ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫ অাপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০৭

প্রিন্ট

শিক্ষকের কি এমন দরকার ছাত্রকে পেটানোর?

শিক্ষকের কি এমন দরকার ছাত্রকে পেটানোর?
ঝিনাইদহের কাঞ্চননগর মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অংক শিক্ষক কবীর উদ্দিন।
আরিফুজ্জামান আরিফ

শিক্ষককে যদি ছাত্র শাসন করার কারণে জেলে যেতে হয়। তবে প্রতিটি পিতাকেও তার সন্তানকে শাসন করার কারণে জেলে পাঠানো উচিত।

“ছাত্রকে পেটানোর অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার” এমন খবরে ধিক্কার জানাই এই সভ্য সমাজকে। খবরে প্রকাশ, ঝিনাইদহের কাঞ্চননগর মডেল স্কুল এন্ড কলেজের এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে কবীর উদ্দিন নামের এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আটক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত মঙ্গলবার ঝিনাইদহ জেলা শহরের কাঞ্চননগর মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অংক শিক্ষক কবীর উদ্দিন ৪র্থ শ্রেণির সাইমুন হক ওরফে ইফতি নামের এক ছাত্রকে কাঠের স্কেল দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

শিক্ষক পিতার মত। আর অবশ্যই পিতার অধিকার আছে সন্তানকে শাসন করার। সন্তান যত বড় অন্যায় করবে, পিতা ততবড় শাস্তি দেন। শুধুমাত্র সন্তানকে সুপথে ফেরানোর জন্য, মানুষ বানানোর জন্য।

একজন শিক্ষকের কি এমন দরকার থাকতে পারে, ছাত্রকে পেটানোর? একজন ছাত্র ভালো রেজাল্ট না করলে বা মানুষের মত মানুষ না হলে, ওই শিক্ষকের কি ক্ষতি হতো? বলুন শুনি।

অন্যায় না করলে, পিতা যেমন সন্তানকে প্রহার করেন না। তেমনই শিক্ষকও এমনি এমনি গায়ে হাত তোলেন না। স্কুল জীবনে আমরাও পিতাসম শিক্ষকের হাতে বেত-লাঠির মার খেয়েছি। আর এই মারকেই জীবনের আশির্বাদ হিসেবে নিয়েছি। আমিও এই কাঞ্চননগর মডেল স্কুলের ছাত্র। ২০০৩ এর ব্যাচ।

স্কুল জীবনে বাদরামী ও পড়ায় ফাকি দেওয়ার কারণে দেলোয়ার স্যার, অমল স্যার, অজিত স্যার, এমনকি প্রধান শিক্ষক বি.সি বিশ্বাস স্যারের হাতে প্রচুর মার খেয়েছি। আর বুঝেছি পিতাসম সেই স্যারদের শাসনে প্রচুর ভালোবাসা ছিল। আজো খুব মিস করি সেই শাসন। এখনো স্যারদের সাথে দেখা হলে, সেই শাসন পেতে ইচ্ছে করে।

আমার স্বচক্ষে দেখা অনেক সহপাঠী শিক্ষকের গায়ে হাত তুলেছে, অনেক অভিভাবক সন্তানকে শাসন করায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানান ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু অদৃষ্টের পরিহাস এই যে, সেই সন্তানগুলো কেউই পরে আর পড়ালেখার গণ্ডি পার করতে পারেনি, জীবনে বড় হতে পারেনি, অমানুষই রয়ে গেছে।

এমনটাই হবে। কারণ পিতা-মাতা সম শিক্ষককে অপমান করে কেউ বড় হতে পারে না। তার উপর স্রষ্টার অভিশাপ নেমে আসে।

আজ যে ছাত্র ও তার পরিবার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং যারা এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নৈতিকতা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

(লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া)

/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত