ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫ অাপডেট : ৫ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ২১:০৯

প্রিন্ট

মুক্তিযুদ্ধকে ধ্বংস করাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদ্দেশ্য: নৌমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধকে ধ্বংস করাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদ্দেশ্য: নৌমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক

কোটা সংস্কার  আন্দোলনের উদ্দেশ্য হলো মুক্তিযুদ্ধকে ধ্বংস করা এবং বাংলাদেশকে ধ্বংস করে পাকিস্তানি ভাবধারায় এবং জঙ্গি রাষ্ট্রের সূচনা করা বলে মন্তব্য করেছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। 

বুধবার (১৬ মে) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ দাবি তুলে ধরেন। শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চ, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন, গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদ সংগঠনগুলোর আহ্বায়ক হিসেবে সরকারের কাছে এই দাবিগুলো ধরেন তিনি।

শাজাহান খান বলেন, ২০০৪ সালে প্রথম ছাত্রশিবির কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু করে। এরপর থেকে তারা এই দাবিকে নার্সিং করছে, আর আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম, অচেতন ছিলাম। সচেতন হতে পারিনি। এরপর ২০১৮ সালে এসে এ দাবিতে ছাত্র আন্দোলন হলো।

প্রকৃপক্ষে এটা কোটা সংস্কারের দাবি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোটা সংস্কারের দাবি হলে ভিসির বাড়িতে হামলা ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে স্লোগান, ফেসবুকে নানা বিরুপ ও অসম্মানজনক মন্তব্য এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করে পোস্টার কেন?

তিনি বলেন, এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য হলো মুক্তিযুদ্ধকে ধ্বংস করা এবং বাংলাদেশকে ধ্বংস করে পাকিস্তানি ভাবধারায় এবং জঙ্গি রাষ্ট্রের সূচনা করা।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে দু’টি শক্তি কাজ করছে। একটি হচ্ছে স্বাধীনার পক্ষের শক্তি। আরেকটি স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি। এই অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। আমাদের মাঠে নামতে হবে। মাঠ তৈরি করতে হবে। মাঠ তৈরি হলে সরকার বাস্তবায়ন করবে।

এ সময় তিনি ছয় দফা দাবি তলে ধরেন। দাবি গুলো হচ্ছে:
মেধার ভিত্তিতে চাকরি দেয়া হলেও জামায়াত-শিবির, যুদ্ধাপরাধী এবং স্বাধীনতা বিরোধীর সন্তানদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না পায় তা নিশ্চিত করা। যুদ্ধাপরাধীদের সব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি এবং জামায়াত-শিবির স্বাধীনতা বিরোধীদের পরিচালিত ব্যাংক, বিমা শিক্ষা, প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালসহ যেসব সম্পদ দেশকে অস্থিতিশীল করার কাজে ব্যয় করছে, সেসব প্রতিষ্ঠানগুলো বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের অধীনে নেওয়া।

জামায়াত-শিবির ও স্বাধীনতা বিরোধীরা, যারা সরকারি চাকরিতে থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ত ব্যাহত করছে ও সরকার বিরোধী নানা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা।

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্নকারি এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পের্কে কটাক্ষকারীদের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের ‘হলোকাস্ট অ্যাক্ট’ বা জেনোসাইড ডিনায়েল ‘ল’ এর আদলে আইন প্রণয়ন করে দেশদ্রোহী হিসেবে বিচারের ব্যবস্থা করা।

২০০১, ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে বিএনপি জামায়াতের নেতৃত্বে যারা পুড়িয়ে, পিটিয়ে কুচিয়ে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র শিক্ষাক, বৃদ্ধিজীবী, যুবক, শিশু, নারীসহ অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছে এবং আগুন সস্ত্রাস সৃষ্টি করে বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ধ্বংস করেছে, স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তাদের বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

কোটা সংস্কারের নামে হত্যার গুজব ছড়িয়ে উস্কানি দিয়ে দেশে নাশকতা, অরাজতকা নৈরাজ্য ও সস্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের যুগ্ম সচিব রোকেয়া প্রাচীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিচারপতি (অব.) শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, শিরিনা আখতার এমপি, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আনোয়ার হোসেন, বিজিএমইর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত, সেক্টরস ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব প্রমুখ।

আলোচনা সভায় ছয় দফা দাবির সঙ্গে সবাই ঐক্যমত পোষণ করেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতা বিরোধীদের সরকারি চাকরি থেকে বহিষ্কার, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নষ্টকারী এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটাক্ষকারীদের বিরুদ্ধে ‘হলোকাস্ট’ ল’র আদলে আইন প্রণয়ন করার আহ্বান জানান।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত