ঢাকা, রবিবার, ২০ মে ২০১৮, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:৩৩

প্রিন্ট

‘পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান হয়েও মা বাবাকে কখনো ঈদের পোশাক কিনে দিতে পারিনি’

‘পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান হয়েও মা বাবাকে কখনো ঈদের পোশাক কিনে দিতে পারিনি’
জার্নাল ডেস্ক

কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে কি কারণে মারধর করতে বাধ্য হয়েছেন তা নুরুল আজিম রনি তার ফেসবুক টাইমলাইনে একটি হৃদয় বিদারক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রকাশ  করেন যা অনলাইনে ইতিমধ্যে বেশ আলোচিত হচ্ছে । 

তিনি লিখেন, 'ছাত্রলীগ সংগঠনকে বিদায় দিয়েছি। অনেকগুলো কলঙ্ক শরীরে লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতারা।আল্লাহ কে সাক্ষী রেখে বলছি, নিজের পরিবারের আয়ের উৎসের মূলধন ভেঙ্গে রাশেদ ভাইয়ের সাথে ভার্সিটি ভর্তি কোচিং এ যুক্ত হয়েছিলাম।আমার অর্থ আর্থসাত হয়েছে জেনেও ২০ লাখ টাকা উল্টো চাঁদাবাজি মামলা করালেন।

পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান হয়েও মা বাবাকে কখনো ঈদের পোশাক কিনে দিতে পারিনি। অথচ নিচের লেখাগুলো দেখলে বুঝবেন, রাশেদ ঈদের সময়েও কোন টাকা দিতে পারবেনা বলার পরেও চুপ ছিলাম। আমি মেনে নিয়েছি, বাবা হারাম টাকা খাওয়ার অনুমতি দেননি তাই তাদের ঈদ আনন্দ কি হয়েছিলো তা বলবোনা। রাশেদ কে বারবার পরিবারের সমস্যার কথা জানিয়ে আকুতি মিনতি করে বলতাম কেন আমাকে ডেকে এনে টাকা ধার নিয়ে বিপদে ফেলেছে ? কোচিংয়ের অংশীদার হয়েও লাভ লোকসান কেন জানি না?  তার উত্তরগুলো পড়লেই জানতে পারবেন।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা সৎ উপায়ে কত কষ্ট করে সংগঠন করে তা মাফিয়া নেতারা বুঝেনা। কারণ আমরা তাদের সম্তানদের মতো কোটি টাকার গাড়ি বিলাস করার সুযোগ পায়নি। রাশেদের শাস্তি তার বিবেক দিবে একসময়। কিন্তু মহামান্য অভিভাবক জেনে শুনে দুই মাস পূর্বের একটি ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে আমাকে চাঁদাবাজ বানিয়ে কি পেলেন? আমার মতো সাধারণ পরিবারের পেটে লাথি পড়েছে, এসবের বিচার প্রার্থনা করার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ সর্বশক্তিমান। হারামের টাকায় অন্ধ মানুষগুলোর জন্য কত মানুষ আজ নি:স্ব হয়েছে তার বিচার দুনিয়াতে না হলেও হাশরের ময়দানে পাবেন।'

রনি ইতিমধ্যে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ নিয়েছেন । তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসছে । তার নিজস্ব ইমেজের জন্য যাতে ছাত্রলীগের ক্ষতি না হয় সে জন্য তিনি ছাত্রলীগ থেকে নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ করেন । কিন্তু তার হাজারো ভক্তসমাজ এ পদত্যাগ কোনভাবেই মেনে নিচ্ছে না।

রনির পদত্যাগ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক কাবেরী আক্তার বলেন, 'রনির প্রতি যে আচরণ করা হলো ‘ধিক্কার জানাই ঘুনে ধরা রাজনীতির প্রতি। শোষনমুক্ত সমাজ গঠনই বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি। জামাতের ক্যাডার শিবিরের ভুয়া ডক্টর জাহেদ সাধারণ ছাত্রদের কাছ থেকে অবৈধ টাকা আত্মসাৎ করাতে ছাত্রনেতা রনি ক্ষিপ্ত হয়েছেন ছাত্রের অধিকারের পক্ষে। গত পাচঁ বছর আগে আমি নিজেই ভুয়া ডক্টর জাহেদের অবৈধ কলেজ ব্যবসা তুলবার কাজে চট্টগ্রাম দেবপাহাড় আবাসন স্থান থেকে এলাকার অভিযোগের ভিত্তিতে তিনটি কলেজ উচ্ছেদ করেছিলাম। এই কাজ করতে গিয়ে আমাকে ভুয়া ডক্টর জাহের কে কয়েকবার ধাওয়া করতে হয়েছিল। চলমান শ্রেনীকক্ষ থেকে প্রিন্সিপ্যাল ও ছাত্রদের বের করতে হয়েছিল। সাইনবোর্ড পেট্রোল দিয়ে পোড়াতে হয়েছিল। কলেজ ভাড়া দেয়া বাড়ির মালিক জনৈক ডাক্তারের স্টেথোস্কোপ ভাঙতে হয়েছিল। আমাদের গ্রেপ্তার করতে চকবাজার ও কোতোয়ালী থানার পুলিশ ও আনা হয়েছিল। জনগণের স্বার্থে আইন মাঝে সাঁঝে নিজের হাতেই তুলে নিতে হয়। আইন মানুষের সৃষ্টি, আইনের ঊর্ধ্বে মানুষ। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে জিতে যাওয়া ছিল আইন নয় মানুষের স্বার্থে বঙ্গবন্ধু চিন্তা করে ছিলেন বলেই। যে কথাটি বলছিলাম,সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়েছিলাম চাঁদার জন্য নয়। জনগণের কল্যাণে। আবাসিক এলাকাকে বাণিজ্যিক খাতে অপব্যবহার না করার জন্য। ব্যাঙের ছাতার মতো ভুয়া প্রতিষ্ঠান না হওয়ার জন্যও শিবিরের ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত না করার জন্য। পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ নেতৃত্ব আল্লাহই সৃষ্টি করেন। সবাই টাকার লিপ্সু নয়। ঠিক তেমনি রনি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।সাপকে লম্বা ও ব্যাঙকে আমরা শুধু বেটে বলিনা। প্রয়োজনে সাপের বিষদাঁত আমরা ভাঙতে জানি। রনি আমাদের দুর্দান্ত সহযোদ্ধা। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা রাজনৈতিক ভিংচামি ছাড়া আর কিছু নয়। রনি ও আমরা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থেকে বিতাড়িত হলেও সততা ও দৃঢ় কণ্ঠস্বরে রাজনীতি আমাদের কখনো ছাড়বেনা। কিসের দুঃখ তোমার রনি'

এনএইচ/

 

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত