ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪ অাপডেট : ১৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০:০১

প্রিন্ট

স্বৈরাচার এরশাদও এত খারাপ ছিলেন না : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৯০ সালে যার বিরুদ্ধে ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল, সেই স্বৈরাচার এরশাদও এত খারাপ ছিলেন না। তাদের ন্যূনতম নিয়ম-সৌজন্য বোধ ছিল যে তারা কোনো জনসমাবেশের ওপর গুলি চালাবে না। বর্তমান সরকার কত মায়ের, স্ত্রীর বুক খালি করেছে এবং সন্তানকে এতিম করেছে, তার হিসাব করা যাবে না।

বুধবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। ৬ ডিসেম্বর গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ’৯০র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র-ঐক্য আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর প্রাক্তন ভিপি ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির সৈনিকেরা এখন কারাগারে কারাগারে রুদ্ধ। এখন এমন কোনো জেলা-উপজেলা নেই, যেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে মামলা নেই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাঁকে হেনস্তা করা হচ্ছে ও ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কাকে ভয় দেখাচ্ছেন? খালেদা জিয়াকে? তিনি নয় বছর কোনো আপস করেননি, আপস করলে তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। তিনি আপনাদের (সরকার) সঙ্গে গত আট বছর নীতির প্রশ্নে, গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেননি।’

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে সরকারকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক করেন বিএনপি মহাসচিব। সময় থাকতে সরকারকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখানো সময় আছে কথা বলুন, আলোচনা করুন। আলোচনা ছাড়া, কথা বলা ছাড়া গণতন্ত্রকে কখনো সফল করা যায় না। আলোচনার মাধ্যমে আমরা নিশ্চয় একটা পথ বের করতে পারবো, যা জনগণের আকাঙ্খাকে পূরণ করবে।’

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। আপনারা (আওয়ামী লীগ) যখন ’৯৬-তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছেন তখন কি তা সংবিধানে ছিলো? কিন্তু আমরা মেনে নিয়েছিলাম। এই সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচনে আমরা দু’বার আপনারা একবার সরকার গঠন করেছিলেন। তাহলে সমস্যাটা কোথায় ছিলো?’

“আপনারা জেনে গেছেন যে, পায়ের নিচে মাটি নাই, জনসমর্থন নাই। যদি নিরেপক্ষ ভোট হয় তাহলে আপনাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। সেই জন্যই নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে এতো ভয়। কিন্তু আমরা সংঘর্ষ সংঘাত চাই না। আমরা জনগণের মতামত প্রকাশের অধিকার চাই”, বলেন বিএনপির এই মুখপাত্র।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘দেশের সামনে বিরাট সংকট। এতো বড় সংকট আর আসে নি। আমাদের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব বিপন্ন, গণতন্ত্র বিপন্ন। মানুষের নিরাপত্তা নাই। আজকে যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ না হই, একজোট হয়ে অপশাসন-দুঃশাসনকে পরাজিত করতে না পারি, আমাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’ 

“তাই অুনরোধ জানাতে চাই, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে, জনগণের দিকে তাকিয়ে সমস্ত দ্বিধা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হহয়ে অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করা এবং সরকারকে বাধ্য করা নির্বাচন দিতে”, বলেন মির্জা ফখরুল।

সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কোর্টে নিয়ে হেনস্তা করছেন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কাকে ভয় দেখাচ্ছেন? খালেদা জিয়াকে? যিনি ৯ বছর স্বৈরাচারের সাথে কোনো আপোষ করেননি। ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের সঙ্গে কোনো আপোষ করেন নি। করলে এতোদিন প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। যতই অত্যাচার নির্যাতন করবেন ততই জনগণের প্রতিরোধ আরো শক্তিশালী হবে।’

নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ওই আন্দোলন আমাদের রাজনৈতিক জীবনে অনেক গভীর দাগ কেটেছিলো। দুর্ভাগ্য আমাদের, তখন যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে, সেই স্বৈরাচারের পতন হয়নি। স্বৈরাচার এরশাদ নিজে টিকে আছেন, সেই সঙ্গে তাদের দোসর আওয়ামী লীগকে টিকে থাকতে সহায়তা করছে। এখানে স্বৈরাচার আর ফ্যাসিবাদী স্বৈরচার এক হয়েছে। তারা এক হয়ে গণতন্ত্রেকে পায়েল তলায় পিষে মারা চেষ্টা করছে।

নব্বইয়ের আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথের দিশারী অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নব্বইয়ের গণঅভ্যূত্থানকে যদি সঠিকভাবে বিশ্লেষন করতে পারি তাহলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভবিষ্যত পথ নির্ধারক করা অনেক সহজ হবে। এখনকার প্রেক্ষিতে নব্বইয়েল মুল বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে যদি আমরা এগোতে পারে সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।’

সভায় বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান বলেন, দেশে গণতন্ত্র আজ অবরুদ্ধ। মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত। কথা বলার অধিকার নেই। খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্য আজ ষড়যন্ত্র হচ্ছে, চক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা, মিথ্যা অভিযোগে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করবে! আমরা বলতে চাই, আজকের এই দিনে আরেকটি শপথ নিতে চাই—খালেদা জিয়াকে যদি কারাগারে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে বাংলাদেশে এমন কারাগার থাকবে না।’

আলোচনা সভায় তৎকালীন ছাত্রনেতাদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুর রহমান হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, আসাদুর রহমান খান, খন্দকার লুৎফর রহমান, কামরুজ্জামান রতন, অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত