ঢাকা, রবিবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ৮ মাঘ ১৪২৫ অাপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:৩৮

প্রিন্ট

চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধির সুবিধা-অসুবিধা

সৈকত তালুকদার

কিছুদিন ধরেই চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছেন একদল চাকরীপ্রার্থী। আন্দোলনকারী থেকে শুরু করে অনেকেই ঠিকমত জানেন না চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি করলে কী কী সুবিধা বা অসুবিধা হতে পারে। এই লেখায় তাদের জন্যই আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বয়স বৃদ্ধির সুবিধা ও অসুবিধাগুলো তুলে ধরলাম।

সুবিধাঃ

ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যাই বলেন চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধির সুবিধা একটাই। সেটা হলো সেশনজট (যদিও এখন যেকোন ভার্সিটিতেই সেশনজট অনেক অনেক কম), ইয়ার গ্যাপ (আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার) ইত্যাদির জন্য কয়েক বছর হারানোর কারণে যারা চাকরির প্রস্তুতি ঠিকমত নেওয়ার সময় না পাওয়ায় চাকরিতে প্রবেশের বয়স পেরিয়ে গেছে কিন্তু চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেননি (একই ক্লাসের অনেকেই কিন্তু অনেক আগেই চাকরি পেয়েছেন) তারা চাকরির প্রস্তুতি (এই বয়সে আর প্রস্তুতি) নিয়ে চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

অসুবিধাঃ

এক) বয়স পার হওয়ার কারণে যারা বিয়ে করে (না করাও থাকতে পারেন) ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোন পেশা বেছে নিয়েছেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর কথা শুনে তারাও সবকিছু বাদ দিয়ে চাকরির জন্য মরিয়া হয়ে যাবেন। ফলে একদিনেই বেকারত্ব বেড়ে যাবে অনেক।

দুই) চাকরি না পেয়ে যারা অন্য পেশায় গেছেন তারা এতদিনে চাকরির গুরুত্ব খুব ভালোভাবে বুঝে গেছেন। তাই তারা তাদের জমানো, জমি বিক্রি বা ব্যবসার টাকা দিয়ে হলেও একটা চাকরি পেতে চাইবে। আমার কথা ফাউল মনে হতে পারে। কিন্তু আপনার চারপাশের চাকরিপ্রার্থীদের দিকে একটু খেয়াল করুন। যাদের বয়স ৩০ এর কাছাকাছি, টাকা দিয়ে জব পাওয়ার জন্য তারাই দৌড়ঝাঁপ করে বেশি। ফলে নিয়োগে টাকার দৌরাত্ম্য বেড়ে যেতে পারে।

তিন) এখনকার থেকে পরীক্ষার্থী হবে অনেক বেশি। এতগুলো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাও একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ।

চার) যেকোন কাজ যখন একেবারে না করলেই না ঠিক সেই মুহূর্তে করা আমাদের অভ্যাস। চাকরির বয়স বৃদ্ধি করলে যেহেতু রয়ে সয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করলেও চাকরিতে প্রবেশের বয়স কমপক্ষে ৭ বছর থাকবে, সেজন্য সবকিছুতেই একটা ঢিলেঢালা ভাব চলে আসবে। ফলে ক্রমহ্রাসমান সেশনজট ক্রমশ বাড়বে।

পাঁচ) ৩০ বছর পার হওয়ার কারণে অনেকেই জব পাচ্ছেন না সেটা যেমন সত্য চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করলেও অনেকে জব পাবেন না এটাও ধ্রুব সত্য। তাই ৩১ বছর যাদের বয়স তাদের এখন যেই অবস্থা বয়স ৩৫ করলে চাকরি না পাওয়া ৩৬ বছর বয়েসিদের অবস্থা হবে তাদের চেয়ে আরও খারাপ।

ছয়) একসাথে একই পদে যোগদানকৃত একজন ২৪ বছরের কলিগের সাথে ৩০ বছরের কলিগের মেলামেশায় একটু হলেও সমস্যা হয়। বয়স বাড়ালে ২৪ বছরের সাথে ৩৫ বছরের কলিগের মেলামেশা আরও জটিল হবে। বলে রাখা ভালো, প্রমোশনপ্রাপ্ত সিনিয়র ও একই ব্যাচের সিনিয়র একসাথে গুলিয়ে ফেলবেন না।

সাত) অনেকেই আছেন ৩০ বছর পর্যন্ত চাকরির জন্য ট্রাই করে তারপর বিয়ে করেন। বয়স বাড়ালে সেটা ৩৫ বছরে চলে যাবে। আবার বিয়ে করার সময় উনি ২৩ বছরের এমনকি আরো কম বয়সের পাত্রী চাইবেন। ধরে নিলাম তিনি ৩৫ বছরের মেয়েকেই বিয়ে করবেন। সেক্ষেত্রে তাদের বাবা-মা হওয়ার চান্স খুবই কম।

আট) বয়স ৩০ থাকার কারণে কোন প্রতিষ্ঠান লোক খুজে পাচ্ছেনা এমন ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি। তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ বছরের একজনকে না নিয়ে কেন ৩৫ বছরের একজনকে নেবে? ২৫ বছরের একজনকে নিলে প্রতিষ্ঠানটি ৩৫ বছরের একজনের চেয়ে ১০ বছর বেশি সার্ভিস পেল।

নয়) বয়স বাড়ালে ২৯ বছরে চাকরি পাওয়া একজন ব্যক্তি আবারও চাকরি চেঞ্জ করার জন্য লেগে থাকবে। ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দশ) সর্বোপরি ৩৫ বছরেও চাকরি না পাওয়া ছেলে-মেয়েরা পারিবারিক, মানসিক ও পারিপাশ্বিক চাপে প্রচন্ড হতাশায় নিমজ্জিত হবেন এমনকি আত্মহত্যাও করতে পারেন।

পরিশষে বলব, আপনি চাকরি পাননি এটা আপনার নিজের দুর্বলতা - এই কথাটা মেনে নিয়ে অন্যকিছু করার চেষ্টা করুন। আপনার দুর্বলতা ঢাকতে আপনি নতুন নতুন সমস্যার জন্ম দিয়ে দেশকে পিছিয়ে না দিয়ে নতুন কিছু করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

লেখক: ৩৬ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত ও সিনিয়র অফিসার, বিকেবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত