ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪ অাপডেট : ২১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৭:২৬

প্রিন্ট

চলন্ত বাসে ধর্ষণ ঠেকানো ‘পাঠাও চালকের’ গল্প

অনলাইন ডেস্ক

মোবাইল অ্যাপে মোটরবাইক ও গাড়ি শেয়ারিং সেবা ‘পাঠাও’ ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। দিন দিন বেড়ে চলছে এর চাহিদা। এছাড়া পাঠাওয়ের চালক হয়ে বাড়তি উপার্জন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী অনেকেই। তাদের মধ্যেই একজন হলেন আল মামুন সোহাগ। 

ফেসবুক এবং ব্লগে নিধিরাম সর্দ্দার হিসেবেই বেশি পরিচিত তিনি। নড়াইলে বেড়ে উঠা এই যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন।

পাঠাওয়ের সাথে সম্পৃক্ত কীভাবে হলেন, এতে কাজ করে তার অভিজ্ঞতা কেমন, সেসব বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে নানা কথা জানালেন আল মামুন সোহাগ।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করে প্রতিদিন খরচ বাদে গড়ে ৫০০ টাকা আয় হয়। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সময় দেন তিনি। এখন পর্যন্ত তার রাইড সংখ্যা ৮ শতাধিক।

পাঠাও চালক হিসেবে ইতোমধ্যে তার হয়েছে নানা রকমের অভিজ্ঞতা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আল মামুন সোহাগ বলেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজধানীতে চলন্ত গাড়ির ভেতর ধর্ষণের শিকার হতে যাওয়া একজন নারীকে বাঁচাতে পেরেছেন তিনি। কারণ পাঠাও ব্যবহার না করলে এটা সম্ভব হতো না। কেননা পাঠাও-এর চালক না হলে হয়তো ওই মুহূর্তে আমি সেখানে থাকতাম না।

ঘটনার বিস্তারিত জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, নভেম্বরের ৮ তারিখ। রাত আনুমানিক দশটা। নীলক্ষেত থেকে আমার কাছ থেকে পাঠাও রাইড নিয়েছেন মফিজুর নামের এক ব্যক্তি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সিনিয়র ছিলেন। এখন একটি মন্ত্রণালয়ে চাকরি করছেন। ওনাকে টেকনিক্যাল মোড় হয়ে সনি সিনেমা হলের সামনে নামিয়ে আমি বাসায় যাবো। আমাদের বাইক টেকনিক্যাল মোড় পার হওয়ার পর পাশ দিয়ে একটি বাস যায়। এ সময় বাসের ভেতর এক নারীর চিৎকার শুনতে পাই। তখন মফিজুর ভাই বললেন, বাসের সামনে গিয়ে বাইক থামান। কোনো ঝামেলা মনে হচ্ছে। অনেক কষ্টে বাসের সামনে দাঁড়ালাম, কারণ চালক গাড়ি থামাচ্ছিল না।

আল মামুন সোহাগ বলেন, চলন্ত বাসের ভেতর ওই নারীর চিৎকারে আমরা একটু থমকালাম। মফিজুর ভাই বললেন, এই ড্রাইভার, কী সমস্যা? বাস থামাও।

তারা বললো, জামাই-বউ বাসে উঠে ঝামেলা করতেছে। আপনারা এর মধ্যে আইসেন না। একথা বলে আমাদের বাইক পাশ কাটিয়ে বাস টান দিয়ে চলে গেল। আমি প্রায় পড়েই যাচ্ছিলাম। সন্দেহ বেড়ে গেল। বাসের পিছু নিলাম। এর মধ্যে আরেকটি লেগুনার লোকজনও এ ঘটনা খেয়াল করেছে। ওই লেগুনাটি বাসের সামনে গিয়ে ব্রেক করলো। আমিও সেখানে ব্রেক করলাম। বাসের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করা। সব লোকজন মিল বাসের দরজা ধাক্কাধাক্কি করতে লাগলাম। এই ঘটনা দেখে বাইক নিয়ে দুজন পুলিশ চলে আসে। ড্রাইভার দরজা খুলতে না চাইলে এবার পুলিশ ওই মেয়েটিকে জানালার কাছে আসতে বললো। 

আমি জিজ্ঞেস করলাম, বাসের মধ্যে কি আপনার স্বামী আছে? তিনি বললেন, না। আপনারা আগে দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এবার পুলিশ ওই চালকের উপর রেগে গেল। তিনি জোর করে বাসে উঠে  পড়লেন। ড্রাইভারকে বললেন সামনে যেতে।

আল মামুন বলেন, আমরা উপস্থিত জনতা একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। হয়তো বড় কোনো দুর্ঘটনা থেকে একটি মেয়ে প্রাণে বেঁচে গেল আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগে। 

এ ঘটনার পর আল মামুন সোহাগকে ‘হিরোজ অব পাঠাও’ ঘোষণা করেছে অ্যাপভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান।

জেডএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত