ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮, ৯ আষাঢ় ১৪২৫ অাপডেট : ৩৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৮, ২০:৪৯

প্রিন্ট

জনগণ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক মানবে না:ফখরুল

জনগণ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক মানবে না:ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমস্যার সমাধান না করলে এদেশের জনগণ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শনিবার রাজধানীর পূর্বাণী হোটেলে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতে গেছেন। খুব ভালো কথা। কবি গুরু বরীন্দ্রনাথের আশ্রম এবং তা যে স্বপ্ন ছিলো, সেই স্বপ্নের জায়গায়। আমাদের অনেকের শান্তিনিকেতন অত্যন্ত প্রিয় জায়গা। তিনি নিকেতনে গিয়ে বাংলাদেশ ভবন তৈরি করেছেন। সেটাও খুব ভালো।  তারপরে কি বলেছেন, আজকে পত্রিকায় দেখলাম। যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতে  মধ্যে সমস্যার কথা বলে আমি সম্পর্ক নষ্ট করতে চাই না। 

‘সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের জন্য কি আমাদের যে ৫৮ নদীর যে পানির সমস্যা। সেই সমস্যা কি তাহলে আমরা ভুলে যাবো? আমাদের কোটি কোটি মানুষ তিস্তা বা অনন্যা নদীর অববাহিকায় জীবন-যাপন করেছে, তারা সমাধান পাবে না? তাদের জীবন-জীবিকা কি জলাঞ্জলি হয়ে যাবে?’

আমরা অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক চাই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সম্পর্ক হতে হবে সম্পূর্ণ পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে। আমার স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অন্যের স্বার্থ পূরণ করার কাজ তো আমার নয়।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনি দাবি করছেন যে, আপনি সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। জনপ্রিয় হলে আমাদের দেশের সমস্যার কথা না বলে শুধু সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করবেন? এদেশের মানুষ এটা মেনে নিতে পারবে না। এদেশের মানুষ আশা করে যে, তিস্তা নদীর পানির হিসাব।

রোহিঙ্গা ইস্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমেই উচিত ছিলো, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত ও চিনের সাথে কথা বলা। কারণ প্রথমে তারাই এটার সমর্থন দিয়েছে। আমরা আশা করবো এবং জনগণ আশা করে, দেশের প্রতিনিধি যখন বাইয়ে যায়, তখন দেশের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে।

সরকার নতুন করে মাদকে বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ যুদ্ধে সরকারি হিসেব মতে, গত ৭-৮ দিনে ৫০ জনের অধিককে হত্যা করা হয়েছে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে। আমরা চাই মাদক নির্মূল হোক। কিন্তু মাদক নির্মূল করা শুধু অস্ত্র দিয়ে সম্ভব হতো তাহলে অনেক দেশেই হয়ে যেত। অনেকেই অস্ত্র দিয়ে মাদককে শেষ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেনি। সম্ভব হয় না। এর জন্য একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সেই সামাজিক আন্দোলনেই মধ্য দিয়ে জনগণই (যারা মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন করছে) তাদেরকে প্রতিহত করবে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, আগে নিজের ঘরটা সামলান না কেনো? আপনার ঘরেই তো বসে আছে, সব মাদকের সম্রাটেরা। যারা মাদক ব্যবসা করেন এবং তারা সব নিয়ে আসছেন। আমি নাম উল্লেখ করতে চাই না। আমরা সবাই জানি। একজন সংসদ সদস্য মাদকের সম্রাট হিসেবে পরিচিত। প্রত্যেকটা পত্রিকায় বড় বড় করে খবর এসেছে। সেই বিষয়ে তো এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বরং বলছে, প্রমাণিত হয়নি সে মাদকের ব্যবসা করেন।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে এ ইফতারের আয়োজন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি।

এনপিপি'র চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পারোয়ার, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিনের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, জাতীয় পার্টি (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিঙ্কন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল বোরহান, এলডিপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বিজেপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মতিন সাউদ, লেবার পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, (অপরাংশ) মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদি, এনডিপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, খেলাফত মজলিশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ গোলাম আজগর, ন্যাপ-ভাসানীর সভাপতি আজহারুল ইসলাম, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, এনপিপি'র প্রেসিডিয়াম সদস্য আ হ ম জহির হোসেন হাকিম, এম. অহিদুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফরিদউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কেএস/বিএএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত