ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫ অাপডেট : ৪৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:১৪

প্রিন্ট

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনশন, স্লোগানে প্রকম্পিত প্রেসক্লাব

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনশন, স্লোগানে প্রকম্পিত প্রেসক্লাব
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পূর্ব ঘোষিত অনশন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টার আগ থেকেই এ প্রতীকী অনশনে যোগ দিতে প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে নেতাকর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠছে প্রেসক্লাব এলাকা। 

অনশন কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ উপস্থিত আছেন।

এর আগে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে প্রেসক্লাবের সামনে জমায়েত হতে থাকে দলটির নেতাকর্মীরা। পরে সকাল ১০ টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরু হয়।

এদিকে বিএনপির অনশন কর্মসূচিকে কেন্দ্রকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছে। পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার ইহসান ফেরদৌস বলেন, জননগণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ও শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে বজায় থাকে, সে জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, পুলিশের দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা সেই ব্যবস্থা করব। কারণ প্রেসক্লাবের সামনের সড়কটি ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এটি বন্ধ হয়ে গেলে গোটা ঢাকা শহরে যানজট তৈরি হবে, তাই সেটি স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথেও সক্রিয় বিএনপি। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার তিন দফা স্থান পরিবর্তন করে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। এর আগে সোমবার একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট।

/কেএস/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত