ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ১৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:১১

প্রিন্ট

‘আওয়ামী লীগের নির্দেশে নির্যাতন করবেন না’

‘আওয়ামী লীগের নির্দেশে নির্যাতন করবেন না’
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের নির্দেশিত পথে নির্যাতন ও গ্রেপ্তার না করার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সামনে বিএনপির উদ্যোগে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এক প্রতীকী অনশনে তিনি এ আহ্বান জানান।

গত সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে সরকার ও পুলিশকে উদ্দেশ্য করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, আপনারা সজাগ হোন। জনগণের ওপরে আর এভাবে নির্যাতন করবেন না। পুলিশ ও সরকারের কর্মকর্তারা- আপনারা দেশের প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারি। আপনারা আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা- কর্মচারি নন। তাই আমি আপনাদের আহ্বান জানাবো, এদেশের আইনবিভাগ, বিচারবিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন- আপনারা আওয়ামী লীগের নির্দেশিত পথে আর নির্যাতন এবং গ্রেপ্তার করবেন না। আগামী নির্বাচনে আমরা বেগম জিয়াকে মুক্ত করে অংশগ্রহণ করবো। আপনারা যেমন আওয়ামী লীগের নির্দেশিত পথে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে কিন্তু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হিসেবে কাজ করতে হবে। তাই যাদের (সরকার) সময় শেষ তাদের কথা মত নির্যাতন চালাবেন না।

জাতীয় ঐক্যের যে আওয়াজ উঠেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেই ঐক্য একত্রিত হয়ে আগামী দিনে বেগম জিয়া ও গণতন্ত্র মুক্তি করি। বেগম জিয়ার নেতৃত্বে আগামী দিনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। এজন্য দেশের জনগণ ও সকল রাজনৈতিক দল আজকে ঐক্যমত হয়েছে। এছাড়া আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও ঐক্যমত হয়েছে যে, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। তাই বলতে চাই, বেগম জিয়া ও বিএনপিকে ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে পারে না। হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগেই হাসিনা সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে এবং নির্বাচনকালীন সময়ে সেনা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এজন্য জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি হয়েছে।

যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাদেরকে জাতীয় ঐক্যে একত্রিত হয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের জন্যও আহ্বান জানান তিনি।

৫ জানুয়ারির মত নির্বাচন করার জন্য আবারও সরকার নীল-নকশা করছে মন্তব্য করে মোশাররফ বলেন, সরকার যতই ষড়যন্ত্র করুন না কেনো, ৫ জানুয়ারি মত নির্বাচন বাংলাদেশে আর হবে না।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দেশে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না। আজকে গণতন্ত্র আওয়ামী বাক্সে বন্দি। তাই আজকে দেশে গণতন্ত্রকে মুক্তি করতে হবে। এজন্য প্রথমে বেগম জিয়ার মুক্তি প্রয়োজন। কারণ বেগম জিয়া ছাড়া গণতন্ত্রের মুক্তি হবে না।

অসুস্থ ব্যক্তিকে কোন বিচারের আওতায় আনা যায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা তার সুচিকিৎসার দাবি করছি। পাশাপাশি বেগম জিয়ার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান মোশাররফ।

পরে অনশনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ। বক্তব্য শেষে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পানি পান করে অনশন ভাঙান এমাজ উদ্দিন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সময় আসছে। সময় আর বেশি দেরি নাই। এমন কর্মসূচি দেয়া হবে, সেই কর্মসূচিতে সরকারের নৌকা পানিতে ভেসে যাবে। এসময় নেতাকর্মীরা স্লোগান শুরু করলে- তিনি বলেন, স্লোগান বন্ধ করুন। পরে দেখা যাবে- কী করেন।

তিনি বলেন, সরকার বেগম জিয়াকে জামিনে মুক্তি দেবে না। তাই আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি সম্ভব না। রাজপথেই তাকে মুক্তি করতে হবে। আর এখন আন্দোলন সময়। আর একমাস আছে। এসময়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। যাতে রাস্তায় নামলে বিজয় না পর্যন্ত আমরা বাড়িতে ফিরতে না পারি।

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য ড. মঈন খান বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে ব্যর্থ হয়ে পুলিশকে ব্যবহার করে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। কিন্তু তারা পারবে না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, যেকোন মুহুূর্তে আমরা বেগম জিয়াকে মুক্ত করবো। আর তাকে নিয়েই নির্বাচনে যাবো।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আইনের কথা বলে, জেলখানার বেগম জিয়াকে তিলে তিলে মারার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। কারণ সরকান তার সুচিকিৎসার কোন চেষ্টা করেনি। আদালতের প্রহসন বন্ধ করে বেগম জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানান তিনি।

দলের নেতাদের উদ্দেশ্য করে গয়েশ্বর বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ যদি নির্বাচনে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে তাদেরকে ঘরের মধ্যেই জবাব দেয়া হবে।

দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীনরা দেশকে বৃহৎ কারাগারে পরিণত করেছে। আমাদের নেতাকর্মীদের নামে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাই আমাদের চেষ্টা করতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করার। এজন্য আন্দোলন, সংগ্রাম ও লড়াইয়ের প্রস্তুতি জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুই ঘন্টা এই কর্মসূচি চলে। একই দাবিতে সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরে একযোগে অনশন করা হয় জানিয়েছে দলটি।

কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল ৯টা থেকেই নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশন মিলনায়তনে জড়ো হতে শুরু করেন। এসময় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশন মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলে। পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।

খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনশনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মো. শাহজাহান, সেলিমা রহমান, রুহুল আলম চৌধুরী, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমদ আযম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়নাল আবেদীন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ইমরান সালেহ প্রিন্স, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমসহ দলটির অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, কল্যাণ পার্টির সহসভাপতি শাহিদুল ইসলাম তামান্নাসহ কর্মসূূূচিতে প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রান্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে ৫ বছরের সাজায় খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত