ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫ অাপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৫৪

প্রিন্ট

আলোচিত সমালোচিত উইনি ম্যান্ডেলা

আলোচিত সমালোচিত উইনি ম্যান্ডেলা
অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং সাবেক ফার্ষ্টলেডি উইনি মাদিকিজেলা-ম্যান্ডেলা আর নেই। সোমবার ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি।

উইনি ম্যান্ডেলার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী নেতা এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সাবেক স্ত্রী। তবে এটিই তার একমাত্র পরিচয় নয়। মানবাধিকার, বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং নারী অধিকার নিয়েও তিনি অক্লান্তভাবে কাজ করে গেছেন।

ম্যান্ডেলার বর্ণবাদ বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে তার অবদান অপরিসীম। নেলসন ম্যান্ডেলা জেলে যাবার পর উইনি একাই তার বর্ণবাদ বিরোধী লড়াই চালিয়ে যান। পরে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে তিনি নিজেও কারাবন্দী হয়েছিলেন এবং প্রায় তিন দশক ধরে তারা ছিলেন বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক। তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তি। দেশটির বহু মানুষের কাছে তিনি ছিলেন 'জাতির মাতা'।

১৯৩৬ সালে আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ শহরে উইনির জন্ম। তিনি ছিলেন একজন প্রশিক্ষিত সমাজসেবী এবং এ কাজের সূত্রেই ১৯৫০ সালে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে তার বিয়ে ৩৮ বছর টিকে ছিল। যদিও নেলসন ম্যান্ডেলার দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তাদের দাম্পত্যের বড় সময়টিই তার পরস্পরের থেকে দূরে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

নেলসন ম্যান্ডেলা যখন জেলে যান উইনি তখন একাই বর্ণবাদ বিরোধী লড়াই চালিয়ে যান। নেলসন ম্যান্ডেলার যেদিন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ হয়, সেদিন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে উইনি বলেছিলেন, ‘আমার এবং আমাদের কারোই কখনো আশা ছাড়া উচিত হবেনা। আসলে আমি মনে করি এ আন্দোলন চলতেই থাকবে।’

যদিও পরে নিজের এই সুনাম ধরে রাখতে ব্যর্থ হন উইনি। পরবর্তীতে নানা আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় উইনির সে সুনাম অনেকটাই ক্ষুন্ন হয়েছে। নানারকম স্ক্যান্ডাল ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এই সাহসী নারী। তার অনেক বক্তব্য নিয়েই বিতর্ক আছে।

যেমন, নেকলেসিং নামে এক চর্চার তিনি প্রশংসা করেছিলেন বলে শোনা যায়, যে প্রথায় সন্দেহভাজন তথ্য পাচারকারীর গলায় জ্বলন্ত টায়ার ঝুলিয়ে দেয়া হত। এছাড়া আশির দশকে এএনসির অন্য সদস্যদের নিয়ে তিনি সোয়েতোর এক অংশে ত্রাসের রাজত্ব কয়েক করেছিলেন বলেও রটনা রয়েছে। ১৯৯১ সালে অপহরণের দায়ে তার সাজা হয় এবং ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।

আপিলের পরে সে দণ্ড কমিয়ে তাকে জরিমানা করা হয়। ২০০৩ সালে ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে তার সাজা হয়।

কিন্তু এসবের পরেও তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর ভাবা হয়। কেননা তিনি সব সময় গরীব কালো দক্ষিণ আফ্রিকানদের জন্য কথা বলেছেন। তিনি সবসময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকে গেছেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এএনসির একজন সংসদ সদস্য ছিলেন।

দীর্ঘ জীবনের সঙ্গী নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে উইনি

সূত্র: বিবিসি

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত