ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:০০

প্রিন্ট

এই শীতে বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই গোয়ালঘরে

এই শীতে বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই গোয়ালঘরে
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

তীব্র শীতের মধ্যে ৮০ বছর বয়েসি এক মায়ের আশ্রয় হয়েছে গোয়ালঘরে। পুলিশ এ ঘটনায় ২ ছেলেকে আটক করেছে। এই হতভাগা মায়ের নাম হাজেরা বেগম। ঘটনাটি ময়মনসিংহের গফরগাঁও ইউনিয়নের উথুরী গ্রামের।

স্থানীয় যুবক কাউসার খান রোববার সকালে একটি কম্বল দিতে গিয়ে গোয়ালঘরের মেঝেতে হাজেরা বেগমকে শুয়ে থাকতে দেখে প্রতিবাদ করেন। পরে হাজেরা বেগমের ছেলে আব্দুস সাত্তার 'আমার মাকে যেখানে খুশি রাখব তাতে তোর কি' বলে অপমান করে।

পরে খবর পেয়ে গফরগাঁও থানার এসআই নাজিম উদ্দিন হাজেরা বেগমের দুই ছেলে আব্দুস সাত্তার ও উজ্জলকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

জানা যায়, উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের রেসমত আলী প্রায় ১৬ বছর আগে মারা যাওয়ার সময় ১২ কাঠা জমি স্ত্রী হাজেরা বেগমকে লিখে দিয়ে যান। স্বামী মারা যাওয়ার পর চার ছেলে কিছুদিন হাজেরা বেগমকে ভরণ-পোষণ করেন। পরে গোপনে ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম হাজেরা বেগমের কাছ থেকে জমি লিখে নেন।

এ খবর পেয়ে অন্য ছেলেরা হাজেরা বেগমের খোঁজ-খবর নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় হাজেরা বেগম ছোট ছেলে সাইফুলের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু জমি লিখে নেওয়ার পর থেকে ছোট ছেলে সাইফুলও মায়ের সেবা-যত্নের প্রতি উদাসীন ও অবহেলা করতে থাকে।

তিনবেলার মধ্যে একবেলা খাবার দেয়। কখনো হাজেরা বেগম ক্ষুধায় কাতরালেও খাবার না দিয়ে উল্টো বকা-ঝকা ও মারধর করতো সাইফুল আর তার স্ত্রী। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার হলেও ছেলেদের মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

গত বছরের মে মাসে একদিন হাজেরা বেগম ভাতের জন্য 'বাবারে কয়ডা ভাত দে, আর যে পারি না, জানডা বারইয়া যাইতাছে' বলে কান্নাকাটি শুরু করলে ছোট ছেলে সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে বৃদ্ধা চলৎশক্তিহীন হাজেরা বেগমকে বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। এভাবে টানা তিন দিন হাজেরা বেগম পড়ে ছিলেন।

পরে স্থানীয় লোকজন হাজেরা বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গফরগাঁও থানার আগের ওসি আব্দুল আহাদ খান হাজেরা বেগমের ছেলেদের আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে ছেলেরা মায়ের অযত্ন-অবহেলার কথা স্বীকার করে মায়ের সেবা-যত্ন করার মুচলেকা দেন।

সেদিন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে হাজেরা বেগমকে বাড়ি নিয়ে যায় ছেলেরা। পরে হাজেরা বেগমের চার ছেলে আলোচনা করে তিন মাস করে মায়ের খাওয়া-দাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা করে।

সর্বশেষ হাজেরা বেগমের আশ্রয় হয় বড় ছেলে আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে। কিন্তু কনকনে শীতের মধ্যে মাকে বসতঘরে না রেখে গোয়ালঘরে গরুর সাথে ভেজা থকথকে মেঝেতে খড় বিছিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে সাত্তার।

এ অবস্থায় স্থানীয় যুবক কাউসার খান বৃদ্ধা হাজেরা বেগমকে একটি কম্বল দিতে গিয়ে প্রতিবাদ করলে হাজেরা বেগমের ছেলে আব্দুস সাত্তার উল্টো গরু চুরির অপবাদ দিয়ে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়।

স্থানীয় যুবক কাউসার খান বলেন, অসহায় বৃদ্ধা হাজেরা বেগমকে একটি কম্বল দিতে গিয়ে তাকে গোয়ালঘরে দেখে ছেলে আব্দুস সাত্তারকে জিজ্ঞাসা করতেই সে আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে 'আমার মাকে যেখানে খুশি রাখব, তাতে তোর কি' বলেই আমাকে উল্টো গরু চুরির অপবাদ দিয়ে অপমান করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুখলেছুর রহমান বলেন, আমার এলাকার ভাতিজা কাউসার খান হাজেরা বেগমকে কম্বল দিতে গিয়ে প্রতিবাদ করায় আব্দুস সাত্তার তাকে উল্টো অপবাদ-অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছে।

গফরগাঁও থানার ওসি অনুকূল সরকার বলেন, খবর পেয়ে এসআই নাজিম উদ্দিনকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত