ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫ অাপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৩২

প্রিন্ট

ভয়াবহ পাঠাও রাইড এক্সপেরিয়েন্স

ভয়াবহ পাঠাও রাইড এক্সপেরিয়েন্স
জার্নাল ডেস্ক

বিকাল ৪.৫০। যাবো কাজীপাড়া থেকে নীলক্ষেত। পাঠাও কোম্পানী মাঝে দিয়ে আমাকে হতাশ করলেও রিসেন্টলি চট্টগ্রামে শিফট হওয়ার পর আমার প্রতি তাদের ভালোবাসা উপচে পরেছে। প্রতিদিন সকালে ডিসকাউন্ট, কিন্তু বাংলাদেশ মেরিন একাডেমীর পাহাড়ের মাঝে সেই ডিসকাউন্ট আমার ঘুমের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই করে না।

যাই হোক, ৫০% ডিসকাউন্ট ছিল! এক রাইডার আসলো, ধরি তার নাম সম্রাট আকবর। উনি আমাকে নিয়ে চলার শুরুতেই বুঝে গেলাম, নতুন পাবলিক, এখনো গিয়ার শিফটিং ঠিকমতো পারে না। পা এর ব্রেক ইউজ করতে পারে না, স্পিড কমিয়ে ব্যালান্স রাখতে পারে না, রানিং এ ও দুই পা নামিয়ে দেয় এক সাথে। শুধু হ্যান্ড ব্রেক দিয়ে ধরে একটা কার এর পিছনে লাগিয়ে দিলো। একটু পর পুলিশ এর হাতে মামলা খেল।

আমি তাকে বললাম, ভাই আস্তে ধীরে যান, কোন অসুবিধা নাই। কিন্তু ধানমন্ডি রোডে উঠে তার চালানো দেখে মনে হয়েছে, এমন দয়ার হাতেম তায়ী না হয়ে নেমে যাওয়াই ভালো ছিল। কোনমতে সাইন্সল্যাব আসার পর বললাম, ভাই নেমে যাই। অলরেডী কয়েকটা রিকশা আমার পা কে কিস কর গেছে, হাটু হারাতে চাই না! থাম্বস ডাউন। আজ যদি নতুন/নবিস একজন ইউজার উঠতো, এই লোক কয়েকবার ব্যালনেস হারিয়ে আছাড় খেত।

এরপর হেটে নীলক্ষেত গেলাম। কাজ শেরে আবার রাইড রিকোয়েস্ট দিলাম। এক ভাই একসেপ্ট করলো, ধরি উনার নাম মিনহাজুল আবেদিন। উনি আমাকে নীলক্ষেত মোড় থেকে পিক আপ করে সাইন্সল্যাব পর্যন্ত গেলেন। জ্যাম এ বসে উনার বন্ধুকে ফোন দিলেন। বন্ধুর সাথে কথা বলে উনার মনে হলো, এখন রাইড না দিয়ে আড্ডা দিলেই ভালো হতো। আমাকে বললো, আপনি আরেকটা রিকোয়েস্ট দিন, আমি যেতে পারবো না।

কি সুন্দর প্রফেশনালিজম!!! কথা না বাড়িয়ে নেমে গেলাম। ভদ্রতা বলতে উনি এই পর্যন্ত আসা আমার ২৫ টাকা ভাড়া মাফ করে দিলেন। কিন্তু সাথে সাথে আমার ৫০% প্রোমোটাও খেয়ে দিলেন।***থাম্বস ডাউন।

এরপর সাইন্সল্যাব থেকে রিকোয়েস্ট দিলাম, হ্যাপী আর্কএড এর পাশ থেকে এক ভাই রিকোয়েস্ট একস্পেট করলেন। আমি উনাকে দাঁড়াতে বলে আমিই গেলাম সেখানে যেহেতু ঐদিকেই যাবো। সুন্দর বাইক, ২ জনই আমরা আল্লাহর বিশেষ রহমত প্রাপ্ত বান্দা হওয়ায় একটু চাপাচপি হয়ে গেল। ***থাম্বস আপ!

ফার্মগেট থেকে শামীম স্মরণী যাবো, কাছেই রাইডার বসা ছিল। যাওয়ার পথে মনে হলো, একেবারে মিরপুর ১০ চলে যাই। ডেস্টিনেশান চেঞ্জ করা যাচ্ছিলো না। উনাকে বলতেই উনি না করলেন। বললো, এখন ১০ নাম্বার গেলে ও উনার ভাড়া শামীম স্মরণীরই পাবেন। কি আর করা, শামীম স্মরনীই নেমে গেলাম। **থাম্বস আপ।

শামীম স্মরনী থেকে যাবো মিরপুর ১৩। মেইনরোডই সবচেয়ে ভালো পথ। স্বপ্নের সামনে দাঁড়িয়ে রিকোয়েস্ট দিলেম, রাইডার ভাই রাস্তার ঠিক উল্টাপাশে। বললাম, ইউটার্ন নিয়ে আসেন, আমরা এইদিক দিয়ে যাবো। উনি আমাকে বললেন, রাস্তার পার হয়ে উনার কাছে যেতে, উনি ভিতর দিয়ে যাবেন (অনেক ঘোরা হবে এবং জঘণ্য রাস্তা)। উনি এই পাশে আসতে পারবেন না। পরে বললাম, ঠিক আছে, আপনি আসতে না পারলে আমি ক্যান্সেল করে দিছি, আপনি না গেলে অন্য কোন ভাই যাবে। বলে ফোন কেটে দিলাম। আবার ফোন দিয়ে বললো, ভাই রাগ কইরেন না, হেন তেন। বললাম রাগের কিছু নাই। আপনি সার্ভিস দিতে না পারলে সেটা আপনার ব্যাপার। আপনার সার্ভিস আমি নিবো কিনা সেটা আমার ব্যাপার। পরে উনি ঘুরে আসলেন। রাস্তায় এক বাসকে থামিয়ে আছে তাই গালিগালাজ করলেন। কিছু বলা ও যাচ্ছে না, আবার সওয়া ও যাচ্ছে না।***থাম্বস ডাউন

২ আর ৫ নাম্বার টাইপ রাইডার নিয়ে পাঠাও থাকুক, এত সমস্যা নাই, কিন্তু ১ নাম্বার আনাড়ী ড্রাইভারদের পাঠাও রাইডার বানালে পাঠাও এর ভবিষ্যত অন্ধকার!

-Zobaer Ahmed Zobs এর ফেসবুক থেকে নেয়া।

এসআইএস/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত