ঢাকা, রবিবার, ২০ মে ২০১৮, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ অাপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৮, ১২:৪৬

প্রিন্ট

‘দৈত্যের মতো না খেয়ে খাবারগুলো অসহায়দের মুখে তুলে দিন’

‘দৈত্যের মতো না খেয়ে খাবারগুলো অসহায়দের মুখে তুলে দিন’
জার্নাল ডেস্ক

রমজান মাস চলেই এলো। এ মাসে অনেকের কাছেই ইফতার মানে খাবারের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়া, সেহরি মানে রাজ্যের যত ব্যয়বহুল খাবার আছে, যতটা বেশী সম্ভব খেয়ে ফেলা। 

ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়ার প্রতিযোগিতা চলতে থাকে। বদহজম হলে হোক। খাইতে হবে। রোজা রাখলেও খেতে হবে, না রাখলেও খেতে হবে।

আস্ত একটা খাসীর কাবাব মুড়ি, চিড়া কিংবা নান-রুটি দিয়ে খেতেই হবে। দুই/চারটা পোড়া মুরগী আর খাসী কিংবা গরুর মাংসের একবাটি হালিম না হলে ইফতার জমে নাকি? জিলাপি হতে হবে ঘিয়েভাজা শাহী। আহা সারাদিন খায়নি বেচারা! খেজুর তো ১২০০ টাকা কেজি দরেরটাই কিনতে হবে। আলুর চপ, বেগুনী, ডিম-চপ, ছোলা-বুট, পিঁয়াজু, পাকোড়া আরো কত কি! এসব না হলে সেটাকে আবার ইফতার বলে নাকি? শরবত তো কতভাবে সুস্বাদু করা যায় সেই চেষ্টা চলে ইফতারের দুঘণ্টা আগে থেকে। ওহো কি যেন খাবার আছে, বড় বাপের পোলায় খায়। এক কেজির দাম প্রায় ৬০০ টাকা! আরো কত রকমের বাহারি সব এক্সপেন্সিভ ইফতার দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখে যে সেগুলোর নামও জানি না। কর্পোরেট ইফতার পার্টি হলে তো কথাই নাই। নাক ডুবিয়ে খেতে পারবেন। বাসায় ফেরার সময় অবশ্যই হজমের ওষুধ নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে।

আর সেহরির কথা আর কি বলবো। একটু ভালমন্দ না হলে কি অত রাতে মুখে খাবার ওঠে? গেলা যায়? আম-দুধ কিংবা দুধ-কলা তো থাকতেই হবে। এখন তো আবার সেহরি পার্টি হয়!! সবাই সাজুগুজু করে সেই শেষ রাতের পার্টিতে যায়। আহা, একটা সেলফি তুলে আপলোড না দিলে তো জাত যায়!

সিয়াম বা রোজা যাই বলি না কেন, সংযমটাই এর মূল কথা। কিন্তু এরই নাম সংযম ? ইবাদত?

আল্লাহ্‌র নবী (সা:) সেহরি এবং ইফতারে কখনোই ভারি খাবার খেতেন না।

রমজান মাসে এভাবে নিজে দৈত্যের মতো না খেয়ে সেই খাবারগুলো একটু অন্যের মুখে তুলে দেয়ার চেষ্টা করি। আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘুরে বেড়ালেও এই রমজানে দু'টো খেজুর আর সামান্য খাবারের জন্য সন্ধ্যাবেলা বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানো অসহায় মানুষের অভাব হবে না।

নিজের পাকস্থলী সুস্থ রাখুন, অভুক্ত পাকস্থালীতে খাবারের ব্যবস্থা করুন।

(টুটুল জহিরুল ইসলামের ফেসবুক থেকে নেয়া)

এনএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত