ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ৪৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:০২

প্রিন্ট

‘৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে জাপা’

‘৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে জাপা’
জার্নাল ডেস্ক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। এখন থেকেই যাত্রা শুরু হোক। আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবো। আমরা ৩০০ আসনেই নির্বাচন করতে চাই।’

শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, ‘জীবনের শেষ সময়ে এসে পড়েছি। এই নির্বাচন আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। এখন আমার শুধু একটাই ইচ্ছা, মরার আগে আমি দেখে যেতে চাই, জাতীয় পার্টি শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে। দেখে যেতে চাই, জাতীয় পার্টি আবারও জেগে উঠেছে। জাতীয় পার্টি জনগণের দল হয়েছে, তারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। এটাই আমার শেষ ইচ্ছা।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সবসময় নির্বাচন করেছে। আজও আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। অবাধ নির্বাচন চাই। নিশ্চয়তা চাই, আমরা যারা সংসদে আছি সকলের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীর সরকার গঠন করতে হবে।’

সমাবেশে এরশাদ আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। এখন থেকেই যাত্রা শুরু হোক। আমরা ৩০০ আসনে মনোনয়ন দেবো। নির্বাচন যারা করতে চাও, এগিয়ে আসো। এ মাসের মধ্যেই পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করা হবে। তৃণমূলের সমর্থনে মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

সাধারণ জনগণের উন্নয়নের জন্য যা যা করা লাগে জাতীয় পার্টি তা করবে উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘শেষ কথা, নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আমি নতুন করে ১৮ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আমরা নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চাই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই। শিক্ষা পদ্ধতি সংস্কার চাই। স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ চাই। শান্তির রাজনীতি চাই। সড়ক নিরাপত্তা চাই।’

এরশাদ বলেন, ‘এত লোক হয়েছে, আশা করিনি। সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’

এ সময় সমাবেশে নেতাকর্মীরা পোস্টার ফেস্টুন উঁচু করে স্লোগান দিতে থাকেন। তখন এরশাদ তাদের পোস্টার ফেস্টুন নিচে নামাতে বলেন। কিন্তু কেউ পোস্টার ফেস্টুন নিচে না নামালে এরশাদ ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘কেউ কথা শোনে না। অনেক কথা বলার ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হয়ত আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে অনেক সংশয় আছে। হবে কিনা জানি না। একটা দল ৭ দফা দফা দিয়েছে, এগুলো এই সংবিধান অনুয়ায়ী মানা সম্ভব না। তবে আমরাও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনকালীন সরকার চাই।’

সমাবেশে সিনিয়র কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় যাবই যাব। এজন্য দলকে সংগঠিত করতে হবে। যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে, জাতীয় পার্টিই সেটা ধরে রাখতে পারবে।’

সম্মিলিত জাতীয় জোটের এ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সালমা ইসলাম, ফয়সল চিশতী, আবু হোসেন বাবলা, খেলাফত মজলিশের জোবায়ের আহমদ আনসারী, ইসলামিক ফ্রন্টের এমএ মান্নান, আবু সুফিয়ান, বিএনএর সেকান্দর আলী প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন, জাপার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু, কাজী ফিরোজ রশিদ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মাহফুজুল হকসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।

জাতীয় জোটের এ সমাবেশে আশানুরূপ লোক সমাগম হলেও ছিল না কোনো শৃঙ্খলা। অনুষ্ঠানস্থলে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। এতে একজন আহতও হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে সকাল থেকেই ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে মিছিল নিয়ে এসে সমাবেশস্থলে সমবেত হয় জাপা ও জোটের নেতাকর্মীরা। সকাল ১০টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পৌনে ১১টায় শুরু হয়।

ওয়াইএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত