ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ অাপডেট : ৩৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৫০

প্রিন্ট

পেন্সিল আর্টের সম্ভাবনাময়ী তরুণ আহমেদ গ্রীন

কামরুল ইসলাম

শুধুমাত্র পেন্সিলের আঁচড়ে আস্ত একটা মানুষের প্রতিকৃতি এঁকে ফেলা নিঃসন্দেহে অনেক কঠিন কাজ। কিন্তু এই কঠিন কাজটিকেই অবলীলায় করে ফেলেন আহমেদ গ্রীন। শখের বসে প্রিয় মানুষদের প্রতিকৃতি আঁকতে শুরু করা এই তরুণ এরই মধ্যে এঁকে ফেলেছেন অনেক বিখ্যাত মানুষের স্কেচ। সুনিপুণভাবে মানুষের অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে দারুণ পারদর্শী গ্রীন। 

গ্রীন জানান, এরই মধ্যে তিনি প্রায় দেড়শ’র বেশি স্কেচ করেছেন। এর অধিকাংশই এঁকেছেন পেন্সিল দিয়ে। কিছু কিছু স্কেচ আবার কলম দিয়েও এঁকেছেন। অবাক করা ব্যাপার হলো, স্কেচ আঁকা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শেখেননি গ্রীন, সম্পূর্ণ নিজে থেকেই এই অসাধারণ প্রতিভা নিজের মধ্যে ধারণ করেছেন তিনি।

 
 
গ্রীনের পেন্সিলের আঁচড়ে উঠে এসেছে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ, হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, অভিনেত্রী কেট উইন্সলেট, বাংলাদেশের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, অমর নায়ক সালমান শাহ, তাহসান, নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ান, অভিনেতা অপূর্ব এবং রাজনীতিবিদ জুনায়েদ আহমেদ পলকের মতো বিখ্যাত মানুষজনের অবয়ব। 

গ্রীনের আঁকা এসব স্কেচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দারুণ প্রশংসিত। এর সুবাদে গ্রীনের অনেক ভক্তও তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, তার আঁকা স্কেচগুলো অনেক বড় বড় তারকারা নিজেদের প্রোফাইলে শেয়ার করে সাধুবাদ জানিয়েছেন আহমেদ গ্রীনকে।

 

ভালো লাগার জায়গা থেকেই প্রিয় মানুষদের প্রতিকৃতি এঁকে থাকেন আহমেদ গ্রীন। পরিশ্রমের মূল্য হিসেবে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোকেই বেছে নেন তিনি। তার আঁকা স্কেচ যখন কারোর মুখে হাসি ফোটায়, কাউকে মুগ্ধ করে, তখন গ্রীন নিজের পরিশ্রমকে সার্থক মনে করেন। গ্রীনের ভাষ্যে, আমি সবসময় মানুষকে হাসিখুশি দেখতে চাই। এর জন্য কলেজ জীবন থেকেই লেখালেখি করি। লেখার মাধ্যমে মানুষকে উৎসাহ দিতে চেষ্টা করি। একজন মানুষও যদি আমার লেখায় অনুপ্রাণিত হয়, তাতেই আমার চেষ্টা সার্থক। এরপর অনার্সে ওঠার পর থেকেই মূলত স্কেচ আঁকা শুরু করি। এ পর্যন্ত যাদের স্কেচ এঁকেছি, তাদের কাছে সেগুলো পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব না, সেগুলো ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষকে দেখিয়েছি। সবাই যখন মুগ্ধতা প্রকাশ করে আমার আঁকা স্কেচগুলোর প্রতি, তখন খুব ভালো লাগে।

ছোট বেলা থেকেই আহমেদ গ্রীন তার হাতের লেখার জন্য প্রশংসিত। তার অসাধারণ হাতের লেখা দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠতে পারে। মনে হবে, এটা কম্পিউটারের কোনো আলাদা ফন্টের লেখা। গ্রীন বলেন, আসলে আমি সবসময় চেয়েছি সুন্দর কিছু সৃষ্টি করতে। সেই ভাবনা থেকেই সুন্দর লেখার চেষ্টা। এর জন্য স্কুল-কলেজে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বন্ধু-বান্ধবের কাছে অনেক প্রশংসা পেতাম।

  

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করা আহমেদ গ্রীন বলেন, ভবিষ্যতে আর যাই করি না কেন, লেখালেখি এবং আঁকাআঁকির কাজ চালিয়ে যাবো। আর নাটকের স্ক্রিপ্ট লেখার প্রতি আমার আগ্রহ রয়েছে। এই কাজটি করতে চাই। পাশাপাশি দেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের জন্য একটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে আমার। শুধুমাত্র নিজেকে নিয়ে নয়, অন্য মানুষদের ভালো থাকা নিয়েও ভাবতে ভালো লাগে আমার। প্রত্যেকটা মানুষ যেন ভালো এবং হাসিখুশি থাকে, এটাই আমার প্রত্যাশা। 

কেআই/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত