ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪ অাপডেট : ২৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০১৭, ২৩:১৮

প্রিন্ট

সাক্ষাতকারে হাফিজউদ্দিন আহম্মদ

পদত্যাগ নয়, আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা আছে

কামরুল হাসান

রাজনীতি থেকে এখনই অবসরে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহম্মদ বীর বিক্রম বলেছেন, এটা সত্য- যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম, সেই স্বপ্ন আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এই জায়গায় হতাশা থাকলেও এখনই দেশের রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্ততি রয়েছে। এই নির্বাচনটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছি। আমি নির্বাচন করবো, যদি ভোটকেন্দ্রে যাওয়া যায়।

গত বুধবার বিবিসিতে হাফিজউদ্দিন হতাশা থেকে পদত্যাগ করতে চাইছেন বলে সংবাদ প্রকাশের পর নানা গুঞ্জন শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তার বাসভবনে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ওই বিবিসি আমাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আমার হতাশা উল্লেখ করেছি। 

কিন্তু ওই অর্থে পদত্যাগের কথা বলা হয়নি বলে জানান ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এ নেতা। বিবিসি বাংলায় হাফিজউদ্দিনের সাক্ষাৎকারে বলা হয়, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখার জন্য কিন্তু এখন দেশে বসবাস করাই দু:সাধ্য। ‘আমি চিন্তা করছি যে কোন মুহূর্তেই অবসর নিতে পারি। আগামী নির্বাচনে অংশ নিবো কি-না সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেই। আমি মনে করি রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার জন্য এটিই সঠিক সময়।’

মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিনের সাথে আলাপকালে দেশের রাজনীতি, আগামী জাতীয় নির্বাচন, বিএনপির অবস্থান সহ নানা বিষয়ে কথা হয়। 

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্তমান ক্ষমতাসীন দল যেভাবে করেছে ঠিক সেই পরিকল্পনাতেই তারা আগামী জাতীয় নির্বাচন করতে চাইবে। আর এর জন্য তারা তাদের মতো করেই নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। 

নির্বাচন কমিশনের জন্য যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছিলো সেই কমিটির কোন মতামত গ্রহণ করা হয়নি বলেও তিনি জানান। বোঝাই যাচ্ছে এই চালাকীর মূল কারণ হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনে কারচুপি করা। এখন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নির্ভর করবে বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করতে পারবে কি না।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে ফ্রি হ্যান্ডে নির্বাচন পরিচালনা করার সূযোগ দেয় তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, অন্যথায় নয়। 

তিনি বলেন, আমি মনে করি বিএনপিরও দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এছাড়া নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের মাঝে একটি গণজাগরন সৃষ্টি হবে। ফলে সরকার যেভাবে কারচুপি করতে চাইবে সেটা সম্ভব হবে না। এরপরেও কারচুপি করতে চাইলে শত শত লোককে গুলি করে মারতে হবে। কারণ, জনগন এখন আর কারচুপির নির্বাচন চায় না। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ভাবমূর্তি সঙ্কটে রয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের সকলের চোখ খুলে দিয়েছে যে, আমাদের কোনো বন্ধু নাই। এতদিন যাকে আমরা বন্ধু বলে ধারণা করতাম, দেখা গেছে সেও প্রভূ। সম্পর্কটা প্রভূ-ভৃত্যের সম্পর্ক। যে কারণে এত বড় মানবাধিকারজনিত সমস্যার পরও কোন দেশই সমাধানের জন্য এগিয়ে আসেনি। এ কারণে রোহিঙ্গাদের  স্রোত বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের যে পুরানো ঐতিহ্য, ১৯৭১ এর যে ঐতিহ্য, সে ধরণের একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তবে জনগণ যদি ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারে তাহলে গণভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারের বিদায় ঘটাবে। 

এসময়ে তিনি নিজ দল বিএনপির ব্যর্থতার বিষয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ যে এখনো ক্ষমতায় আছে এর ব্যর্থতার দায়ভার আমাদের। এই দশ বছরে আমরা যে সকল ইস্যু পেয়েছি তা যদি আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে পেতো তাহলে তারা জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতো। আমাদের ব্যর্থতা, আমরা ছাত্র-যুবকদের আদর্শিকভাবে প্রভাবিত করতে পারি নাই। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা এই শক্তিকে কাজে লাগাতে পারি নাই। 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত