ঢাকা, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৫ অাপডেট : ৪৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:৪৫

প্রিন্ট

চাঙাভাব ফিরেছে পুঁজিবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত মুদ্রানীতি নিয়ে টানা কয়েক দিন মন্দা কাটানোর পর সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার দুই পুঁজিবাজারেই মূল্যসূচক বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। সেইসঙ্গে বেড়েছে লেনদেন। চীনের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অংশীদার হওয়ার খবরে এই চাঙাভাব বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১২৮ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১৫ শতাংশ। আর অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪০০ পয়েন্টের মতো। রোববারের বাজার বিশ্লেষণ করে ডিএসইর সাবেক সভাপতি এবং ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান জানান, শনিবার ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় চীনের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামকে অংশীদার হিসেবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর্থিক ও কারিগরি দিক বিবেচনা করে শেনচেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবকেই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। আমরা সর্বসম্মতিক্রমে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। আর এই খবরেই বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে মনে করছেন এই বাজার বিশ্লেষক। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাবে এবং প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। আর স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে স্থানীয় বিনিয়োগও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

চীনা কনসোর্টিয়াম ৯৯০ কোটি টাকায় ডিএসইর ৪৫ কোটি বা ২৫ শতাংশ শেয়ার (প্রতিটি ২২ টাকা দরে) কিনে নেওয়ার প্রস্তাব করেছে। সেই সঙ্গে ডিএসইর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৩০০ কোটিরও বেশি টাকা (৩৭ মিলিয়ন ডলার) খরচ করবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে তারা। চীনের প্রধান তিনটি স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে সাংহাই ও শেনচেন রয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে। বাজার মূলধনের দিক থেকে বিশ্বের সেরা ১০টি স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাতেও রয়েছে তারা।

সাংহাই স্টক একচেঞ্জের বাজার মূলধন সাড়ে তিন ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। শেনচেন স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন দুই দশমিক দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। অপরদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন ৫১ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, রোববার ডিএসইতে ৪৫৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা বেশি। গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩০০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। রোববার ডিএসইতে ৩৩৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ২৯৩টির, কমেছে মাত্র ২৭টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টি কোম্পানির দর। ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্য সূচক ১২৮ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৯৩ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ৪১২ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ২৫৫ পয়েন্টে।

অন্যদিকে সিএসইতে ২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৯৫ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৮ হাজার ৮২৪ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ২৪৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৪৬টির, কমেছে ১৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টির দর।

এসআইএস/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত