ঢাকা, রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ অাপডেট : ২ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:৪৪

প্রিন্ট

দেরিতে আসায় খালেদা জিয়াকে ভর্ৎসনা আদালতের

দেরিতে আসায় খালেদা জিয়াকে ভর্ৎসনা আদালতের
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বলেছেন, ‘প্রতিদিন কোর্ট সাড়ে ৯টায় বসে। এভাবে দেরি করে ১২টায় আসা যাবে না। এভাবে দেরি করলে আমি কীভাবে আদালত চালাব? সময়মতো আসবেন। আমি সাড়ে ১০টায় আদালত শুরু করব।’
 
খালেদা জিয়ার আইনজীবী এসময় আপত্তি জানান। আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘১২টায় কেন কোর্টে উঠব বলেন?’ এরপর আজকের (বুধবার) মধ্যে এজে মোহাম্মদ আলীর যুক্তিতর্কের জন্য সময় বেঁধে দেন আদালত।  সময় বেঁধে দেওয়ায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে হট্টগোল শুরু করেন। হট্টগোল শুরু হলে আদালত আজকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেন। 

পরে আবদুর রেজাক খান আদালতের কাছে অনুমতি চান। তিনি বলেন, জন এফ কনেডি ও রাজিব গান্ধীর মামলা ৪০ বছর আগে শুরু হয়ে এখনও শেষ হয়নি। মাননীয় আদালত অনুগ্রহ করে আমাদের সময় দিবেন। এরপর ১২টা ১৩ মিনিটে যুক্তিতর্ক শুরু করেন এজে মোহাম্মদ আলী। 

এর আগে বুধবার জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে যান তিনি। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশে তিনি রওনা হন বলে জানান তার প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

খালেদা জিয়ার হাজিরা ঘিরে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আদালতের প্রধান ফটকে স্ক্যানার বসিয়ে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হয়। 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্কের জন্য ১০ ও ১১ জানুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে সপ্তম দিনের মতো যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে মামলা দুটির কার্যক্রম চলছে। গত ৪ জানুয়ারি বিএনপি প্রধান খালেদার পক্ষে তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। 

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন— খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। 

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। 

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন— মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত