ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫ অাপডেট : ১৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৩০

প্রিন্ট

প্রতিষ্ঠিত সন্তানের শিক্ষক বাবার রাত কাটে স্কুলের বারান্দায়

প্রতিষ্ঠিত সন্তানের শিক্ষক বাবার রাত কাটে স্কুলের বারান্দায়
নিজস্ব প্রতিবেদক

যে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন সেই স্কুলের বারান্দায় রাত কাটছে মাজাহার হোসেনের। প্রায় ৮ বছর ধরে রাজশাহী নগরীর স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুলে বারান্দা আজ তার থাকার জায়গা।

অবসরপ্রাপ্ত এই প্রধান শিক্ষক দীর্ঘ ২৮ বছর দায়িত্বপালন করে ১৯৯৮ সালের ৫ এপ্রিল অবসরে যান। তখন অবসরকালীন সহায়তা ভাতা চালু হয়নি বেসরকারি শিক্ষকদের। ফলে শূন্য হাতে ঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। এ কারণে আর্থিক সংকটে বিপর্যয় নেমে আসে তার। শেষ পর্যন্ত ছেলেরাও দায়িত্ব নেননি শিক্ষক বাবার। তাই বাধ্য হয়ে একাই নেমে পড়েন নিজের বাঁচার সন্ধানে।

২০১০ সালের শেষ দিকে এসে উঠেছেন রাজশাহী নগরীর স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুলে। বর্তমানে এই স্কুলটির ল্যাবরেটরি কক্ষের বারান্দায় রাত কাটে তার। এখানে একা একা কত রাত কাটিয়েছেন সেই হিসাব নেই তার।

দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা মাজহার হোসেন। আগে থাকতেন নগরীর বিনোদপুর এলাকায়। সেখানে নিজের বাড়ি রয়েছে। এখন সেই বাড়িতে ছোট ছেলে আসাদুজ্জামান আপেল থাকেন। মাকে নিয়ে সেখানে থাকলেও ঠাঁই হয়নি বাবার। আপেল একটি বেসরকারি কলেজের গণিতের শিক্ষক।

আর বড় ছেলে আক্তারুজ্জামান মুকুল। শুরুতে বাবার স্কুলে যোগদান করেছিলেন। কিছুদিনের মাথায় সেই চাকরি ছেড়ে কোচিং সেন্টার খোলেন। পরে সেটি বন্ধ করে দেন। এখন ছেলে কি করেন, তা জানেন না বাবা। নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় পরিবার নিয়ে বাস করেন মুকুল। থাকেন একটি আলিসান ভবনের তৃতীয় তলায় থাকেন।

অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক বলেন, বড় ছেলে কেবল খাবার দিয়ে দায় সেরেছে। প্রতিদিনই খাবারের জন্য নিউমার্কেটের সামনে বসে থাকতে হয় তাকে। সেখানে খাবার পাঠিয়ে দেয় ছেলে। সেই খাবার নিয়ে হেঁটে হেঁটে স্কুলের বারান্দায় ফেরেন।

আর ছোট ছেলে কখনই খোঁজ নেন না। মেয়ের বিয়ে হয়েছে খুলনায়। জামাইয়ের কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে সেখানে। বছরে মাঝে মধ্যে আসে মেয়ে। স্কুলে এসে কিছু টাকা হাতে গুজে দিয়ে যায়।

২০১০ সালের দিকে পেটের অসুখে আক্রান্ত হন মাজাহার হোসেন। এরপর থেকে বড় ছেলের বহুতল বাসায় আর উঠতে পারেন না তিনি। ছেলেও বাবার জন্য বদল করেননি বাসা। তাই বাধ্য হয়ে তাকেই পথে নামতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অনেকেই প্রতিষ্ঠিত। তারা আমার এ অবস্থার খবর জেনে দীর্ঘদিন ধরেই তারা নানানভাবে সহায়তা করে আসছে।

এসময় দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি। তার চোখের ছল ছল হয়ে উঠে। বোঝা যায় কত রাত কত দিন কষ্ট বুকে চেপে পার করে দিয়েছেন।

জেডএইচ/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত