ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ অাপডেট : ২ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৩২

প্রিন্ট

১৪ দিনে সাড়ে তিন হাজার কর্মী গ্রেপ্তার, অভিযোগ বিএনপির

১৪ দিনে সাড়ে তিন হাজার কর্মী গ্রেপ্তার, অভিযোগ বিএনপির
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ১৪ দিনে ঢাকাসহ সারাদেশে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে ৩ হাজারের বেশি। আসামি করা হয়েছে নামে-বেনামে প্রায় ৩ লাখ নেতাকর্মীকে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের করার সংবাদ পাওয়া গেছে।

গতকাল সারাদিনে পুলিশ মামলা হামলার বন্যা বইয়ে দিয়েছে- বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, অসাংবিধানিকভাবে কারাগারে আদালত বসিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মামলার রায় চায় রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে বলেছে ‘যেহেতু খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চাচ্ছেন না। তাই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করুন’। আদালতের কার্যক্রম শেষ করতে লিখিত আবেদনও দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রের অবৈধ কর্তৃপক্ষ আওয়ামী সরকার চক্রান্তমূলকভাবেই দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে সাজা দিয়েছে সেটি আবারও প্রমাণ করলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ মন্তব্য করে রিজভী বলেন, বেগম জিয়া হাত-পা নাড়াতে পারেন না। হাঁটাচলা করতে তার মারাত্মক অসুবিধা হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন-তার বাম হাত ও পা প্রায় অবশ হয়ে পড়েছে। গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালতে যেতে পারবেন না। বিএনপি চেয়ারপার্সন সেকথাটিই বলেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ জোর করে আদালতকে ব্যবহার করে বিচারকার্য ছাড়াই রায় দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এটি সম্পূর্ণরুপে ন্যায় বিচারের পরিপন্থী, অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। প্রতিহিংসার বিচার চরিতার্থ করতেই তাড়াহুড়ো করার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষের এই চাপ সরকারের নির্দেশেই হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন গুরুতর অসুস্থ, সেকথাটি আদালতকেই তিনি বলেছেন, কিন্তু আদালত তো তার চিকিৎসার ব্যাপারে কোন নির্দেশনা দিলেন না। কারণ সেই আদালত সরকারের হুকুমের বাইরে যেতে পারবেন কী না সেটি নিয়ে জনগণ সন্দেহ পোষণ করে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, পোলিও টিকা খাওয়ানোর একটি শ্লোগান আমরা অনেকদিন যাবৎ শুনে এসেছি ‘বাদ যাবে না একটি শিশু’। এখন সরকার এই শ্লোগানটি ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করছে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর। অর্থাৎ ‘মামলা-হামলায় বাদ যাবে না একজনও বিএনপি নেতাকর্মী’। দেশে এখন মানুষ নিজের ছায়াকেও ভয় পাচ্ছে। মনে হয়-দেশের প্রতিটি মানুষকে কেউ না কেউ অনুসরণ করছে, গতিবিধি লক্ষ্য করা হচ্ছে। আওয়ামী সরকার ভীরু ও কাপুরুষ, তাদের কোন সাহস নেই মন্তব্য করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের আছে শুধু ভয় ও আশঙ্কা। যদি সাহস থাকতো তবে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে অবাধ ও সুষ্ঠূ নির্বাচনের পথ সুগম করার জন্য নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতেন। কিন্তু জনবিচ্ছিন্ন হওয়াতে অপরিণামদর্শী স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার এখন হিতাহিত জ্ঞানশুণ্য। যেকোন মূহুর্তে পিছলে যাবার ভয়ে তারা পুলিশের ওপর নির্ভর করে মামলা হামলা ও গ্রেপ্তরের শৃঙ্খলে জনগণকে বন্দী করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। জনগণ মনের ক্ষোভ চেপে রাখতে অধৈর্য হয়ে উঠেছে, তাই সর্বত্র প্রতিবাদের সোচ্চার ধ্বণী উচ্চারিত হচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে ধেয়ে আসা জনগণের ঘুর্ণিঝড় রুদ্ররুপ ধারণ করবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে জনবিস্ফোরণ ঠেকানো যাবে না।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত