ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪ অাপডেট : ২৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৪৬

প্রিন্ট

প্রবাসী নারী কর্মীরা অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে

আতাউর রহমান

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত ৬ লাখ ৭৪ হাজার ২১১ জন প্রবাসী নারী কর্মী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখছে। বিদেশে বাংলাদেশের নারী কর্মীদের কাজের দক্ষতার কারণে অনেক দেশই অধিক সংখ্যক নারী কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছে। 

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে প্রবাসী নারী কর্মীরা যাতে আরো অবদান রাখতে পারে সেই লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ লাখ ১৩৬ জন নারী কর্মী গমন করেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক, ৬৬ হাজার ৭৭৩ জন নারী কর্মী গেছেন সৌদি আরবে। এছাড়া জর্ডানে ১৭ হাজার ৪৮০ জন, ওমানে ৭ হাজার ৮৭৯ জন নারী কর্মী গেছেন বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। 

গত বছর ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৮ জন নারী কর্মী বিদেশে যান। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ২১১ জন নারী কর্মী কাজ করছেন। বিশেষ করে পোষাক শিল্পে ও গৃহকর্মে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের নারী কর্মীরা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রেরণ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখছেন। 

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ জাপান, রাশিয়া, মরিশাস, অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপ, হংকংসহ আরো কয়েকটি দেশে আরো নারী কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব দেশ বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মীসহ দক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মী নেয়ার ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রেখা সাহা জানান, ২০১৬ সালে অভিবাসী শ্রমিকরা ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি আয় করেছে। 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নমিতা হালদার জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের নারী কর্মী নেয়ার ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে জাপানের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল জাপান সফর করেছেন। নারী কর্মী প্রেরণ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশও সফর করছেন।

নমিতা হালদার বলেন, পোশাক কারখানায় দক্ষ নারী কর্মী এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে গৃহকর্মী প্রেরণের আগে তাদের ৩৪টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিশেষ ভাষা জ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের বাইরেও বাংলাদেশের নারী কর্মী প্রেরণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

নারীর মানবাধিকার দলিল 

সিডও-অভিবাসী নারী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সৌদি আরবে নির্যাতিত বা প্রতারণার শিকার নারী কর্মীদের জন্য দূতাবাস বিশেষ আশ্রয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। অধিকাংশ দেশই বাংলাদেশের নারী কর্মীদের কাজের বিশেষ মর্যাদা ও মূল্যায়ন করে থাকে। বিদেশ থেকে ফেরত আসা প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। 

এদিকে, সৌদি আরব সরকার অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগের সময় সীমা বৃদ্ধি করে জানায় সৌদি আরবে অবৈধ অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগ করলে তারা পুনরায় সেদেশে বৈধভাবে যাওয়ার বিশেষ সুবিধা পাবেন।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসীদের বৈধকরণে রিহায়ারিং ও কর্মী প্রেরণ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা আরো জোরদার করার জন্য নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বর্তমান ধারা অব্যাহত রেখে ২০১৭ সালে ৮ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে প্রেরণ করার যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল ইতোমধ্যে তা ছাড়িয়ে গেছে। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আরো অধিক পরিমাণ কর্মী প্রেরণ করার জন্য সরকার কুটনতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় আট লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক বৈধভাবে কাজ করছে। মালয়েশিয়া সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশের ২ লাখ ৬০ হাজার অবৈধ শ্রমিককে রিহায়ারিং কোটায় বৈধতা দিয়েছে বলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সরকার দেশের বিমান বন্দরসমূহে অবৈধভাবে কর্মী গমন রোধে মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট টাস্কফোর্সের কার্যক্রম জোরদার করেছে। 

আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় রিহায়ারিং করার মাধ্যমে বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসীদের বৈধকরণ করা যাবে।

সূত্র: বাসস

/এসবি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত