ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ অাপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৭, ২০:৫৫

প্রিন্ট

ফের উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনীতির মাঠ

বিশেষ প্রতিবেদক

রাজনীতির মাঠ আবার গরম হচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নভেম্বর মাসেই শুরু হলো মাঠ গরমের রাজনীতি। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্প পরিদর্শনের কর্মসুচি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ঢাকা টু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সফরের মধ্য দিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও বসে নেই। তারাও নানা কর্মসুচি নিয়ে মাঠেই আছে। তৃণমুলকে চাঙ্গা রাখতে এবং দলের সাংগঠনিক ততপরতা বাড়াতে জেলায় জেলায় সফর করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এভাবেই রাজধানীর রাজনীতির উত্তাপ দলের তৃণমুলেও ছড়িয়ে পরেছে। দলের তৃণমূল নেতারাও আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মাঠ গরম করছেন। তারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে  মাঠে নেমে পড়েছেন।

সারা দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের ছবি দিয়ে পোস্টার-ব্যানার ফেস্টুনসহ নানারকম লিফলেট দিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও চলছে ব্যাপক প্রচারণা। ফেসবুক খূললেই দেখা যাবে কোনো না কোনো নির্বাচনী এলাকায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণসংযোগের ছবিসহ নানারকম কমেন্ট। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর আগেই নির্বাচনী মাঠ গরমের প্রতিযোগিতায় সরগরম হয়ে উঠছে। একটি সূত্র জানায় চলতি মাসেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক কমিটির ব্যানারে সমাবেশের মধ্য দিয়ে মাঠ গরমের রাজনীতি আরও গরম হবে। দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা জানান  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে ১৮ নভেম্বর নাগরিক সমাবেশ করবে নাগরিক কমিটি। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে কয়েক মাস পর তিনি প্রকাশ্য জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। নেতারা মনে করেন ১৮ নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে বিভিন্ন বিষয়ে দিক-নির্দেশনামূলক বার্তা দিতে পারেন।

দলের একাধিক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জানান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে ছয়টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়লাভ করতে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। রাজনীতির মাঠ বিএনপি গরম করলেও আওয়ামী লীগ কৌশলে এগুবে। কঠোর নজরদারীতে রাখবে বিএনপির রাজনীতি। নেতারা মনে করেন  রাজনৈতিক কর্মসুচি পালনের নামে গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে বিএনপির জ্বালাও-পোড়াওয়ের কর্মসূচি এদেশের জনগণ ভুলে যায়নি। তাই রাজনীতির মাঠ গরমের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি যাতে না করতে পারে সেদিকেই নজর সরকার ও দলের। রাজনীতির মাঠ গরমের কথা বলে দেশে কোনরকম অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে দিবে না আওয়ামী লীগ। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মনে করেন আসন্ন ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেভাবে হয়ে থাকে সেভাবেই প্রস্তুতি দলের তৃণমুলে চলছে। তবে নির্বাচনের হাওয়া কেন্দ্র থেকে শুরু করে দলের তৃণমূলে লাগবে এটাই স্বাভাবিক।  স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে সরগরম আলোচনা সব সময়ই হয়ে থাকে। আগামীতেও হবে।

মাঠ গরমের রাজনীতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা এবং তাদের সহায়ক সরকারের দাবি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলেছেন আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে। কোনো সহায়ক সরকার হবে না, কোন ভাবনার সরকার হবে না। এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোন আলোচনা করা হবে না, সমঝোতার প্রশ্নই উঠে না। আর বিএনপিকে নির্বাচনে আনার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের নয়। বিএনপি বুঝতে পেরেছে তাদের মিথ্যাচার, মানুষ হত্যা, লুটপাট,ষড়যন্ত্রের রাজনীতির জন্য জনগণ আগামী নির্বাচনেও তাদের প্রত্যাখান করবে। তাই তারা মাঠ গরমের নামে নানা ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে ফের ষড়যন্ত্র করা হলে,আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে,সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, জ্বালাও পোড়াও করলে কোনোরকম ছাড় দেয়া হবে না। এসব যারা ফের করবে তাদের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার করা হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার দরকার নেই। তারা আন্দোলনে ব্যর্থ এবং নির্বাচনেও ব্যর্থ। সবকিছুতে ব্যর্থ হয়ে এখন প্রেস ব্রিফিং আর মিথ্যাচারের পুরনো ভাঙা রেকর্ড বাজানো ছাড়া বিএনপির আর কোনো কাজ নেই। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাএ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। ২০১৯ সালে বিজয়ের মাসে এ নির্বাচন হবে। আন্দোলন করে লাভ নেই। আওয়ামী লীগ আন্দোলনে চ্যাম্পিয়ন। দলীয় সুত্রগুলো জানায় আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে শান্তিপূর্ণভাবে বিএনপির সভাসমাবেশ করলে সরকার বাধা দিবে না। বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ডের জবাব রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠ গরম করা রাজনীতিরই সংস্কৃতি। আওয়ামী লীগ সুস্থধারার রাজনীতিই করে। বড় দল হিসাবে বিএনপিকেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে দেখে আওয়ামী লীগ। নেতারা মনে করেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মাঠের রাজনীতি কখনো গরম আবার কখনো রাজনৈতিক বাহাস চলবে। তবে রাজনীতির মাঠ গরমের মৌসুম শুরু হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত