ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ১৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৮, ১২:১৩

প্রিন্ট

দেশের রাজনীতির সবটুকু নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিলেন শেখ হাসিনা

দেশের রাজনীতির সবটুকু নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিলেন শেখ হাসিনা
স্বদেশ রায়

আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার বিজয় নিশ্চিত এ নিয়ে তাঁর অতিবড় শত্রুরও কোন দ্বিমত নেই। বিএনপিতে খোঁজ নিলে দেখা যাচ্ছে কে বিরোধীদলীয় নেতা হবেন এই নিয়ে মির্জা ফখরুল ও খন্দকার মোশাররফের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাদেরও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবার কোন স্বপ্ন নেই। তারা চাচ্ছেন বিরোধীদলীয় মর্যাদা। অন্যদিকে ড. কামাল হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চান না। ড. কামাল কি চান তা ইতোমধ্যে শুধু নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক আগে থেকে স্পষ্ট। ওই প্রসঙ্গ এ লেখার বিষয়বস্তু নয়। তবে ড. কামালের সংবাদ সম্মেলনও প্রমাণ করে দিয়েছে, শেখ হাসিনার বিজয় অনিবার্য। তাই নির্বাচনে কোন নেতার যখন ধারাবাহিকভাবে তৃতীয়বারের জন্য বিজয় সুনিশ্চিত হয়- ওই সময়ে তিনি যদি বড় মাপের রাষ্ট্রনেতা হন তাহলে তাঁকে দেখতে হয় দেশের সামগ্রিক রাজনীতি যেন তাঁর নিয়ন্ত্রণেই থাকে। টানা দ্বিতীয়বারে ক্ষমতায় এসে পাঁচ বছরই রাজনীতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে কেবলমাত্র ২০১৫ সালে বিএনপি নেত্রী বাসা ছেড়ে অফিসে বসে মাস দুয়েক দেশব্যাপী সন্ত্রাস করে নিজেই ঘরে উঠে যান। বাস্তবে গত পাঁচ বছরে ওই দুই মাসের কিছু বেশি সময় সন্ত্রাস করা ছাড়া বিএনপি দেশের রাজনীতির কানাকড়ি পরিমাণ তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি। দেশের সকল রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ছিল শেখ হাসিনার নিয়ন্ত্রণে। সকলকেই তাঁর ইচ্ছেমতো রাজনীতি করতে হয়েছে। তাই টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় যাবার বিষয়টি যখন শেখ হাসিনার জন্য নিশ্চিত হয়ে গেছে ওই সময়ে রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ অন্য কারও হাতে দেবার কোন প্রশ্ন ওঠে না তাঁর জন্য। আর সেটা তিনি দিলেনও না। যড়যন্ত্রের রাজনীতি মাথায় নিয়ে ড. কামাল প্রকাশ্যে জোট করেছেন বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে। ড. কামাল ও তাঁর পেছনের তথাকথিত সুশীলরা চাচ্ছেন, অন্তত কিছু না পারেন রাজনীতিটা বিএনপি-জামায়াতের হাতে উঠিয়ে দেয়। আর তা যদি না পারেন তা হলে অন্তত রাজনীতিতে একটা অস্থিতিশীলতা আসার সুযোগ করে দেয়ার চেষ্টা। তারা জানেন রাজনীতিকে যদি অস্থিতিশীল করে দেয়া যায়, দেশের পরিবেশ যদি অস্থিতিশীল হয় তাহলে ওই অস্থিতিশীলতাকে পুঁজি করে যে কোন অশুভ ঘটনা দেশের জন্য ঘটতে পারে। এ মুহূর্তে জামায়াত, বিএনপি ও ড. কামাল চাচ্ছে দেশে যে কোন অশুভ ঘটনা ঘটুক।

দেশকে এই অস্থিতিশীল করা ও রাজনীতিকে অশুভ শক্তির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার জন্য জামায়াত, বিএনপি, ড. কামাল ও সুশীলরা শেখ হাসিনাকে ট্র্যাপে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাদের এই উদ্যোগ হিসেবে ড. কামাল সংলাপের জন্য চিঠি দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাকে। তারা ধরেই নিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা এই চিঠিতে কোন সাড়া দেবেন না। তিনি প্রত্যাখ্যান করবেন এই আহ্বান। তাদের হিসাবটি একটু ভুল হয়েছিল। তারা বুঝতে পারেননি ’৭৫-এর রক্তসাগর পার হয়ে দেশের রাজনীতির হাল ধরে কোন যুদ্ধের ভেতর দিয়ে শেখ হাসিনাকে আজ এখানে আসতে হয়েছে! শুধু একটা উদাহরণ দিলেই এখানে বিষয়টা অনেকখানি পরিষ্কার হয়। সকলেই জানি শত্রু যখন চিহ্নিত হয় বা প্রকাশ্যে হয় তার মোকাবেলা করা সহজ কিন্তু ওই শত্রু যখন ছদ্মবেশী, নিজের ঘরের ভেতর হয় তখন তাকে মোকাবেলা করা অনেক কষ্টের। ড. কামাল এখন জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে প্রকাশ্যে আছেন। এখন তাকে বুঝতে শেখ হাসিনার অনেক কম কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এই ড. কামাল যখন তাঁর দলে ছিলেন এবং তাঁর নীতি নির্ধারণী বডিতে থেকে জামায়াত ও বিএনপির পক্ষে খেলছিলেন তখন তাঁকে মোকাবেলা করতে শেখ হাসিনার কেমন ধকলটি পোহাতে হয়েছে! শুধু ড. কামাল নন, এমনি অনেকেই দলের ভেতর বসে শেখ হাসিনার বিপরীতে অনেক দাবার ঘুঁটি নেড়েছেন। তাদেরকে মোকাবেলা করে, সামরিক সরকার ও তাদের মৌলবাদী দোসরকে মোকাবেলা করে শেখ হাসিনাকে আজ এখানে আসতে হয়েছে। আর তার ভেতর দিয়ে গত দশ বছরে শেখ হাসিনা প্রতিদিন নিজেই নিজেকে অতিক্রম করেছেন। আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাষায়, শেখ হাসিনা এখন ইন্টারন্যাশনাল লীগের প্লেয়ার আর বাদবাকি সকলে পাড়ার ক্লাবের প্লেয়ার। বাস্তবে শেখ হাসিনাই এখন বাংলাদেশে একমাত্র আন্তর্জাতিকমানের রাজনৈতিক নেতা ও রাষ্ট্রনায়ক শুধু নন, পৃথিবীর তিন-চারজন নেতার পরেই তাঁর নাম আসে। এই শেখ হাসিনা যে রাজনীতিকে অন্যের কোটে যেতে দেবেন না সেটাই স্বাভাবিক। ড. কামাল ও তাঁর পরামর্শক সুশীলরা মনে করেছিলেন, শেখ হাসিনাকে সংলাপের চিঠি দিলে তিনি স্বাভাবিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করবেন, আর তখনই তাদের জন্য সুযোগ হবে দেশকে অস্থিতিশীল করার রাজনীতির পথে নিয়ে যাওয়া। সেক্ষেত্রে কী বিদেশী, কী দেশের সাধারণ মানুষ সকলকে তারা বড় মুখ করে বলতে পারবেন, তাদেরকে এখানে ঠেলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা তাদেরকে সে সুযোগ দিলেন না। তিনি চিঠি পাবার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাদেরকে সংলাপে ডাকলেন। আর এই সংলাপে ডেকে শেখ হাসিনা যে বিজয়ী হয়েছেন তার প্রথম প্রমাণ তথাকথিত সুশীলরা চুপসে গেছেন। ড. কামাল সংলাপের জন্য শেখ হাসিনাকে চিঠি দিলে তথাকথিত সুশীলদের ও জামায়াত-বিএনপির মুখপত্র প্রথম আলো সে নিউজ প্রথম পাতার অন্যতম লিড নিউজ হিসেবে ছেপেছিল। আর যখনই শেখ হাসিনা ঐক্যজোটকে সংলাপে বসার জন্য জানালেন সে নিউজ ভেতরের পাতায়। এর থেকেই স্পষ্ট হওয়া যায় তথাকথিত সুশীলদের ষড়যন্ত্র ফেঁসে গেছে। বাস্তবে ড. কামালের চিঠির জবাবে তাদেরকে সংলাপে ডাকার ভেতর দিয়ে দেশের রাজনীতির সবটুকু এখন নিজের হাতে তুলে নিলেন শেখ হাসিনা। এখন ড. কামালের জোটের রাজনীতিও শেখ হাসিনার হাতে। তিনি এখন সংলাপের মধ্য দিয়ে শুধু নয়, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাদের সব ধরনের সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার ম্যান্ডেট পেলেন। কারণ, দেশের মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে শেখ হাসিনা সব সময়ই একটি শান্তিপূর্ণ রাজনীতির পক্ষে। তিনি বিজয়ী, তিনি প্রধানমন্ত্রী এসব কোন কিছুই তাকে অহংকারী করে তোলে না। তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েও খালেদা জিয়াকে সংলাপে ডেকেছিলেন। এবার ড. কামালের মতো নামসর্বস্ব নেতার চিঠিকেও তিনি গুরুত্ব দিলেন। ড. কামাল এই সংলাপে বসার পরে নিশ্চয়ই বলবেন না সংলাপ ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, কোন সংলাপেই একবার বসেই সফলতা অর্জন করা যায় না। ড. কামালকে আরও সংলাপের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে রাজপথে অনেক কথা বলা যায়, কিন্তু সংলাপে সে কথা বলা যায় না। যেমন সংবিধানের বাইরে যাবার কথা সংলাপে বসে বলা যায় না। ড. কামাল বিবিসিকে বলেছেন সংবিধান এক মিনিটে সংশোধন করা যায়। এটা সামরিক শাসকদের ভাষা। কোন রাজনীতিকের ভাষা হতে পারে না। দেশের সংবিধানকে অত তুচ্ছ মনে করার কোন সুযোগ নেই। সংলাপে বসে এ ধরনের কথা বলার সুযোগ নেই। সেখানে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে কথা বলতে হয়। যা হোক, এই সংলাপ থেকে বেরিয়ে এসেই পরের দিন রাজপথে সহিংস কোন ভূমিকা নিলে তার সকল দায় দায়িত্ব ড. কামালকে ও বিএনপি-জামায়াতকে নিতে হবে। আর তখন তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করার সকল ম্যান্ডেট শেখ হাসিনার। কারণ, জনগণ দেখেছে শেখ হাসিনা কত দ্রুত সংলাপে বা আলাপ-আলোচনায় সাড়া দিয়েছেন।

এখন কেউ কেউ বলতে পারেন, বিএনপি ও জামায়াত এতদিন সংলাপ চেয়ে আসছে তাদের সঙ্গে কেন শেখ হাসিনা বসেননি? বিএনপি জামায়াতের ২০১২ ও ১৩’র সন্ত্রাসের পরেও শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গে ১৩’তে সংলাপে যাবার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। তারপরও তারা ২০১৫ তে এসে আবার সন্ত্রাসী পথ নেয়। তাই একজন রাষ্ট্রনায়কের যেমন সংলাপ করার অধিকার আছে তেমনি সন্ত্রাসীদের কঠোর হাতে দমন করারও অধিকার আছে। তবুও শেখ হাসিনা কিন্তু ড. কামালকে শর্ত দেননি, বিএনপিকে ছেড়ে আসতে হবে। শেখ হাসিনা এত কিছুর পরেও মেনে নিয়েছেন বিএনপি ড. কামালের লেজ হিসেবে সংলাপে আসুক। তবে এটাও সত্য, একবার সংলাপে বসে সে সংলাপকে ব্যর্থ বলে বিএনপি যদি আবার কোন জ্বালাও-পোড়াও বা পেট্রোল বোমা বা কোন ধরনের আন্দোলনে যায় আর সে আন্দোলনে যদি ড. কামাল সহায়তা করেন তাহলে সেখানে দেশবাসী কঠোর রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে চান। অর্থাৎ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন, ব্যবসা বাণিজ্য কোন কিছুই যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেটা শেখ হাসিনাকে নিশ্চিত করতে হবে। আর দেশের এই স্থিতিশীলতার স্বার্থে দেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই নিলেন শেখ হাসিনা। অবশ্য দেশের এই উন্নয়ন চলমান রাখার জন্য শেখ হাসিনা আগেই বলেছেন, কোন মতেই সরকারের আকার পরিবর্তন নয়। কারণ প্রতিপক্ষ এই মুহূর্তে দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ খুঁজছে। তাই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে, দেশকে স্থিতিশীল রাখায় সমর্থ হবে এমন কার্যকর পরিমাপের সরকার ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবার সুযোগ নেই।

[email protected]

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত