ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:১৬

প্রিন্ট

‘খালেদাকে মুক্তি দিয়ে আলোচনায় বসুন’

‘খালেদাকে মুক্তি দিয়ে আলোচনায় বসুন’
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মানুষের কল্যাণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় গণতান্ত্রিত পার্টি আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল কর’ শীর্ষক এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিরোধী দল কথা বলতে গেলেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মত মানুষ না কী রাষ্ট্রদ্রোহিতা করছেন। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। সরকারকে বলতে চাই, এসব না করে দয়া করে সোজা রাস্তায় আসুন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তার সঙ্গে আলাপ করুন। বিরোধী দলের সাথে আলাপ করুন। কিভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, তার পথ বের করুন। এছাড়া অন্য কোন পথ নেই, বিকল্প নেই। আমরা বারবার বলছি, এখনও বলছি- আসুন দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন। সকল বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের সাথে বসুন, কথা বলুন। দেশের মানুষের কল্যাণ ও শান্তি এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধান করুন। অন্যথায় এর সমস্ত দায়-দায়িত্ব আপনাদেরকেই বহন করতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইসি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে। তার অবস্থা কী? ইসির কমিশনার এজন্য প্রকাশ্য বলে দিয়েছেন যে, আমি নির্বাচন সুষ্ঠু করবার জন্য যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছিলাম, সেই প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে না। আরেকজন বলছেন, অসাংবিধানিক। নির্বাচন কমিশন তো নিজেরাই বিভক্তি হয়ে পড়েছে।’

নির্বাচন কমিশন একটাই থাকতে হবে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, তিনি প্রধান বটে। কিন্তু সবার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। কিন্তু এখানে (ইসি) আজকে যে সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। এই সঙ্কটটাই হচ্ছে রাষ্ট্রের সঙ্কট। জোর করে তাদেরকে দিয়ে একটা দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য সকল প্রকার আইন-কানুন তৈরি করে ৫ জানুয়ারির মত নির্বাচন করে একটা দলের ক্ষমতায় যাওয়া...।’

‘এটা কখনো নির্বাচন হতে পারে না। আমরা মনে করতে পারি না। যদি করে তাহলে তারা সংবিধানের বিরুদ্ধে কাজ করবে। আর জনগণের কাছে যে শপথ তারা নিয়েছেন, সেই শপথের বাইরে তারা চলে যাবে। নিঃসন্দেহে একটা অপরাধ হবে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে বলে এসেছি, এই ইসি যোগ্য নয়। এরা কাজ করতে পারবে না। নির্বাচন করতে পারবে না।’

‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নাই’ মন্তব্য বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, সব মন্ত্রণালয়গুলো তাদের অধিনে থাকবে। যখন যাকে ইচ্ছে তাকে নিতে পারবে এবং প্রয়োজনে যাকে ইচ্ছে তাকে বদলি করতে পারবে। কিন্তু পুরোটাই নির্ভর করতে হয় সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারের ওপরে। যে সরকার ইতিমধ্যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করেছে। সুতরাং সেই সরকারের ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা অসম্ভব।’

মির্জা আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সচিবের কথা শুনলে মনে হয় তিনিই প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে মনে হয়, সবচেয়ে অসহায় ব্যক্তি। সকালে একটা বলেন, আর বিকেলে আরেকটা বলেন। এই ইসির অধিনে কিভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে?’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা ইসিতে গিয়ে বলেছিলাম, নির্বাচনের আগে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করুন। আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, আমার কোন এখতিয়ার নেই। আপনার এখতিয়ারটা কী? আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসে দেওয়া আপনার এখতিয়ার?’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কোন বিভ্রান্তের মধ্য কেউ যাবেন না। গোটা বাংলাদেশের মানুষ আজকে ঐক্যবদ্ধ। তারা এই সরকারের পরিবর্তন চায়। আর সেই পরিবর্তনটা চায় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। সুতরাং নির্বাচন অবশ্যই সকলের কাছে অংগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

ফখরুল বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট ২৩ তারিখ একটা জনসভা করতে চেয়েছিল। বলছে, নাশকতা হতে পারে। তাই অনুমতি দেওয়া যাবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, চরমোনাই পীর সাহেবের একটি সভায় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজকে রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে সরকারি টাকায় গাড়ি-ঘোড়া নিয়ে জাতীয় পার্টি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করছে!’

আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি তাসমিয়া প্রধানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার সহসভাপতি আবু মোজাফফর মো. আনাছ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ জামাল উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কেএস/ওয়াইএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত