ঢাকা, শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫ অাপডেট : ১৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৪:২৯

প্রিন্ট

গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক মারা হয়েছে: মির্জা ফখরুল

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়াপার্সন খালেদা জিয়াকে জামিন না দিয়ে কফিনে শেষ পেরেকটি মেরে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে এভাবে বন্দি করে রাখার উদ্দেশ্য গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে কবর দেয়া। গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেকটি মেরে দেয়া। দেশনেত্রীকে জামিন না দিয়ে কফিনে শেষ পেরেকটি মেরে দিয়েছে বলে আমি মনে করি। বিচারবিভাগের ওপর ভর করে আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের অধিকার হরণ করে নিচ্ছে- বলেও অভিযোগ ফখরুলের।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আজ এখানে বসেছি, অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ হয়ে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলার রায় হয়েছে। সেই রায়ের পরে আপিল করলেই সাথে সাথে জামিন হয়ে যায়। আর দেশনেত্রী এই মামলায় কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন, সেটা প্রমাণিত হয়েছে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টে আলোচনা হচ্ছিল এবং সরকার পক্ষের লোকেরা বলছিল 'অ্যাটর্নি জেনারেল' তাকে দুর্নীতির অভিযোগে সাজা দেয়া হয়নি। তাকে বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে সাজা দেয়া হয়েছে।  সেই মামলায় জামিন পাওয়াটা স্বাভাবিক ও তার আইনগত অধিকার। 

'খালেদা জিয়ার জামিন এবং তাকে কারাগার থেকে বের করে আনবার যে আইনী প্রক্রিয়া, সেই আইনী প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সচেতনভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। এই বাধা সরকার দিচ্ছে।'

হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চারটি কারণে জামিন দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই কারণগুলো খণ্ডন করা হয়নি এবং আপিল বিভাগেও এটা করা হয়নি। আর স্বাভাবিকভাবেই দেশের মানুষ ধরে নিয়েছিল, বেগম জিয়া জামিন পাবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ক্ষোভের সাথে বলছি, এই আদেশে সরকারে যে ইচ্ছা, সেই ইচ্ছারই প্রতিফলন হয়েছে। 

গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা শেষ দিকে চলে এসেছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র নেই বললেই চলে। সর্বোচ্চ আদালত মানুষের আশা-ভরসার স্থল, আমরা সেখানেও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি এবং বেগম খালেদা জিয়াও বঞ্চিত হয়েছেন।  

তিনি বলেন, গতকাল কোর্টের ভিতরে এবং চিফ জাস্টিসের এজলাসের বাইরে আমর্সসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরিভাবে অবস্থা নিয়েছিল। এটা আমরা দেখেছি। বাংলাদেশ কেনো, মনে হয় না পৃথিবীর কোনো আদালতে এমন নজির রয়েছে।

সরকার নীল-নকশা করেছে মন্তব্য করে মির্জা আলমগীর বলেন, এই নীল-নকশার মধ্যে আছে, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা  বিরোধী দল বলে কিছু থাকবে না এবং খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে তাদের নীল-নকশা অনুযায়ী একতরফা নির্বাচন দেখিয়ে আবার ক্ষমতায় যাওয়া। 

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরপর হিয়ারিং হবে। এভাবে ক্রমান্বয়ে সময় যাবে এবং তাকে আটকে রাখা হবে। সুতরাং আদালতের সামান্য সুবিধাও আমরা পাচ্ছিনা। 

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের অন্যায়, অত্যাচার এবং বিচার বিভাগকে ব্যবহার করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য সমস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে যে ভয়াবহ পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবার জন্য চরম চক্রান্ত চলছে। এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সমস্ত রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ভয়াবহ পরিস্থির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্যও আহ্বান জানাচ্ছি। 

তিনি বলেন, আমার মনে হয় সরকার চাচ্ছে আমাদের ভিন্ন পথে পরিচালিত করার জন্য। আমরা সহজে ভিন্ন পথে পরিচালিত হবো না। এব্যাপারে নিশ্চিত ও নিশ্চয়তা দিতে চাই। তাই আমি দেশের মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ করবো, এই সঙ্কট থেকে উদ্ধার পেতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করি। 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কেএস

আরও পড়ুন :

মঙ্গলবার সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া: ফখরুল

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত