ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:১৫

প্রিন্ট

যেসব কারণে ভাঙলো ২০ দলীয় জোট

যেসব কারণে ভাঙলো ২০ দলীয় জোট
জার্নাল ডেস্ক

বিএনপি যখন নতুন জোট গড়ে সরকারকে চাপে ফেলতে চাইছে, তখন তার আগের নেতৃত্বাধীন জোট ২০ দলেই ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। বিএনপির নতুন বন্ধুদের বক্তব্য ও আচরণে ক্ষোভ জানিয়ে ২০ দলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেছে বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনিডিপি।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেন ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি।

জোট ভেঙে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে ন্যাপ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি সকল বিষয় জোটের শরিকদের সকল সময় অন্ধকারে রাখার অপচেষ্টা গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ২০ দলের শরিক হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনিডিপি সাংবিধানিক, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির স্বার্থে আজকে এই মুহূর্তে জোটের থেকে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করছে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আচরণে ক্ষুব্ধ ন্যাপ নেতা বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট গঠন নিয়ে বিএনপি ও তাদের নতুন বন্ধুরা যা করেছেন তা দুঃখজনক।’

গত ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য নিয়ে গঠন হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপির আশা, এই ঐক্য গড়ে তারা সরকারকে চাপে ফেলতে পারবে। তবে এই ঐক্য নিয়ে বিএনপির আগের জোট ২০ দলেই নানা মত ছিল। যার ফলে সোমবার রাতে ২০ দলের বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নানা প্রশ্নের মুখে পড়েন।

বিএনপির ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার বিষয়ে ২০ দলের শরিকদেরকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গানি। বলেন, ‘এসব বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক বিএনপি সব সময়ই তার শরিকদের অন্ধকারে রাখার অপচেষ্টা গ্রহণ করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রতীয়মান। সেই বিষয়েও বিএনপি তার শরিকদের পরিষ্কার অবস্থা ব্যাখ্যা করে না। জোটের বিভিন্ন বৈঠকে জোট শরিকদের মনোনয়নের বিষয়টিও সামনে আনতে চাইলেও বিএনপি তা কৌশলে এড়িয়ে যায়।’

গানি বলেন, ‘সম্প্রতি বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত থাকলে আমরা তা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যের নামে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ ঘটে। দুঃখজনক হলেও সত্য, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করতে গিয়ে বিএনপি এবং তার নতুন মিত্ররা যে সব ঘটনার অবতারণা করেছে, তা সত্যিই হতাশাজনক।’

‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট নায়কদের আচরণ সমগ্র জাতির সঙ্গে আমাদেরকেও হতাশ করেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ ধরনের আচরণ রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। ড. কামাল হোসেন, আ স ম আব্দুর রব বা বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে জাতি এ ধরনের আচরণ আশা করে না।’

গানি বলেন, ‘বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপি সাংবিধানিক এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে। শুধুমাত্র ক্ষমতার পালা বদলের নামে কোন অশুভ শক্তির ক্ষমতা গ্রহণ করে আবার দেশকে রাজনীতিশূন্য করার কোনো অপচেষ্টায় অংশগ্রহণ করুক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমরা তা প্রত্যাশা করি না।’

‘এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ২০ দলের শরিক হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনিডিপি সাংবিধানিক, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির স্বার্থে আজকে এই মুহূর্তে জোটের থেকে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করছে।’

জোট ভাঙার সবচেয়ে বড় যে কারণটা সেটা হল, বিশেষ করে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনকে এই ঐক্যে রাখার বিষয়টি মানতে পারেননি শরিক দলের একাধিক নেতা। এ ব্যাপারে ন্যাপ নেতা গানি বলেন, ‘এক এগারোর এর উপদেষ্টা যখন বিএনপির পাশে বসে থাকে তখন আমরা ব্যাথিত হই।’

তিনি বলেন, ‘এই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে যাদের অগ্রণী ভূমিকা লক্ষ্য করেছি, তাদের অনেকেই এক এগারোর সরকার প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। তারা অনেকেই মাইনাস টু ফর্মুলায় জড়িত ছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে,সে মামলার নায়ক ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন সরকারের উপদেষ্টা যখন বিএনপির পাশে থাকে তখন আমরা ব্যথিত হই, আতঙ্কিত হই। এক এগারোর কুশীলবদের বিএনপি নেতাদের পাশে অবস্থান করতে দেখি তখন আতঙ্কিত হই এই ভেবে যে শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা কি আরেকটি অগণতান্ত্রিক ও অশুভ শক্তিকে ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্রের অংশ হতে যাচ্ছি কি না?’

‘মাইনাস টু ফর্মুল বাস্তবায়নকারীরা যখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে তখন আমরা মনে করি বিএনপি তার সকল নৈতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়েছে।’

ওয়াইএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত