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগ দেয়া হোক

নিবন্ধিত শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগ দেয়া হোক
জার্নাল ডেস্ক

অনেক জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা-সমালোচনার পর ‘এনটিআরসিএ’ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) কর্তৃপক্ষ গত ১০ জুলাই নিবন্ধিত শিক্ষকদের (১ থেকে ১৩তম) ‘জাতীয় মেধা তালিকা’ প্রকাশ করেছে। এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে সারা দেশের প্রায় পাঁচ লাখের বেশি নিবন্ধিত শিক্ষকদের মধ্যে নিয়োগ পাওয়া নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে। এর আগে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের একেক সময়ের একেক সিদ্ধান্তে নানা সমালোচনাসহ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতা বাড়িয়ে দেয়। ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ গঠনের পর সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্য, উপযুক্ত ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার কথা থাকলেও সে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আদৌ পূরণ হয়েছে কিনা সেটা এক বিরাট প্রশ্নের বিষয়! ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব বিস্তার ও টাকা-পয়সার লেনদেন খাটিয়ে বহু অযোগ্য ব্যক্তি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে গেছেন! ২০১৫ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির পরিবর্তে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের হাতে গেলেও সমস্যার পাহাড় টপকে যথাসময়ে শিক্ষক নিয়োগে আলোর দিশা অধরাই থেকে গেছে। একদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্য পদের চাহিদা কম আসা অন্যদিকে কর্তৃৃপক্ষের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না নেয়ার কারণে সমস্যার জটিলতা গভীর থেকে গভীরতর রূপ নিয়েছে।

সারাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হাজার হাজার শূন্যপদ থাকলেও কর্তৃপক্ষ থেকে গত ২০১৬ সালে মাত্র ৬ হাজারের মতো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদ শূন্য থাকার কারণে পাঠদানসহ সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং পড়ছে। আবার যথাসময়ে নিয়োগ না হওয়ায় লাখ লাখ চাকরিপ্রত্যাশী নিবন্ধিত শিক্ষকরা হতাশায় দিন পার করছেন। ১ থেকে ১২তম নিবন্ধিত শিক্ষকদের নিবন্ধন পরীক্ষা মোটামুটি একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হলেও ১৩তম নিবন্ধন থেকে নিবন্ধন পরীক্ষা সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে বিসিএসের আদলে অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষামন্ত্রী ও এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ১৩তম নিবন্ধনধারীদের আলাদাভাবে সরাসরি নিয়োগ দেয়া হবে। গত প্রায় ২-৩ বছর ধরে চলা নিবন্ধিত শিক্ষকদের নিয়োগের ব্যাপারে আর কোনো অজুহাত, খামখেয়ালি ও নাজেহালপূর্ণ সিদ্ধান্ত জাতি দেখতে চায় না। জাতীয় মেধা তালিকা প্রকাশের পরও লাখ লাখ নিবন্ধনধারীর কেউই জানে না তাদের কবে, কোথায় ও কীভাবে নিয়োগ হবে। দ্রুত শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করে নিবন্ধনধারীদের মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক। এতে করে নিবন্ধিত চাকরিপ্রত্যাশীদের হতাশা দূর হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব ঘুচবে। এ ছাড়া সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানসহ সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে গতি আসবে।

এনটিআরসিএর বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে হতাশা সৃষ্টি ও সময়মতো শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সংসদীয় স্থায়ী কমিটি’ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের থেকে বাতিল করে আবার আগের মতো ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ কথা মোটামুটি সবাই জানে যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব ও টাকা লেনদেনের কারণে অনেক অযোগ্য ও ন্যূনতম মেধাহীন লোকও নিয়োগ পেয়ে যায়। হ্যাঁ, এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেনি, এ কথা সত্য বটে। তবে এখনো সময় আছে জাতীয় মেধাতালিকা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ দিয়ে ও সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করে আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ থেকে ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেয়া মানে আবার ক্ষমতার প্রভাব ও টাকা-পয়সার লেনদেনকে বৈধতা দেয়া! ফলে আবার বেশি করে নিয়োগ বঞ্চিত হবে মেধাবী, সৎ ও যোগ্য নিবন্ধনকৃত শিক্ষকরাই। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কোনো বাণিজ্য ও অসৎ কর্মকাণ্ড হলে তার খেসারত সারা জীবন পুরো জাতিকেই বহন করতে হয়। তাই শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের হাতে রেখে এখন জাতীয় মেধাতালিকা অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে আগামীতে প্রতি বছর দ্রুত সময়ের মধ্যে চাহিদামাফিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করাই হবে সময়ের অন্যতম সেরা সমাধান।

সাধন সরকার : সাবেক ছাত্র, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত