ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫ অাপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:২১

প্রিন্ট

জামায়াতকে নিয়ে কৌশলী বিএনপি

জামায়াতকে নিয়ে কৌশলী বিএনপি
কিরণ সেখ

‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থাকলে ঐক্য নয়’ বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের দাবি শেষ পর্যন্ত মেনে নিচ্ছে বিএনপি। তাই জাতীয় ঐক্য থেকে জামায়াতকে বাদ দিতে কৌশল অবলম্বন করছে দলটি। কিন্তু ২০ দলীয় জোটের সাথে ঐক্য করতে হলে জামায়াতকে সাথে নিয়েই করতে হবে। তাই জোটকে সম্পূর্ণ ব্যবহার করবে না দলটি। জামায়াতকে বাদ দিতে কয়েকটি ধাপে জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়ার সাথে ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য দলগুলোকে সম্পৃক্ত করবে বিএনপি। এজন্য ২০ দলীয় জোটের প্রত্যেকটি দলকে আলাদাভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে যে, আপনাদের দলকে নিয়ে ঐক্যের সাথে সম্পৃক্ত হোন। আর এক্ষেত্রে জামায়াত তাদের দল নিয়ে আসতে পারবে না। ফলে বিএনপি তাদেরকে বাদ দিয়ে ঐক্য করেছে, একথা বলে জামায়াত বিএনপি কোন চাপ দিতে পারবে না। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে বলে গেছেন যে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির একটা বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমরা সেই ঐক্য গড়ে তোলার কাজ করছি। ২০ দলীয় জোট এই উদ্যোগকে উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, বিএনপি জামায়াতকে সরাসরি বাদ না দিয়ে একটু ঘুরিয়ে জাতীয় ঐক্য থেকে বাদ দিচ্ছে। ঐক্য মানে তো সকলের সাথে। এক্ষেত্রে ২০ দল একটি ইউনিট। আর বিএনপির সাথে জাতীয় ঐক্য হলে তাহলে জোটের সাথে কী হবে? এই প্রশ্ন থেকেই যায়। সুতরাং বিএনপি একটা গোজামিল দিতে চাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০ দলীয় জোটের এক শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বিএনপি জাতীয় ঐক্য বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের কাছে কোন কিছু পরিষ্কার করছে না। বিএনপি জোটের কাছে কোন কিছু আঁড়াল করছে।

গত রোববার জাতীয় ঐক্য নিয়ে ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর শর্তগুলোর কথা ২০ দলীয় জোটের নেতারা বৈঠকে উপস্থান করলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনারা ঐক্য নষ্ট করবেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতে জোটের নেতারা বলেন, আমরা তো জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু আমাদের তো জানায় অধিকার আছে।

জানতে চাইলে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতিক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ঐক্যটা বিএনপির সাথে এককভাবে কিংবা ২০ দলীয় জোটের সাথে হচ্ছে, এই বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। কারণ এক্ষেত্রে তিনটি বৃত্ত আছে। ড. কামাল হোসেন যোগ যুক্তফ্রন্ট। এটা হলো একটি বৃত্ত। আরেকটি বৃত্ত হলো-যুক্তফ্রন্ট যোগ বিএনপি যোগ ড. কামাল হোসেন। এরপরে বিএনপি যোগ ২০ দলীয় জোট। তবে এখানে শর্ত আছে। কারণ জামায়াতকে নিয়ে ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর আপত্তি আছে। কিন্তু ২০ দলীয় জোটের সাথে ঐক্য করতে হলে জামায়াতকে সাথে নিয়েই করতে হবে। সেক্ষেত্রে ২০ দলীয় জোট সম্পূর্ণ ব্যবহার করা হবে না। কয়েকটি ধাপে এটা হতে পারে। যেমন ২০ দলীয় জোটের প্রত্যেকটি দলকে আলাদাভাবে বলা হবে যে, আপনাদের দল নিয়ে আসেন। এটা নিয়ে জোটের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, জাতীয় ঐক্য বিএনপির সাথেও হচ্ছে না। এটা একটি স্বতন্ত্র মোর্চা হচ্ছে। যেমন ২০ দলীয় জোট এদিকে, যুক্তফ্রন্ট একটি জোট, বামদলগুলোর একটি জোট। এই রকম একাধিক জোট রাজনীতিতে থাকবে। আর কয়েকটি ইস্যুতে একত্রিতভাবে আমাদের আন্দোলন থাকবে। তবে এককই প্লাটফর্ম থেকে এই আন্দোলন হবে না। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন যেমন হয়েছে, এদিকে বামদল, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ৮ দল এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ৭ দল। এবারের আন্দোলনটাও ওই রকমই হবে।

এবিষয়ে ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ঐক্যের প্রক্রিয়াকে আমরা নিঃশর্তভাবে স্বাগত জানিয়ে এবং সমর্থন দিয়েছি। তবে জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত জোটের বৈঠকে আসেনি। আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত