ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫ অাপডেট : ২০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১০

প্রিন্ট

গুলশান পুলিশের হাতে ধরা মাদক সম্রাজ্ঞী ইডেন

গুলশান পুলিশের হাতে ধরা মাদক সম্রাজ্ঞী ইডেন
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানের অভিজাত পাড়ায় মধ্যরাতে দেখা মেলে সুন্দরীদের। যারা টাকার বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। মাদক সেবন, বিক্রি এমনকি দেহ ব্যবসাও সেখানে অনেকটা ওপেন সিক্রেট হয়ে উঠেছে। টিনেজার থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা পর্যন্ত জড়িয়ে পড়ছেন এই চক্রে।

তাদেরই একজন ১৯ বছর বয়সী ইডেন ডি’সিলভা ওরফে রামিসা সিমরান। অনেকেই তাকে চেনেন গুলশানের ইয়াবা সুন্দরী নামে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ইয়াবা সেবনের ছবিও রয়েছে।

তিনি থাকেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। আড্ডা দেন গুলশানের অভিজাত পাড়ায়। ধণাঢ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে বিভিন্ন সময় তাদের থেকে নানা সুবিধা নিয়ে থাকেন। সুযোগ পেলে ব্ল্যাকমেইল করতেও ছাড়েন না।

মূলতঃ মাদকের সঙ্গে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকলেও গুলশান থানা পুলিশের তাকে ধরেছে চুরির মামলায়।

২ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় ৩৮০/৫০৬ ধারায় (মামলা নং-১, তারিখ ২/৯/১৮ইং) মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে আটক করা হয়।

পুলিশের কাছে অভিযোগ রয়েছে, এই ইয়াবা সুন্দরী প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

পুরান ঢাকার এক সংসদ সদস্যের ছেলে তার ফাঁদে পড়ে অনেক কিছু হারিয়েছেন এবং মাদকের খপ্পড়ে পড়েছেন বলেও পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে।

রাজধানীর গুলশান, বনানী ও মিরপুরসহ একাধিক থানায় তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা ও জিডি রয়েছে। তার চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও ইডেন ডি সিলভা বরাবরই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাগালের বাইরে থেকে গেছেন। অবশেষে শুক্রবার তাকে ধরতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ ব্যাপারে গুলশান থানার এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গুলশানে প্রায় সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি আসেন। সারারাত বিভিন্ন স্থানে সময় কাটান। শুক্রবার ভোর ৫টায় গুলশান ১৭ নম্বর সড়ক থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার করেই তাকে কোর্টে পাঠিয়ে রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত তার রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তাকে কোর্টে তোলা হবে এবং আমরা আবারও রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে রেখেছি।

জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার নামে মামলা রয়েছে। মামলার নথিগুলো আমরা শিগগিরই সংগ্রহ করব।

চুরির মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, গুলশানের এক ধণাঢ্য পরিবারের সঙ্গে গত বছর জুলাই মাসে পরিচয় হয় ইডেন ডি’সিলভার। পরিচয়ের সুবাদে তিনি বিভিন্ন সময় ওই পরিবারে আসা-যাওয়া করতেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওই বাসা থেকে তিন লাখ টাকা মূল্যের একটি ডায়মন্ডের আংটি হারিয়ে যায়। এরপর মার্চ মাসে ২৮ লাখ টাকা মূল্যের সুইজারল্যান্ডের তৈরি হাবলট ব্র্যান্ডের ঘড়িও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মামলার বাদী জানান, ঘড়ি সম্পর্কে ইডেন ডি’সিলভাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন। পরে গুলশানের বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে ইডেন ডি’সিলভার হাতে ঘড়িটি তিনি দেখতে পান।

এ বিষয়ে তখন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ঘড়িটি ব্যবহার করার জন্য নিয়েছিলেন, পরে ফেরত দিয়ে দেয়া হবে।

মামলায় ইডেনকে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় ইডেন ডি’সিলভা ও নিশাত মিমের নাম উল্লেখ করা হলেও পুলিশ শুধুমাত্র ইডেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত