ঢাকা, রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ অাপডেট : ২ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:৫৪

প্রিন্ট

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বের মানুষের সুখ-শান্তি, কল্যাণ-সমৃদ্ধি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও মহান আল্লাহর রহমত কামনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাবলিগ জামাতের সর্ববৃহৎ আয়োজন বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও আরবি ও বাংলায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগের অন্যতম শীর্ষ মুরব্বি কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ জোবায়ের।

কয়েক বছর ধরে ভারতের মাওলানা সাদ ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করলেও এবার তার পরিবর্তে বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা জোবায়ের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। প্রথম পর্বেও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেছিলেন তিনি। ইজতেমা ময়দানে বিদেশি নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষভাবে স্থাপিত মঞ্চ থেকে রবিবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে মোনাজাত শুরু করেন তিনি।

দীর্ঘ ২০ মিনিট আরবি ও বাংলায় মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা জোবায়ের। মোনাজাতের পাঠ করা কুরআনের আয়াত ও হাদিসের মধ্যে রহমত কামনা, ক্ষমা প্রার্থনা ও মুসলিম ঐক্যের আয়াত-হাদিসগুলোই বেশি ছিল। বিশ্ব ইজতেমার ময়দান ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাগানো মাইকে সেই ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ছিল তুরাগ নদের চারপাশের এলাকায়।

মোনাজাতে ঐক্যের পাশাপাশি দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা ও সারা বিশ্বের মুসল্লিদের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। বেকারদের চাকরি, ঋণমুক্তি, অসুস্থ, বিবাহযোগ্যদের বিয়ের জন্য দোয়া, ইজতেমার ব্যবস্থাপনায় সরকারের সহযোগিতার জন্য কল্যাণ কামনা, বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্যও দোয়া করা হয়।

এ সময় মোনাজাতে অংশ নেয়া কয়েক লাখ মুসল্লি নিজেদের আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বিপদ থেকে হেফাজতের জন্য আল্লার কাছে প্রার্থনা করেন। মুসল্লিদের আমিন আমিন ধ্বনিতে তুরাগ তীর এলাকায় অন্যরকম ধর্মীয় আবহ সৃষ্টি হয়।

মোনাজাতের আগে বাংলাদেশের আরেক মাওলানা আব্দুল মতিন হেদায়েতি বয়ান পেশ করেন। এছাড়া ছয় উসুলের পাশাপাশি ঈমান ও আমলের ওপর হেদায়েতি বয়ান পেশ করা হয়। ইসলামের পথে চলার জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যও দেয়া হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা আগ্রহ ভরে বক্তব্য শোনেন। বয়ান শেষে শুরু হয় মোনাজাত।

মোনাজাত শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই লাখো মুসল্লির কলরব থেমে যায়। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। মানুষ যে যে ছিলেন সেখান থেকেই মোনাজাতে শরিক হন। ধনী-গরিব, মালিক-শ্রমিক, শিশু-বৃদ্ধ-নারীসহ সব বয়সী কয়েক লাখ মানুষ আল্লাহর দরবারে দু’হাত তোলেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চান। এবং আত্মশুদ্ধি, দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত, বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য, শান্তি, দেশ ও বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনা করেন।

মোনাজাতে মুসলমানের সঠিক পথে চলার তৌফিক, ইসলাম প্রচারে মুসলমানদের নিয়োজিত হওয়া, ইহকাল-পরকালের শান্তি কামনা করে আল্লাহর কাছে আকুতি-মিনতি করেন মুসল্লিরা।

এর আগে শীতকে উপেক্ষা করে ইজতেমা ময়দানের দিকে ছুটে আসে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। মানুষের ভিড়ে রেডিসন, কুড়িল ফ্লাইওভার, খিলক্ষেত, উত্তরা, জসিমউদ্দীন, আবদুল্লাহপুর, চৌরাস্তা, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল শিথিলতা করা হয়েছে। যানবাহন না পেয়ে অধিকাংশ মুসল্লি পায়ে হেঁটেই রওনা হন।

ভোরের আগেই ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেক মুসল্লি ইজতেমার আশপাশের সড়কে অবস্থান নেয়। তারা চটি, ত্রিপল, পত্রিকা বিছিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন। মানুষের এই ঢল আব্দুল্লাপুর-উত্তরা ছাড়িয়ে যায়। এছাড়া মাঠ, পথ, বাড়ির ছাদ, তুরাগের দুই তীর, নৌকা, যানবাহনসহ যে যেখানে পেরেছেন মোনাজাতে শরিক হয়েছেন। পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীও মোনাজাতে অংশ নিয়ে চোখের পানি ফেলে আল্লাহার কাছে রহমত প্রত্যাশা করে দোয়া করেছেন।

উল্লেখ্য ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারি টঙ্গীর তুরাগ তীরে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

/এসবি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত