ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫ অাপডেট : ৫৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ১২:৩৪

প্রিন্ট

ছেলের বাসা ছেড়ে আবারও স্কুলে সেই শিক্ষক বাবা

ছেলের বাসা ছেড়ে আবারও স্কুলে সেই শিক্ষক বাবা
রাজশাহী প্রতিনিধি

শেষ পর্যন্ত ছেলের বাসায় ফিরলেন না রাজশাহী স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহার হোসেন (৮৫)। রোববার রাতেই তিনি আবারও বিদ্যালয়ের বারান্দায় গিয়ে উঠেছেন। সোমবার সকালে বড় ছেলে আক্তারুজ্জামান মুকুল এসেও তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেননি। আট বছর আগে এই ছেলের বাসা থেকেই বেরিয়ে গিয়ে বিদ্যালয়ে ওঠেন ওই শিক্ষক।

এলাকাবাসী সূত্রে খবর, রোগে ভুগে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটছিল এই প্রবীণের। এ বিষয়ে গত ০৪ আগস্ট বাংলাদেশ জার্নালে ‘প্রতিষ্ঠিত সন্তানের শিক্ষক বাবার রাত কাটে স্কুলের বারান্দায়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ধীরে ধীরে চাউড় হতে থাকে সেই খবর। একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যম এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। বিষয়টি নজরে এলে রাজশাহী জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের গত রোববার বিকেলে বিদ্যালয়ে ছুটে যান। পরে ওই শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকার বড় ছেলে আক্তারুজ্জামান মুকুলের বাসায় যান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর কবির, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হাসান, তাসনিম জাহান ও রনি খাতুন এবং স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তারিকুল ইসলাম। বড় ছেলে আক্তারুজ্জামান মুকুল ও ছোট ছেলে আসাদুজ্জামান আপেলসহ তার স্বজনরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের বলেন, ওই শিক্ষক বড় ছেলের কাছে থাকতে চান। তার সুবিধার্থে খোলামেলা পরিবেশে নিচতলা বাসায় থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বড় ছেলে আক্তারুজ্জামান মুকুলকে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসাসহ সবধরনের সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া, বাবার প্রতি ছেলেদের দায়িত্বপালনের তাগিদ দেন তিনি।

তবে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতেই ছেলের বাড়ি ছেড়ে যান মাজহার হোসেন। স্বজনরা তাকে অনেক চেষ্টা করেও আটকাতে ব্যর্থ হন। রাতেই ফিরে যান তিনি স্যাটেলাইট স্কুলের বারান্দায়। সোমবার সকালে আবার বাবাকে ফেরাতে ছুটে যান বড় ছেলে। কিন্তু কোনোমতেই তিনি রাজি হননি।

বড় ছেলে আক্তারুজ্জামান মুকুল বলেন, সকালে তিনি বাবার জন্য খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তিনি আসতে রাজি হননি। খুব শিগগিরই সুবিধাজনক বাসা নিয়ে বাবাকে নিয়ে আসার কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক তারিকুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষকের অনুরোধে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তারা। তার স্বজনরা নিয়ে যাবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তিনিও চেষ্টা করেও পাঠাতে পারেননি। হয়তো চাপা অভিমানেই ছেলের বাসায় ফিরে যাননি তিনি।

প্রসঙ্গত, স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মাজহার হোসেন। ১৯৯৮ সালের ৫ এপ্রিল শূন্য হাতেই তিনি অবসরে যান। চরম আর্থিক সংকট দিনে দিনে বিপর্যয় নেমে আসে মানুষ গড়ার এই কারিগরের। ২০১০ সালের শেষ দিকে বিদ্যালয়ে এসে ওঠেন ওই শিক্ষক। এরপর থেকেই একা সেখানেই বসবাস করে আসছেন তিনি। অসুস্থ এ শিক্ষককে দু-বেলা খাবার দিয়েই দায় সেরেছেন ছেলে। দুই ছেলে এবং এক মেয়ের জনক মাজহার হোসেন নগরীর মেহেরচণ্ডি এলাকার বাসিন্দা। সেই ভিটেতে ছোট ছেলে আসাদুজ্জামান আপেল মাকে নিয়ে বসবাস করছেন। আপেল নগরীর দেবিসিংপাড়া মাদ্রাসার গণিতের শিক্ষক। বড় ছেলে আক্তারুজ্জামান মুকুল পরিবার নিয়ে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকার ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত